“মিনিষ্ট্রি ওয়াচ” - ওয়েবসাইট পরিচিতি

Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
God did not give us a spirit of fear.
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 08 মার্চ 2012
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

প্রিয় পাঠক, আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব একটি ওয়েবসাইটের সাথে। ওয়েবসাইটের নাম “মিনিষ্ট্রি ওয়াচ” www.ministrywatch.com । ওয়েবসাইটটি মূলত পৃথিবীর প্রায় সব আন্তর্জাতিক মিনিষ্ট্রিগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং প্রতি বছর ৩০টি এমন মিনিষ্ট্রির নাম প্রকাশ করে যারা প্রভুর জন্য সারা বছরে প্রচুর কাজ করেছে।তারা বিশ্বাস করে যে, এতে সেই সব মিনিষ্ট্রিগুলো উৎসাহিত হবে এবং প্রভুর জন্য আরও অনেক কাজ করে। এই ৩০টি মিনিষ্ট্রি সম্পর্কে তারা কিছু বিস্তারিত তথ্য এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে যেন লোকে এতে উৎসাহিত হয়ে ওই সব মিনিষ্ট্রিকে ডোনেট করতে পারে। “মিনিষ্ট্রি ওয়াচ” এই ৩০টি মিনিষ্ট্রির তালিকাকে “সাইনিং লাইট মিনিষ্ট্রি” বলে। নিচে ২০১১ সালের সাইনিং লাইট মিনিষ্ট্রির তালিকা প্রকাশ করা হলোঃ
এ্যাঞ্জেল মিনিষ্ট্রিস
অডিও স্ক্রিপচার মিনিষ্ট্রিস
আওয়ানা
ব্লেসিং ইন্টারন্যাশনাল
ব্রিজেস অফ পিস
ব্রাইট হোপ ইন্টারন্যাশনাল
ক্যাডেন্স ইন্টারন্যাশনাল
কেয়ার নেট
চিল্ড্রেন’স হাঙ্গার ফান্ড
চিল্ড্রেন’স মেডিকেল মিনিষ্ট্রিস
খ্রীষ্টিয়ান ব্লাইন্ড মিনিষ্ট্রিস
খ্রীষ্টিয়ান লিগাল সোসাইটি
কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল
ক্রাউন ফিনান্সিয়াল মিনিষ্ট্রিস
ইভানটেল
ফেলোশিপ ইন্টারন্যাশনাল মিশন
ফ্রি হুইলচেয়ার মিশন
গিদিয়োনস ইন্টারন্যাশনাল
ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন
জারস
কিংসওয়ে চ্যারিটিস
লাইফ সেন্টারস
মেডিকেল টিমস ইন্টারন্যাশনাল
মিলিটারী কমিউনিটি ইউথ মিনিষ্ট্রিস
মিরাকেল হিল মিনিষ্ট্রিস
রন হাচক্রাফ্ট মিনিষ্ট্রিস
ট্রুথ ফর লাইফ
ভিলেজ মিনিষ্ট্রিস
দা ভয়েজ অফ দা মির্টারস
ইয়াং লাইফ

এছাড়াও মিনিষ্ট্রি ওয়াচ আরও ৩০টি মিনিষ্ট্রির তালিকা প্রকাশ করে যাদের তারা “ডোনার এলার্ট” তালিকা বলে। যে সমস্ত মিনিষ্ট্রি এমন কিছু কার্যক্রম করে যা প্রশ্ন তোলার মত, যেমনঃ ট্যাক্স ফাকি, স্থানীয় আইন অমান্য করা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অতি উচ্চ বেতন, ভ্রান্ত বা কাল্ট বিশ্বাস ইত্যাদি। তাই এই সব মিনিষ্ট্রিগুলোকে ডোনেশন করার আগে প্রার্থনা-পূর্বক সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। নিচে ২০১১ সালের মিনিষ্ট্রি এলার্ট তালিকা দেয়া হলোঃ
বেনি হিন
বাইবেল প্রোফেসি কর্নার/মার্লিন জে. এজি
বোয়াজ ফাউন্ডেশন
ক্রাইষ্ট টেম্পেল ব্রেকিং ফ্রি মিনিষ্ট্রি
খ্রীষ্টিয়ান ক্রেডিট কাউন্সেলর্স ইন্টারন্যাশনাল
ক্রেফ্টো ডলার মিনিষ্ট্রিস
ডেভিড কেরুল্লো/ইন্সিরেশনাল নেটওয়ার্ক
ইবাইবেল ফেলোশিপ / ক্রাইষ্ট ম্যাক্কেন
এভার ইনক্রিজিং ফেইথ মিনিষ্ট্রিস
ফ্যামেলী কেয়ার ফাউন্ডেশন
জেন্টেল টাচ মিনিষ্ট্রিস
জিনা ক্লার্ক/চাচ্ড বাই এঞ্জেলস
হেরল্ড ক্যাম্পিং/ফ্যামেলী রেডিও/ফ্যামেলী স্টেশন্স
জোয়েল অস্টিন্স
কেনেথ কোপল্যান্ড মিনিষ্ট্রিস
লেরয় জেন্কিন্স/হিলিং ওয়াটার্স ক্যাথেড্রাল
মাইক মার্ডক/দা উইজডম সেন্টার
মরিস সেরুল্লো ওয়ার্ল্ড ইভান্জেলিজম
নিউ বার্থ মিশনারী ব্যপ্টিষ্ট / এডি লং
পিটার পপফ
প্রোফেটিক ইমেজ এক্সপ্রেশনস / কিম ক্লেমেন্ট
রিমা / কেনেথ হেজিন মিনিষ্ট্রিস
রড পি/ব্রেকথ্রু মিনিষ্ট্রিস
সাক্সেস এন লাইফ / এসএনএল/রবার্ট টিলটন
টিবিএন/ট্রিনিটি ব্রডকাষ্টিং নেটওয়ার্ক
টিডি জ্যাক্স মিনিষ্ট্রিস/পটার্স হাউজ অফ ডালাস
টনি আলামো খ্রীষ্টিয়ান মিনিষ্ট্রিস
ওয়েলস্প্রিং রিনিউয়াল সেন্টার
হোয়াইট ডোভ ফেলোশীপ
উইঙ্গো / এঞ্জেল ফুড মিনিষ্ট্রিস

এছাড়াও এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন মিনিষ্ট্রি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাই আন্তর্জাতিক মিনিষ্ট্রি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে এই ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে পারেন।

দেখা হয়েছেঃ 106 0 টি মন্তব্য

আমি সেক্যুলার – প্রভু, তুমি কি আমার নও

Posted by প্রলয় সমদ্দার বাপ্পি
প্রলয় সমদ্দার বাপ্পি
প্রলয় সমদ্দার বাপ্পি তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 08 জানুয়ারী 2012
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

সামাজিক ও মণ্ডলী-সেবার আগ্রহী হওয়ার পেছনের ঘটনাসমূহ বর্ণনার প্রথমেই প্রভুর পক্ষে কাজ করার জন্য আগ্রহী হওয়ার পথে-পথে দুঃখময় ও কঠিন ধাক্কা লাগার বিষয়ে সেক্যুলার মানুষের সঙ্গে সহভাগিতা করতে চাই – জানাতে চাই স্পিরিচুয়ালিটির ধারক, বাহক ও সোল এজেন্টদের।
প্রথম জীবনেই আমার ছোটমামাকে আমার আইডল ভাবতে শুরু করলাম। বাবার প্রথম জীবনে টাকা-পয়সার যোগান ছিল না। আমার বিধবা ঠাকুরমা কীভাবে যে আমার বাবা ও দুই পিসিমাকে মানুষ করেছেন – সেটি ভাবায় আমাকে। পরবর্তীতে শাশুড়ির ইন্টেনসিভ কেয়ারে বাবা প্রকৌশলি হন, যে কারণে আমার জন্ম ও শিশুকাল মামাবাড়িতে মামা-মাসিদের আদর ও ভালোবাসায় কেটেছে। সেই সময় আমার ছোটমামা ঢাকা শহরের তুখোর ছাত্রনেতা, বিখ্যাত তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের ও ঢাকার মহানগরের ছাত্রলীগের সভাপতি, যুদ্ধফেরত তরুণ মুক্তিযোদ্ধা – সঙ্গে সব সময় ২০/২২ জন অনুসারী, বন্ধু। খোলা জিপ, ২০০ সিসি’র মোটর সাইকেল। পাড়ায়, মহল্লায়, কলেজে ‘টিপু ভাই’। আমার মাথা যা বিগড়ে যাবার, বিগড়ে গেল। ঢাকা শহর কাঁপানো সব মামাদের আদরের ভাগ্নে (যাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে এমপি, মন্ত্রী)। পরবর্তীতে একজন খ্রীষ্টিয়ান হিসেবে অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে ওয়ার্ড থানার মতো কমিটিতে থেকে হলাম ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। পরবর্তীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা।
এবার বলি অন্য জীবনের কথা।
মণ্ডলী ও সংঘের সেবক বাবার হাত ধরে ছোটবেলায় প্রতি রবিবারে, বড়দিনে ও পুনরুত্থানের গীর্জায় যাবার অভ্যাসও কালক্রমে নেশায় পরিণত হয়। ধীরে-ধীরে জড়িয়ে পড়ি সান্ডেস্কুল, যুব সমিতিসহ মণ্ডলীর বিভিন্ন দায়িত্বে আর এ জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি যে আমাকে জোরেশোরে জড়িয়ে ধরবে তা বুঝি দীর্ঘদিন পরে।
আমি দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি - সান্ডেস্কুল, যুব সমিতি ও মণ্ডলীর সঙ্গে আমার এই জড়িয়ে-পড়ার বিষয়টি যদি না হতো, তবে আমার জীবন ভিন্নতর হতে পারত। হতে পারত পত্রিকার শিরোনাম, পোস্টারের ছবি বা অন্যান্য অনেক কিছু। বাবার মোটর সাইকেলে তিন ভাইয়ের সদরঘাট ব্যাপ্টিষ্ট চার্চে যাওয়ার নেশাটাই ছিল আমার জীবনে প্রভুকে সেবনের নেশা। কয়্যারের গান, বড়দিনের কীর্তন, নাটক ও ভোজের বাজার-সদাই – ডালপালা হয়ে জড়িয়ে ধরেছে মণ্ডলীর সঙ্গে আমাকে। নিজের জীবনের অঙ্গীকারের কথা আজ বলে ফেললাম – প্রভুর কাছে আমার নালিশটা তুলে ধরার জন্য।
মণ্ডলী ও সমাজের ভালোবাসায় আসক্ত আমি ধীরে-ধীরে মণ্ডলীর সেবার দায়িত্ব পেলাম। ‘নিলাম’ বললাম না এজন্য যে, দেশের সবচেয়ে বড় প্রোটেষ্ট্যান্ট চার্চের সম্পাদক হিসেবে মিরপুরের মানুষ আমার প্রতি যে ভালোবাসা দিয়েছে সকল বিষয়ে, তার জন্য আমার কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের শেষ নেই। এই দায়িত্ব পাওয়ার পরে দায়িত্ব পালনের ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছি, তার বিনিময়ে শুরু হলো প্রভুর আশীর্বাদ বর্ষণের পালা – সবকিছুই বদলে গেল। হঠাৎ মনে হলো, আমি অভিষেকের বরপুত্র। যেখানেই যাই শুধু আশীর্বাদ আর আশীর্বাদ। ক্রমে-ক্রমে ওয়াইএমসিএ, খ্রীষ্টান এসোসিয়েশন, ঢাকা ক্রেডিট, বহুমুখী, সংঘ-সম্মিলনী, জাতীয় চার্চ পরিষদ, সবশেষে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। প্রভুর জন্য অল্প সময়, ত্যাগ, দায়িত্ব পালন, কোনো-কোনো ক্ষেত্রে একটু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ, ব্যস – এর বিনিময়ে প্রভুর সীমাহীন আশীর্বাদ। শ্রদ্ধেয় স্যামসন এইচ. চৌধুরীর একটি বাক্য আমার জীবনে সত্যি হলো – ‘প্রভু কারো কাছে ঋণী থাকেন না।’ আর আমি বলি, প্রভুকে ঋণী করা যায় না। শুধুমাত্র সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণই নয়, আমার জীবনের শুরুতেই যে জাতীয় রাজনৈতিক আদর্শের পিছনে ছুটে বেড়িয়েছি, সেই ক্ষেত্রেও অযাচিত আশীর্বাদ ছিল, রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে যখন দেখা হয় বা কথা হয় – যখন বলেন, ‘কেমন আছিস’ – ভালোবাসায়-স্নেহে তুই/তুকার সম্বোধন, মণ্ডলীর নেতারা অনেকেই আনন্দিত হন, গর্বিত হন আমাকে নিয়ে – তখন মনে হয়, আর কী চাইবার আছে এই জাগতিক পৃথিবীতে?
যে বিষয়টি আজ যুবসমাজের কাছে তুলে না ধরলে হয়ত আমার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হবে – তা হচ্ছে মণ্ডলীর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা যদি সবকিছুর পরেও নিয়মিত না থাকত, তবে হয়ত ভয়াবহ হতো আমার জীবন। শুধুমাত্র এই একটি সম্পর্কই আমার জীবনকে প্রভুর জন্য ধরে রেখেছে। মণ্ডলীর সঙ্গে যুবকদের লেগে থাকাটাই আজকে পরিবর্তিত জীবনের পূর্বশর্ত।
যে বিষয়ের অবতারণায় আজকের এত ভ্যানভ্যানানি – বৈচিত্রময় জীবনে সুনাম-দুর্নামকে সঙ্গী করে যখনই প্রভুর কাজে জড়াতে চেয়েছি, ততবারই দুঃখের কয়লায় বারবিকিউ’র বিফের স্টেক বা মুরগির ঝলসানো রানের মতো পুড়ে-যাওয়া কালো রং ধরেছি। অনেকেই বলতে চেয়েছেন বা বলেছেন, তুমি কেন মণ্ডলীতে আসো? যুব সমিতির সভাপতি তুমি কেন হবে? তোমার গানের তালন্ত সেক্যুলার জগতে দাও, মণ্ডলীর কয়্যারে না এলেই ভালো হয়। মণ্ডলীর সম্পাদকের মতো ছোট দায়িত্ব তুমি কেন নেবে? তুমি এমপি, মন্ত্রী হবার সাধনা করো, মণ্ডলীর সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে রাজনীতিতে সময় দাও। সর্বশেষ  বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির নির্বাচনের সময় একজন স্পিরিচুয়াল নেতা বললেন, ‘তোমার বাইবেল সোসাইটিতে আসার দরকার নাই।’ তুমি সেক্যুলার – স্পিরিচুয়াল পৃথিবী আলাদা। তুমি সেক্যুলার, তুমি সেক্যুলার, তুমি সেক্যুলার – প্রতিধ্বনির মতো। চারদিকের ধর্মব্যবসায়ীদের সরব চিৎকারে অতিষ্ঠ হয়ে অভিধান নিয়ে বসলাম। সেক্যুলার শব্দের মানে কী – এটি কোন জঘন্য পাপ ও পাপীর কোনো Biblical Termology কি-না?  হাতড়ে-খুঁজে বের করলাম এর বাংলা শব্দার্থ। চরম আনন্দে ও উৎসাহে যে শব্দের অর্থ আবিষ্কার করলাম – তা আমাকে চমকে দিয়ে অনাবিল আনন্দ দিল। জানা হলো আমার এই বিশেষণের বা পরিচয়ের কারণেই তো প্রভু আমাকে খুঁজছেন বা ভালোবাসেন। তোমরা যারা স্পিরিচুয়াল নামধারী – তোমাদের প্রভু খোঁজেন কি? প্রভু তো মানুষ হিসেবে জন্ম না নিয়ে সেক্যুলার না হলেও পারতেন। জলে বাপ্তাইজিত হয়ে স্পিরিচুয়াল হওয়ার দরকার ছিল কেন? সেক্যুলার পৃথিবীর মানুষকেই প্রভুর প্রয়োজন। স্পিরিচুয়ালিটির ধারক-বাহকরা অনেকে আমাদের দেশের পুরাতন রাজনৈতিক দলের মতো। ধর্মীয় নেতারা ভাবেন, মূল স্পিরিচুয়াল লোকেরা থাকলেই হবে – নতুন লোকের আমাদের দরকার কী? আমরা আলাদা। নতুন স্পিরিচুয়ালদের দরকার কী? ওরা তো সেক্যুলার থাকলেই ভালো। পুরাতন নিয়মের মহাপবিত্র যাজকদের মতো বা পুঁজিবাদী নেতাদের শ্রেণিবৈষম্যের মতো। আমি সেক্যুলার, কিন্তু আমি মদ-গাঁজা খাই না। আমি সেক্যুলার, কিন্তু অনেক ধর্মীয় দলের নেতাদের খোলামেলা জীবন-ধারনের ফায়দা কুড়ানোর মতো অনাচারে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে অনাচারের অপবাদ নেই। আমি সেক্যুলার, কিন্তু ধর্মব্যবসার টাকায় আমার জীবন চলে না। আমি সেক্যুলার, আমার প্রভুকে আমি ডলার কামানোর জন্য হাটে উঠাই না। আমি সেক্যুলার। আমি তাদের খুঁজি, যারা আমাকে স্পিরিচুয়াল করার শপথ নিয়ে প্রভুতে প্রতিজ্ঞা করেছেন। আপনারা কোথায়? আপনারা আমাকে খোঁজেন কি? প্রভু আমাকে পরিবর্তনের কাজে আপনাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, যাতে আমি প্রভুতে স্পিরিচুয়াল হই। কিন্তু আপনাদের উৎপাতে প্রভুর কাছে ফিরে আসার বদলে ছুটে পালাতে হয়। একবার ভেবে দেখুন, আমি সেক্যুলার বলে আমার আছে শুধুই ভবিষ্যৎ - সে ভবিষ্যৎ স্পিরিচুয়াল হওয়ার সম্ভাবনা, কিন্তু আপনাদের আছে শুধুই অতীত – ভবিষ্যৎ নেই।
প্রভু, আমি সেক্যুলার, কিন্তু তোমাকে ভালোবাসি। প্রভু, আমি সেক্যুলার, তোমার জন্য কাজ করতে চাই। প্রভু, আমি সেক্যুলার, তোমার বাক্যের ও মণ্ডলীর সেবক হতে চাই। প্রভু, আমি সেক্যুলার, এই বিশেষণের বিশ্লেষণে যেন তোমার জন্য আমার কাজের ও ভালোবাসার ঘাটতি খুঁজে না বেড়াই। কারণ তুমি নিজেই আমার মতো সেক্যুলার মানুষের জন্য মৃত্যু যাতনায় আমাকে মুক্তির শপথ নিয়েছ।

দেখা হয়েছেঃ 177 0 টি মন্তব্য

ডেড সি স্ক্রল

Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
God did not give us a spirit of fear.
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 29 ডিসেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

ডেড সি স্ক্রলের কথা এখন অনেকেরই জানা। ১৯৪৭ এবং ১৯৫৬ সালে পাওয়া এই মূল্যবান বাইবেলীয় তথ্যাদি এক সময় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক ডেড সি স্ক্রল নিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরী করা হয়েছে, প্রাপ্ত স্ক্রলগুলোর মধ্যে পাঁচটি স্ক্রলের ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য ইতিমধ্যেই এই ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছে। প্রকাশিত স্ক্রলগুলো হচ্ছে দা গ্রেট ঈসাইয়া স্ক্রল, টেম্পল স্ক্রল, ওয়ার স্ক্রল, কমিউনিটি রুল স্ক্রল এবং কমেন্টরি অন দা হবক্কূক স্ক্রল। গুগোলের অর্থায়নে এই ওয়েবসাইটটি পরচালিত হচ্ছে। জানা গেছে, ডেড সি স্ক্রলের যাবতীয় তথ্যাদি এবং গবেষনার ফলাফল এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।

দেখা হয়েছেঃ 114 0 টি মন্তব্য

কাল্ট

Posted by রিচার্ড হালদার
রিচার্ড হালদার
রিচার্ড হালদার তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 14 ডিসেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

বর্তমান সময়ে এই শব্দটি আমরা প্রায়শই শুনে থাকি। একজন ভাল খ্রীষ্টিয়ান বিশ্বাসী হিসাবে আমাদের এটি সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন। বাইবেল বলে শেষ সময়ে অনেক ভন্ড লোকেরা এসে অনেককে ঠকাবে (মথি ২৪)। এজন্য আমাদের এই সময় সতর্কতার সহিত জীবন যাপন করা উচিত। তবে কোন ডিনোমিনেশনস্ সঠিক এবং কোনটি কাল্ট এটি মূল্যায়ন করা একদিকে সহজ আবার কখনও কখনও কঠিন। কারণ এই কাল্ট দলগুলি বাইবেলের পদ ব্যবহার করেই এমনভাবে শিক্ষা দেয় যাতে করে উপর দিক দিয়ে মনে হয় তারা বাইবেল সম্মত কথাই বলছেন। কিন্তু কেউ বাইবেলের পদ ব্যবহার করলেই তিনি যা বলছেন তা যে বাইবেল সম্মত তা নাও হতে পারে। শয়তানও বাইবেল জানে এবং যীশু খ্রীষ্টের পরীক্ষার সময় বাইবেলের পদ ব্যবহার করেছিলেন যা ছিল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বাইবেলের ভুল প্রয়োগ। যীশু খ্রীষ্ট তিনি বাক্য জানতেন বলেই শয়তানের চালাকি বুঝতে পেরেছিলেন এবং প্রতিরোধ করতে পেরেছিলেন। বাইবেলের সাথে গভীর সম্পর্কই আমাদেরকে এই সব প্রতারণা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।

কাল্ট না ভাল ডিনোমিনেশন কিভাবে বুঝব?
সাধারণত খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়গুলির বা ডিনোমিনেশনগুলির মধ্যে মূল খ্রীষ্টিয় মতবাদের কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। কোন কোন ডিনোমিনেশন কোন কোন মতবাদকে প্রাধান্য দেয় আবার কোন কোন ডিনোমিনেশনস্ সেগুলিকে প্রাধাণ্য দেয় না। কিন্তু কিছু কিছু মূল মতবাদ সবগুলি ডিনোমিনেশনস্ এর মতবাদেই পাওয়া যাবে। এবং বর্তমান বিশ্বের বেশীরভাগ বড় বড় ডিনোমিনেশনস্ বা সম্প্রদায় এর সাথে একমত হবেন। যেমন নিম্নের প্রধান প্রধান মতবাদগুলি সবধরনের বড় বড় ডিনোমিনেশনস্ এর মতবাদে পাওয়া যাবে:

(যীশুখ্রীষ্ট, ত্রিত্ব ঈশ্বর, যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু, পরিত্রাণ, স্বর্গারোহন ও পুনরাগমন)

খ্রীষ্টিয়ান ধর্মের প্রধান প্রধান ধর্মবিশ্বাস: ( ডিনোমিনেশনস্ ভেদে কথার ভিন্নতা থাকতে পারে)
১. যীশু খ্রীষ্টকে ঈশ্বর ও প্রভু বলে স্বীকার করা, এবং তাঁর রক্তের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা অর্থাৎ পরিত্রাণ পাওয়া যায় তাতে বিশ্বাস।
২. পিতা পুত্র ও পবিত্র আত্মার উপর বিশ্বাস, অর্থাৎ ত্রিত্ব ঈশ্বরে বিশ্বাস।
৩. যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু, পূনুরত্থান ও পুনরাগমন স্বীকার ও বিশ্বাস।

(কি কাথলিক বা প্রটেষ্ট্যান্ট যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টিয়ান বলে দাবি করেন তাদের সকলেরই এই মতবাদগুলি রয়েছে।)

এছাড়া প্রত্যেক ডিনোমিনেশনস্ এরই নিজস্ব আরও মতবাদ রয়েছে। কিন্তু উপরোক্ত মতবাদগুলি সমস্ত বড় খ্রীষ্টিয়ান ডিনোমিনেশনস্ গুলিই মেনে নেয় ও বিশ্বাস করে।

কাল্ট প্রধানত কয়েক প্রকার:
•    ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাল্ট: নিজেদেরকে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অথীন বলে আখ্যায়িত করে কিন্তু প্রধান ধর্মীয় মতবাদগুলি মেনে নেয়না, ভুল ব্যাখ্যা দেয় বা বিকৃত করে।
•    কোন বিশেষ নীতিমালার কাল্ট: নিজেদেরকে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোক বলে না কিন্তু কিছু কিছু নীতিমালা অনুসরণ করে জীবন যাপন করে যা বাইবেলীয় নয়।
•    কোন বিশেষ ব্যক্তি বা ব্যক্তির মতবাদ কেন্দ্রিক কাল্ট: কোন মানুষকে ঈশ্বরের সমতূল্য দিয়ে আরাধনা করে।
•    যাদুবিদ্যা, মন্ত্রতন্ত্র, ব্রেইন ওয়াশ

কোন কোন কাল্ট দল রয়েছেন যারা নিজেদেরকে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোক বলেন কিন্তু তারা এই প্রধান মতবাদগুলিকে মেনে নেন না বা বিকৃত করেন এবং সেজন্য তাদের মতবাদগুলি এতটাই ভিন্ন যে এদেরকে আর সেই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোক বলে মেনে নেওয়া যায় না।

যেমন কিছু কিছু  ধর্মীয় কাল্ট দলের বিশ্বাস হচ্ছে:

১. যীশু খ্রীষ্ট তিনি সৃষ্টি হয়েছেন বা ঈশ্বর নন বা তিনি একজন বিশেষ স্বর্গদূত বা তিনি মারা যাননি, তিনি প্রভু নন ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশীরভাগ কাল্ট দলগুলিরই যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কিত মতবাদে বিভ্রান্তি রয়েছে। কোন কোন কাল্ট গ্রুপের নেতাদের মধ্যে অনেকে আবার ইতিমধ্যে নিজেকে যীশু খ্রীষ্ট বলে দাবি করছেন যাদের অনেকে ইতিমধ্যে মারা গেছেন। (বর্তমানে বিভিন্ন দেশে অনেকে রয়েছেন যারা দাবি করেন তারাই যীশু খ্রীষ্ট)

২. ত্র্বিত্ব ঈশ্বরে অবিশ্বাস। কেউ কেউ বলেন পিতা ঈশ্বর কিন্তু পুত্র ঈশ্বর নন। কেউ বলেন পুত্রই একমাত্র ঈশ্বর আর কোন ঈশ্বর নেই বা পিতা ও পবিত্র আত্মা পুত্র ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপ। কেউ বলেন পবিত্র আত্মা হচ্ছেন ঈশ্বরের আত্মা কিন্তু ঈশ্বর নন। এর কোনটিই সঠিক নয়।

এছাড়া আর যে যে ভাবে আমরা কাল্ট দলগুলি চিহ্নিত করতে পারব তা হচ্ছে:
১. সেই সম্প্রদায়ের নেতা বা লোকেরা নিজেদেরকে অতিমানব মনে করেন বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করেন।
২. পৃথিবীর সবকিছুকে ভুল বা খারাপ হিসাবে চিহ্নিত করা এবং সেজন্য পৃথিবীর সমস্ত সুযোগ সুবিধা না নেওয়া বা যত্ন না নেওয়া বা পৃথিবীর সম্পদ কিছুকে শয়তানের বলে আখ্যা দেওয়া যা বাইবেলের শিক্ষার বিপরীত।
৩. শুধুমাত্র দলীয় নেতা এমন কিছু জানেন যা অন্য কোন মানুষ পৃথিবীর জানেনা। অথাৎ সেই সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা সবার চেয়ে আলাদা ও ক্ষমতাপূর্ণ।
৪. বিবাহের বাইরে যৌন সম্পর্ককে উৎসাহিত করা বা দলীয় নেতার সহিত বা দলের সদস্যদেরএক অন্যের সাথে অবাধ যৌন সম্পর্ককে উৎসাহিত করা।
৫. যে কোন রকম মূর্ত্তিপূজাকে (কোন মূর্ত্তিকে সরাসরি ঈশ্বর বলে মনে করে) উৎসাহিত করা বা দলের প্রধানকে ঈশ্বরের সমতূল্য হিসাবে পূজা করা।

আমাদের করণীয়:

  • আপনি যাদি এরূপ কোন দলের সাথে যুক্ত থাকেন তবে এখনই কোন ভাল বিশ্বাসী দলের সাথে যুক্ত হোন অথবা ভাল কোন মন্ডলীর সাথে সহভাগিতা দেওয়া শুরু করুন।
  • ঈশ্বরের বাক্য অর্থাৎ বাইবেলের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলুন। নিজে বাইবেল পড়ুন ও অধ্যয়ন করুন এবং যদি আপনার ব্যক্তিগত বাইবেলের ভিত্তি দুর্বল হয় তবে অতি স্বত্তর কোন ভাল বাইবেল অধ্যায়ন দলের সাথে বা কোন প্রতিষ্ঠীত মন্ডলীর বাইবেল অধ্যয়ন দলের সাথে যক্ত হোন।
  • কেউ কোন নতুন মতবাদ দিলে সংগে সংগে বাইবেলের বিভিন্ন অংশের সাথে তার সমঞ্জস্যতা পরীক্ষা করুন। আপনি নিজে না পাড়লে কয়েকজন প্রতিষ্ঠীত পালকের সাহায্য নিন।
  • কোন কাল্ট গুপের ব্যাপারে আপনি জানলে আপনার পরিবার পরিজন ও বন্ধুদের সতর্ক করুন।
  • ঈশ্বরের সাথে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রার্থনা, বাইবেল অধ্যয়ন, নীরবধ্যান, ভাল সহভাগিতার মাধ্যমে বৃদ্ধি করুন। আপনি অজ্ঞ এবং একা থাকলে ভুল করার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

প্রস্তুতকারী:
রিচার্ড হালদার

আরও জানতে বা এ সম্পর্কে যোগাযোগ করতে পারেন:
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।

তথ্য সূত্র:
http://newapologia.com/what-cult/

দেখা হয়েছেঃ 112 0 টি মন্তব্য

সমুদয় জগতের আনন্দ

Posted by রেভা: বনি বাড়ই
রেভা: বনি বাড়ই
রেভা: বনি বাড়ই তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 12 ডিসেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

মাত্র কয়েকদিন পূর্বে আমি ঢাকার কাকলী সিগন্যাল থেকে গুলশান রোডে রাস্তার মোড়ে রিক্সা ভাড়া দিতে গিয়ে এক বিড়ম্বনায় পড়লাম। ভাংতি টাকা নেই, রিক্সাওয়ালাকে তার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা দিয়ে বিদায় করলাম। দেখলাম রিক্সাচালক ভীষন আনন্দিত, ভাবলাম এটি আমার কৃতিত্ব কিন্তু কিছু সময় পরে সিএনজিতে বসে মনে হলো এ আমার অনিচ্ছাকৃত আনন্দ দান। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এরকম অনেক কিছুই ঘটে যা মনের অজান্তে অন্যকে আনন্দ দেয় বা কোন কোন সময় প্রচুর দুঃখও দেয় বটে।  এখন একটা প্রশ্ন করা যাক তাহলে জগতের এই রকম বাস্তবতায় পরিপূর্ণ আনন্দ (Real Joy) লাভ সম্ভব কিভাবে? আমি একটু পিছনে ফিরে যেতে চাই ১৯৮৮ এর বন্যা, দক্ষিণ অঞ্চল প্লাবিত মানুষের দারুণ কষ্ট, আমি ও আমার পরিবারও সেদিন দারুণভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। মনে পড়ছে সেদিন আনন্দের বদলে শুধু দুঃখই যেন ছিল আমাদের সম্বল। কিন্তু কিছু দিন পরে আস্তে আস্তে ঘন দুঃখ সরে গিয়ে ঝলকানি হাসি দিয়ে সোনালী রোদের মত ফিরে এসেছিল ‘‘প্রভু যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন’’। নূতন পোষাক ছিল না, ছিল না ভাল খাবার কিন্তু সকালের উপাসনায় পবিত্র বাইবেলের অমৃত বাণী ‘‘আমি তোমা দিগকে মহানন্দের সুসমাচার জানাইতেছি; সেই আনন্দ সমুদয় লোকেরই হইবে’’ লূক ২:১০। মন থেকে সব দুঃখ সরে গেল এক অপূর্ব অনুভুতি। কি মহানন্দ! আজ অনেকদিন পরে সেই স্মৃতি স্মরণ করে সকলের কাছে তাই বলতে চাই অশান্ত, অন্ধকারময়, দুঃখ কবলিত জগৎবাসী আজ আপনাদের জন্য এক মহানন্দের দিন প্রভু যীশুর আগমন বারতা (Joy for all)। প্রশ্ন আসতে পারে চারিদিকে এত হানাহানি, দলাদলী, ঘৃণা, হিংসা আর এর মাঝে আনন্দ পাব কোথায়? আনন্দ কি সম্ভব? এই প্রশ্ন আমারও ছিল  কিন্তু পবিত্র বাইবেল আমার সে প্রশ্নের উত্তর এইভাবে দিয়েছে ‘‘কেননা ঈশ্বরের কোন বাক্য শক্তিহীন হইবে না? লূক ১:৩৭ পদ। সুতরাং ভয়ের বা আশংকার কোন কারণ নেই প্রভু যীশু খ্রীষ্ট আপনাকে এবং আমাকে তার করুণার ভান্ডার থেকে অপরিমেয় আশির্বাদ ঢেলে দেবেন যেভাবে শিমিয়োন যিরুশালেমের ধর্মধামে ঈশ্বরের ধন্যবাদ করে বলেছিলেন ‘‘হে স্বামিন্, এখন তুমি তোমার বাক্যানুসারে তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় করিতেছ, কেননা আমার নয়নযুগল তোমার পরিত্রাণ দেখিতে পাইল, যাহা তুমি সকল জাতির সম্মুখে প্রস্ত্তত করিয়াছ। পরজাতিগণের প্রতি প্রকাশিত হইবার জ্যোতি ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের গৌরব’’ লুক ২:২৯-৩২। তবে আনন্দ পেতে হলে কিছু করণীয় রয়েছে। যিনি এই আনন্দ বারতার ধারক ও বাহক সেই মহান প্রভু যীশু খ্রীষ্ট নিজের জীবন দ্বারা আনন্দ দানের ও প্রাপ্তির সূচনা করেছেন। তিনি বলেছেন আমাকে অভিষেক করা হয়েছে ‘‘দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার প্রচার করিবার জন্য। বন্দিগণের কাছে মুক্তি প্রচার করিবার জন্য, অন্ধদের কাছে চক্ষু দান প্রচার করিবার জন্য, উপদ্রুতদিগকে নিস্তার করিয়া বিদায় করিবার জন্য এবং প্রভুর দয়ার কথা ঘোষনা করার জন্য’’ লূক ৪:১৮। আমার ব্যক্তি জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব শিক্ষার আলোকে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যদি আমি এবং আপনি-
১. দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার প্রচার করি
২. বন্দিগণের কাছে মুক্তি প্রচার করি
৩. অন্ধদের কাছে চক্ষু দান প্রচার করি
৪. উপদ্রুতদিগকে নিস্তার করিয়া বিদায় করি এবং
৫. প্রভুর দয়ার কথা ঘোষনা করি
তবে এই জগৎ আনন্দময় হবে। স্বর্গদূত যে ঘোষনা করেছিল ‘‘আমি তোমা দিগকে মহানন্দের সুসমাচার জানাইতেছি; সেই আনন্দ সমুদয় লোকেরই হইবে’’ তা পূর্ণ হবে। কারণ প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সমুদয় জগতের আনন্দ।

সমুদয় জগতের আনন্দ
ট্যাগঃ বড়দিন
দেখা হয়েছেঃ 99 0 টি মন্তব্য
Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
God did not give us a spirit of fear.
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 23 নভেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

সতর্কতাঃ মানব সমাজের সবচাইতে বিধ্বংসী ভাইরাস “পাপ” –এর সাথে আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।

সংক্রমণের অবস্থাঃ আপনি ইতিমধ্যেই সংক্রমিত হয়েছেন! (রোমীয় ৩:২৩) (আদম ও হবা এই ভাইরাস ডাউনলোড করেছেন এবং আমরা তা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি)।

ক্ষয়-ক্ষতির পরিমানঃ আপনার জীবনের প্রতিটি যন্ত্রাংশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে (ইফি ২:৩) এবং প্রায় সমস্ত সংরক্ষিত ফাইল কার্যক্ষমতা হারিয়েছে।

প্রতিকারঃ এই ভাইরাস থেকে সম্পুর্ণভাবে প্রতিকার পেতে আমাদের জীবনের সমস্ত যন্ত্রাংশ একটি বিশেষ ধরনের ফরম্যাট করতে হবে, তার নাম হচ্ছে “ক্ষমা”। এই ধরনের ফরম্যাট করার জন্য যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে হবে, তার নাম হলো “নির্দোষিতা ও পবিত্রতা” (ইফি ৪:২৪)। আর এই ভাইরাস দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ সমস্ত ফাইল ও যন্ত্রাংশের ক্ষমতা ফিরে পাবার একমাত্র কার্যকর সফটওয়্যার হচ্ছে “প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রতি বিশ্বাস” (প্রেরিত ৪:১২)।

খরচঃ এই সফটওয়্যারের লাইসেন্স আপনার ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। কারন এর মূল্য হচ্ছে “ঈশ্বরের শাশ্বত ক্রোধ”।

...
দেখা হয়েছেঃ 199 0 টি মন্তব্য

সন্তানের প্রতি প্রেমময় পিতার ভালবাসাপূর্ণ চিঠি

Posted by মেরী সাংমা
মেরী সাংমা
মেরী সাংমা তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 16 নভেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

সন্তান আমার,
তুমি হয়তো আমার সব কিছু জান না, কিন্তু আমি তোমার সব কিছুই জানি (গীতসংহিতা ১৩৯:১)।
তোমার উঠা বসা চলাফেরা সব কিছুই আমি জানি (গীতসংহিতা ১৩৯: ২)
আমি তোমার সব কিছুর সংগেই পরিচিত (গীতসংহিতা ১৩৯:৩)।
এমনকি তোমার মাথার চুলগুলোও আমার গোণা আছে (মথি ১০: ২৯-৩১)।
কেননা তোমাকে আমারই প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে (আদিপুস্তক ১:২৭)।
কারণ আমার শক্তিতেই তুমি জীবন কাটাও, চলাফেরা কর এবং বেঁচে আছ (প্রেরিত ১৭:২৮)।
কারণ তুমি আমার সন্তান (প্রেরিত ১৭:২৮)।
তোমাকে তোমার মায়ের গর্ভে গঠন করবার আগেই আমি তোমাকে জানি (যিরমিয় (১:৪-৫)।
সৃষ্টির পরিকল্পনার পূর্বেই আমি তোমাকে বেছে নিয়েছি (ইফিষীয় ১: ১১-১২)।  
তোমার জন্য ঠিক করে রাখা দিনগুলো যখন শুরু হয় নি, তখন আমার বইয়ে সেগুলোর সবই লেখা ছিল (গীতসংহিতা ১৩৯: ১৫-১৬)।  
তুমি কখন ভুমিষ্ঠ হবে এবং কোথায় বাস করবে তাও আমি ঠিক করেছি ( প্রেরিত ১৭:২৬)।
তোমাকে আশ্চর্যভাবে গড়া হয়েছে (গীতসংহিতা ১৩৯: ১৪)।
মায়ের গর্ভে আমিই তোমার শরীরের অংশগুলো একসংগে বুনেছি (গীতসংহিতা ১৩৯:১৩)।
আমিই তোমাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে এনেছি (গীতসংহিতা ৭১: ৬)।
যারা আমাকে জানে না, তারা আমার বিষয়ে অন্যদের কাছে অসত্য কথা বলেছে, অন্যদের কাছে ভুল বিষয় তুলে ধরেছে (যোহন ৮:৪১)।   
কিন্তু আমি তাদের উপর কোন ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করি নি এবং তাদের দূরে ঠেলে দেই নি, বরং তাদের ভালবেসেছি, কারণ আমিই ভালবাসার পূর্ণ প্রকাশ (যোহন ৪:১৬)।
আমি চাই আমার ভালবাসায় তুমি যেন সর্বদা সিক্ত থাক, পরিপূর্ণতা অর্জন কর (১যোহন ৩:১)।
কারণ তুমি আমার সন্তান এবং আমি তোমার পিতা (১ যোহন ৩:১)
তোমাদের জাগতিক পিতার চেয়েও আমি তোমাদের ভাল ভাল জিনিস দিয়ে থাকি (মথি ৭:১১)।
কেননা আমি তোমার নিখুঁত এবং খাঁটি পিতা (মথি ৫:৪৮)।
জীবনের প্রত্যেকটি সুন্দর এবং খাঁটি দান আমার কাছ থেকেই তুমি পেয়েছ (যাকোব ১:১৭)।
কারণ আমিই তোমার যোগানদাতা, তোমার সব প্রয়োজন আমিই মিটিয়ে থাকি (মথি ৬:৩১-৩৩)।
তোমার জন্য আমার পরিকল্পনার কথা আমিই জানি; সেই পরকিল্পনার মধ্য দিয়ে তোমার ভবিষ্যতের আশা পূর্ণ হবে (যিরমিয় ২৯:১১)।
কারণ অশেষ ভালবাসা দিয়ে আমি তোমাকে ভালবেসেছি (যিরমিয় ৩১:৩)।
তোমার বিষয়ে আমার চিন্তা এবং পরিকল্পনা অনেক, তা বালুকণার চেয়েও বেশি (গীতসংহিতা ১৩৯: ১৭-১৮)।
আমি তোমার বিষয় নিয়ে আনন্দিত হব, তোমার বিষয় নিয়ে আনন্দ গান করব (সফনিয় ৩:১৭)
আমি তোমার জন্য এই চিরস্থায়ী ব্যবস্থা স্থাপন করব যে, আমি তোমার উপকার করা কখনও বন্ধ করব না (যিরমিয় ৩২: ৪০)। 
কারণ তুমি আমার গুপ্তধন (যাত্রাপুস্তক ১৯:৫)।  
আমি আমার সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করব (যিরমিয় ৩২:৪১)। 
আমি তোমাকে এমন মহৎ এবং এমন গোপন বিষয় দেখাব যা তুমি জান না (যিরমিয় ৩৩: ৩)।
তুমি যদি সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে আমাকে খোঁজ এবং আমাকে ডাক, তাহলে আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং তোমার সামনে উপস্থিত হব (দ্বি: বিবরণ ৪:২৯)।  
আমাকে নিয়ে আনন্দে মেতে থাক; তোমার মনের ইচ্ছা আমিই পূরণ করব (গীতসংহিতা ৩৭:৪)।
কারণ তোমার পিতা হিসাবে আমিই তোমার মনের সেই ইচ্ছাকে বপন করেছি (ফিলিপীয় ২:১৩)।
তোমার চাওয়া এবং চিন্তার চেয়েও আমি অনেক বেশি করতে পারি, যা তুমি কখনোই কল্পনা করতে পার না (ইফিষীয় ৩:২০)।
কেননা আমি তোমার পরম উৎসাহদাতা (২ থিষলনীকীয় ২:১৬-১৭)।
আমি তোমার সকল দুঃখ দুর্দশায় সান্ত্বনা দানকারী (২ করিন্থীয় ১:৩-৪)।
তোমার মন ভেংগে গেলে আমাকে সর্বদা তুমি কাছে পাবে (গীতসংহিতা ৩৪:১৮)।
রাখাল যেমন ভেড়ার বাচ্চাকে হাতে তুলে নেন এবং কোলে করে বয়ে নিয়ে যান, তেমনিভাবে আমি তোমাকে আমার হৃদয়ের কাছে বহন করেছি (যিশাইয় ৪০:১১)।
একদিন আমি তোমার চোখের সমস্ত চোখের জল মুছে দেব (প্রকাশিত বাক্য ২১: ৩-৪)।
এবং আমি এই পৃথিবীতে তোমার সমস্ত ব্যথা, বেদনা যাতনাগুলোকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাব (প্রকাশিত বাক্য ২১: ৩-৪)।
আমি তোমার পিতা এবং আমি যেমন আমার পুত্র যীশুকে ভালবাসি তেমনিভাবে তোমাকে ভালবাসি (যোহন ১৭: ২৩)।
কারণ খ্রীষ্টেতে তোমার প্রতি আমার ভালবাসাকে আমি প্রকাশ করেছি (যোহন ১৭:২৬)।
কারণ সেই হচ্ছে আমার পূর্ণ ছবি (ইব্রীয় ১:৩)।
আমি যে তোমার বিপক্ষ নই কিন্তু সর্বদাই যে তোমার পক্ষে তা প্রকাশ করার জন্য তাঁকে আমি এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছি (রোমীয় ৮:৩১)।
এবং তাঁকে এই কথা বলতে পাঠিয়েছি যে, আমি কখনোই তোমার পাপ ধরি না (২ করিন্থীয় ৫:১৮-১৯)।
যীশু ক্রুশে মৃত্যু বরণ করেছেন যেন তুমি এবং আমি আবার মিলিত হতে পারি (২ করিন্থীয় ৫:১৮-১৯)।     
তাঁর মৃত্যু হচ্ছে তোমার প্রতি আমার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ (১ যোহন ৪:১০)।
যীশুর সংগে আমি সব কিছু দান করেছি যাতে আমি তোমার ভালবাসা পেতে পারি (রোমীয় ৮:৩১-৩২)।
যদি তুমি আমার পুত্র যীশুর এই দানকে গ্রহণ কর, তবে তুমি আমাকেই গ্রহণ করে থাক (১ যোহন ২:২৩)।
তাতে কোন কিছুই আমার ভালবাসা থেকে তোমাকে আর কখনোই আলাদা করতে পারবে না (রোমীয় ৮: ৩৮-৩৯)।  
যখন তুমি আমার ঘরে আসবে আমি এমন আনন্দ উৎসবের আয়োজন করব যা স্বর্গে কখনও দেখা যায় নি (লূক ১৫:৭)।
আমি সর্বদা পিতা ছিলাম, পিতা আছি এবং পিতা থাকব (ইফিষীয় ৩:১৪-১৫)।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই, ‘‘তুমি কি আমার সন্তান হবে?’’ (যোহন ১:১২-১৩)।
আমি তোমার অপেক্ষায় আছি (লূক ১৫:১১-৩২)।

ভালবাসায়, তোমার পিতা

‘‘এই চিঠিটি ই-মেইল এর মাধ্যমে একজনের কাছ থেকে আমি পেয়েছিলাম। যা আমার ভীষণ ভাল লেগেছে। সত্যিই আমাদের মত সন্তানদের প্রতি পিতার ভালবাসায় আমি অভিভূত হয়েছি এবং কৃতজ্ঞ চিত্তে তাঁর প্রতি নত হয়েছি। আর তাই এটির ভাবার্থ তুলে ধরেছি। চিঠিটি আসলে বাইবেলের আলোকে সাজানো হয়েছে। যেটি পড়ে আপনিও চমৎকৃত হবেন এবং পিতাকে আরও গভীরভাবে জানবার সুযোগ পাবেন। পিতা ঈশ্বর আমাদের সকলের সহবর্তী হোন।’’

দেখা হয়েছেঃ 97 0 টি মন্তব্য

"বাপ্তিস্ম" কোথা থেকে এলো? মন্তব্যঃ

Posted by রেভা: বনি বাড়ই
রেভা: বনি বাড়ই
রেভা: বনি বাড়ই তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 02 নভেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

সমাস ইষ্টার সংখ্যায় শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের  "বাপ্তিস্ম" কোথা থেকে এলো?  লেখাটি সত্যি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। লেখাটি যথেষ্ট ধর্মতত্ত্ব গবেষনায় পূর্ন এবং তথ্য সমৃদ্ধ। আমি তার একজন পাঠক হিসাবে খুবই কৃতজ্ঞ এই ধরনের লেখার জন্য। লেখাটির শেষদিকে তার চ্যলেঞ্জটি আমাকে উৎসাহিত করেছে যেন কিছু লিখতে পারি। যদিও আমার এত সাহস বা যোগ্যতা কোন কিছু নেই যে, শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের  লেখার উপর মন্তব্য করি কিন্তু দাদু হিসাবে এই লেখার সাথে কিছু যুক্ত করতে চাই এবং শেষে তিনি যেকথা বলেছেন "আমাদের দেশে থিওলজিক্যাল ইসু নিয়ে কখোনো আলোচনা হয় না" এ বিষয়ে  দ্বিমত পোষন করছি। কারন আমার জানা মতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ধর্মতাত্বিক সেমিনার অনুষ্টিত হয়েছে যেখানে ধর্মতত্বের গভীরতম বিষয়ে প্রানবন্ত উপস্থপনা ও আলোচনা হয়েছে। যেমনঃ এনসিসিবি কতৃক ২৮ নভেম্বর ২০০৮ খ্রী: "ত্রিত্ব খ্রীষ্ট বিশ্বাসের মূলবিত্তি" এ বিষয়ে শ্রদ্ধেয় বিশপ থিটনিয়াস গমেজ ও রেভা. জেমস টি. হালদার বিশেষ ধমৃতাত্বিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যা ছিল সত্যি প্রশংসনীয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪৯ জন অংশগ্রহনকারী সেই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এছাড়া সিসিটিবিতেও মাঝে মধ্যে ধর্মতত্বের কিছু কিছু বিষয়ে সেমিনার হয়ে থাকে। হ্যাঁ তবে এটা ঠিক যে অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি খুবই সামান্য। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল যারা আপনারা আমাদের ধর্মতত্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং সমাজের উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত তারা এই বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন অথবা পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেন? এনসিএফবি এর এই বিষয়ে মনে করি যথেষ্ট ভুমিকা থাকা প্রয়োজন। অন্তত দুই এক মাস পরপর ধর্মতত্বের বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার করলে আমরা যারা তরুন ধর্মতত্বের বিষয়ে আগ্রহী আমরা খুবই উপকৃত হতাম। যাইহোক এখন মূল বিষয়ে একটু কিছু লিখতে চাই। "বাপ্তিস্ম" বিষয়টি বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ন ইস্যু। কিছুদিন আগে আমার কয়েকজন বন্ধুরা ঝগড়া করছিল যে, প্রকাশ্যে বাপ্তিস্মের  দরকার আছে কি না? বা বাপ্তিস্ম না নিলে স্বর্গে যেতে পারব কি না? জলে ডুবিয়ে বাপ্তিস্ম ঠিক না জল ছিটিয়ে বাপ্তিস্ম ঠিক? ইত্যাদি। আমার স্বল্প জ্ঞানে এই বিষয়ে উত্তর পেতে সমস্যা হয়নি কারন বাইবেলে যীশু নিজে বলেছেন "যদি কেহ জল ও আত্না হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না" যোহন ৩:৫পদ। সুতরাং বাপ্তিস্মের প্রয়োজনীয়তা যে আছে সেটা বোধ হয় আমরা অস্বীকার করতে পারি না। বাপ্তিস্মের  আগমন বা উৎপত্তি যে ভাবে হোক না কেন এর প্রয়োজনীয়তা নিঃসন্দেহে খ্রীষ্ট ধর্মে আছে। প্রেরিত পৌল লিখেছেন "কারন লোকে হৃদয়ে বিশ্বাস করে ধার্ম্মিকতার জন্য এবং মুখে স্বীকার করে, পরিত্রানের জন্য’’ রোমীয় ১০:১০। আমার বিশ্বাস বাপ্তিস্ম হল মুখে স্বীকার করার চিহ্ন। 
শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের লেখার ঐতিহাসিক কোন দ্বিমত আমার নেই তবে আরেকটু যোগ করতে চাই। বিখ্যাত লেখক  Robert Jones বাপ্তিস্ম সম্পর্কে তার থিসিস "A Brief History of Christian Baptism: From John the Baptist to John Smyth" এ পুরাতন নিয়মে বাপ্তিস্ম সম্পর্কে লিখেছেন "While there is no explicit reference to baptism in the Old Testament as we understand it in the Christian sense, there are references to various elements that will eventually assert themselves in Christian baptism, such as the use of water for ceremonial purification, the pouring out of the Holy Spirit on individuals, and (possibly)...circumcision." Calvin এই সম্পর্কে তার "Christian Institutes" বই এ লিখেছেন "Hence it is incontrovertible, that baptism has been substituted for circumcision, and performs the same office. (Calvin, "Christian Institutes", p. 1473) । আমরা পবিত্র বাইবেলে আদি: ১৭:১-১৪, যিশা: ৪৪:৩, যোয়েল ২:২৮-২৯, লেবী:১৬:৪,২৪, যিহি: ৩৬:২৫ এবং গীত ৫১:১-৩ পদে বাপ্তিস্মের  লিং খুজে পাওয়া যায়।
২য় ও ৩য় শতাব্দীর প্রাচ্যদেশীয় মন্ডলীর খুব জনপ্রিয় বই "The Shepherd of Hermas" বাপ্তিস্মের অর্থ সম্পর্কে লিখেছে "...before a man bears the name of the Son of God he is dead; but when he receives the seal he lays aside his deadness, and obtains life. The seal, then, is the water: they descend into the water dead, and they arise alive." (The Shepherd of Hermas - Similitude IX, Chapter 16) এই ভাবে বাপ্তিস্ম সম্পর্কে অনেক অনেক তথ্য, বিশ্লেষন আমরা দেখতে পাই যা আমাদের বাপ্তিস্মের ইতিহাস বুঝতে সহায়তা করে।
আমি জানি আমার এই লেখা গভীর সাগরে মুক্তা খোজার মত তথাপি আমি  শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি একটি সুযোগ সৃস্টি করেছেন যেন কিছু গবেষনা  ও লিখতে পারি। আমার বিশ্বাস পরবর্তিতে এ বিষয়ে আরও লেখা, সেমিনার ও শক্তিশালী উপস্থাপনা আমরা তার কাছ থেকে পাব।
ধন্যবাদ

সমাস ইষ্টার সংখ্যায় শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের ’’বাপ্তিস্ম’’ কোথা থেকে এলো? লেখাটি সত্যি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য । লেখাটি যথেষ্ট ধর্মতত্ত্ব গবেষনায় পূর্ন এবং তথ্য সমৃদ্ধ। আমি তার একজন পাঠক হিসাবে খুবই কৃতজ্ঞ এই ধরনের লেখার জন্য। লেখাটির শেষদিকে তার চ্যলেঞ্জটি ।ামাকে উৎসাহিত করেছে যেন কিছু লিখতে পারি। যদিও আমার এত সাহস বা যোগ্যতা কোন কিছু নেই যে, শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের লেখার উপর মন্তব্য করি কিন্তু দাদু হিসাবে এই লেখার সাথে কিছু যুক্ত করতে চাই এবং শেষে তিনি যেকথা বলেছেন ‘‘আমাদের দেশে থিওলজিক্যাল ইসু নিয়ে কখোনো আলোচনা হয় না’’ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষন করছি। কারন আমার জানা মতে ইতিমধ্য বেশ কিছু ধর্মতাত্বিক সেমিনার অনুষ্টিত হয়েছে যেখানে ধর্মতত্বের গভীরতম বিষয়ে প্রনবন্ত উপস্থপনা ও আলোচনা হয়েছে। যেমন: NCCB কতৃৃক ২৮ নভেম্বও ২০০৮ খ্রী: ‘‘ ত্রিত্ব খ্রীষ্ট বিশ্বাসের মূলবিত্তি’’ এ বিষয়ে শ্রদ্ধেয় বিশপ থিটনিয়াস গমেজ ও লেভা. জেমস টি. ঘালদার বিশেষ ধমৃতাত্বিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যা ছিল সত্যি প্রশংসনীয়। বিভিন্ন প্রতিষ্টান থেকে মোট ৪৯ জন অংশগ্রহনকারী সেই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এছাড়া CCTB তেও মাঝে মধ্যে ধর্মতত্বেও কিছু কিছু বিষয়ে সেমিনার হয়ে থাকে। হ্যাঁ তবে এটা ঠিক যে অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি খুবই সামান্য। কিন্ত আমার প্রশ্ন হল যারা আপনারা আমাদের ধর্মতত্বের উজ্বল নক্ষত্র এবং সমাজের উচ্চপদে প্রতিষ্টিত তারা এই বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন অথবা পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেন? NCFB এর এই বিষযে মনে করি যথেষ্ট ভুমিকা থাকা প্রয়োজন। অন্তত দুই এক মাস পরপর ধর্মতত্বের বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার করলে আমরা যারা তরুন ধর্মতত্বের বিষয়ে আগ্রহী আমরা খুবই উপকৃত হতাম। যাইহো এখন মূল বিষয়ে একটু কিছু লিখতে চাই। ‘‘বাপ্তিস্ম’’ বিষয়টি বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ন ইস্যু। কিছুদিন আগে আমার কয়েকজন বন্ধুরা ঝগড়া করছিল যে, প্রকাশ্যে বাপ্তিস্মের দরকার আছে কি না? বা বাপ্তিস্ম না নিলে স্বর্গে যেতে পারব কি না? জলে ডুবিয়ে বাপ্তিস্ম ঠিক না জল ছিটিয়ে বাপ্তিস্ম ঠিক? ইত্যাদি। আমার স্বপ্ল জ্ঞানে এই বিষয়ে উত্তর পেতে সমস্যা হয়নি কার বাবেলে যীশু নিজে বলেছেন ‘‘যদি কেহ জল ও আত্না হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পাওে না’’ যোহন: ৩:৫পদ। সুতারাং বাপ্তিস্মের প্রয়োজনীয়তা যে আছে সেটা বোধ হয় আমরা অস্বকার করতে পারি না। বাপ্তিস্মের আগমন বা উৎপত্তি যে ভাবে হোক না কেন এর প্রয়োজনীয়তা নি:সন্দেহে খ্রীষ্ট ধর্মে আছে। প্রেরিত পৌল লিখেছেন ‘‘কারন লোকে হৃদয়ে বিশ্বাস কওে ধার্ম্মিকতার জন্য এবং মুখে স্বীকার করে, পরিত্রানের জন্য’’ রোমীয় ১০:১০। আমার বিশ্বাস বাপ্তিস্ম হল মুখে স্বীকার করার চিহ্ন।

শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের লেখার ঐতিহাসিক কোন দ্বিমত আমার নেই তবে আরেকটু যো করতে চাই। বিখ্যাত লেখক Robert Jones বাপ্তিস্ম সম্পার্কে তার থিসিস ‘‘ A Brief History of Christian Baptism: From John the Baptist to John Smyth’’ এ পুরাতন নিয়মে বাপ্তিস্ম সম্পার্কে লিখেছেন ‘‘ While there is no explicit reference to baptism in the Old Testament as we understand it in the Christian sense, there are references to various elements that will eventually assert themselves in Christian baptism, such as the use of water for ceremonial purification, the pouring out of the Holy Spirit on individuals, and (possibly)...circumcision.’’ Calvin এই সম্পর্কে তার ‘‘ Christian Institutes ’’ বই এ লিখেছেন ‘‘ Hence it is incontrovertible, that baptism has been substituted for circumcision, and performs the same office. (Calvin, "Christian Institutes", p. 1473) আমরা পবিত্র বাইবেলে আদি: ১৭:১-১৪, যিশা: ৪৪:৩, যোয়েল ২:২৮-২৯, লেবী:১৬:৪,২৪, যিহি: ৩৬:২৫ এবং গীত ৫১:১-৩ পদে বাপ্তিস্মের লিং খুজে পাওয়া যায়।

২য় ও ৩য় শতাব্দীর প্রাচ্যদেশীয় মন্ডলীর খুব জনপ্রিয় বই ‘‘ The Shepherd of Hermas ’’ বাপ্তিস্মেও অর্থ সম্পার্কে লিখেছে ‘‘"...before a man bears the name of the Son of God he is dead; but when he receives the seal he lays aside his deadness, and obtains life. The seal, then, is the water: they descend into the water dead, and they arise alive." (The Shepherd of Hermas - Similitude IX, Chapter 16) এই ভাবে বাপ্তিস্ম সম্পার্কে অনেক অনেক তথ্য, বিশ্লেষন আমরা দেখতে পাই য আমাদেও বাপ্তিস্মেও ইতিহাস বুঝতে সহায়তা করে।

আমি জানি আমার এই লেখো গভীর সাগরে মুক্তা খোজার মত তথাপি আমি শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি একটি সুযোগ সৃস্টি করেছেন যেন কিছু গবেষনা ও লিখতে পারি। আমার বিশ্বা পরবর্তিতে এ বিষয়ে আরও লেখা, সেমিনার ও শক্তিশালী উপস্থাপনা আমরা তার কাছ থেকে পাব।

ধন্যবাদ
ট্যাগঃ বাপ্তিস্ম
দেখা হয়েছেঃ 133 2 টি মন্তব্য
Posted by রেভাঃ জেমস্‌ টি, হালদার
রেভাঃ জেমস্‌ টি, হালদার
রেভাঃ জেমস্‌ টি, হালদার তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 02 নভেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

আমাদের জীবনে অনেক ভাবেই আমরা 'আশ্চর্য' শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। অনেক সময় ব্যক্তির, ঘটনার, সময়ের, এমনকি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা করতে আমরা 'আশ্চর্য' শব্দ ব্যবহার করি। কিন্তু কখনও কি আমরা প্রভু যীশুর ক্ষেত্রে যাকে আমরা আমাদের মুক্তিদাতা হিসাবে জানি ও মানি তাঁর ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছি? এমনকি বিশেষ কিছু তাঁর মধ্যে দেখেছি যে তাঁকে 'আশ্চর্য' বলতে পারি? এখানে তাঁর ক্ষেত্রে কিছু 'আশ্চর্য' বিষয় তুলে ধরছি।

১) যীশু 'আশ্চর্য' ভবিষ্যদ্বাণীতে:
যীশু ছিলেন 'আশ্চর্য' যেভাবে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করেছিলেন। তাঁর জন্মের ৮০০ বছর পূর্বে নবী যিশাইয় তাঁর জন্ম সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তাছাড়া আরো অনেকেই ভাববাণী বলেছিলেন যীশুর জীবন ও কাজ সম্বন্ধে।যীশু তাঁর প্রথম আগমন সম্বন্ধে অন্তত ৩০০ ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করেছিলেন। তিনি যিহুদা বংশে জন্মগ্রহণ করবেন (আদি ৪৯:১০ পদ) ও যার রাজদণ্ড যাবে না যা ছিল যিশয়ের (যিশয়) বংশ (লূক ৩:২৩ - ৩২ পদ)। তাঁর জন্ম স্থান হবে বৈৎলেহমে (মীখা ৫:২ পদ) সে বিষয়েও বলা হয়েছিল। তাঁর সমস্ত জীবনকাল এবং বিশেষভাবে শেষ দুঃখভোগের বিষয় সমস্ত ভাববাণী (যিশা ৫৩ অধ্যায়) তিনি পূর্ণ করেছিলেন অক্ষরে অক্ষরে। এমনটি সাধারণত আর কারও ক্ষেত্রে হয়নি। যীশুর মত এমন আশ্চর্য মানুষ আর কেউই ছিলেন না এবং ভবিষ্যতে থাকার সম্ভাবনাও নেই। স্বর্গদূত সখরিয়কে বলেছিলেন যোহনের জন্মের বিষয় যিনি হবেন যীশুর অগ্রদূত ও পথ সংস্কারক হিসাবে।

২) যীশু 'আশ্চর্য' তাঁর জন্মে:
যীশু 'আশ্চর্য' ছিলেন তাঁর জন্মে। তিনি ছিলেন স্বর্গীয় বাবার মর্ত্যের মায়ের সন্তান।
ঈশ্বর মনোনীত করেছিলেন রাজপ্রাসাদের পরিবর্তে আস্তাবল, মখমলের বিছানার পরিবর্তে যাবপাত্র এবং ছোট্ট সুন্দর জামা-কাপড়ের পরিবর্তে সাধারণ ন্যাকড়া। রাজাদের রাজা হয়ে তিনি কোন হোটেলে জায়গা পান নি (লূক ২ঃ৭ পদ)।

ঈশ্বর মাংসে মূর্তিমান হলেন অর্থাৎ মানুষ হয়ে জন্ম নিলেন। অনন্তের ঈশ্বর যীশু নামে মানুষের আকার লাভ করলেন। মাংসের রূপ ধারণ করলেন কারণ তিনি অদৃশ্যকে দৃশ্যে, অনন্ত ঈশ্বরকে মানুষের মনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে প্রকাশ করলেন। পাপময় সমস্ত জগতের মুক্তির মূল্য দান করলেন (যোহন ১: ১৪ পদ)। মহাপুরোহিতের দ্বারা উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করলেন। মাংসে ঈশ্বরের প্রকাশ ছিল মহা অসাধারণ কাজ (ইব্রীয় ২: ১৭; ৪:১৪-১৫ পদ)। প্রকৃতির সাধারণ নিয়মের বাইরে এ জন্ম ছিল একটি অতি প্রাকৃতিক কাজ।

৩) যীশু 'আশ্চর্য' তাঁর জীবনে:
মানুষ যে ঈশ্বর হলেন তা নয় বরং ঈশ্বর মানুষ হলেন। যীশু সব সময়ই ঐশ্বরিক প্রকৃতির ছিলেন। মনুষ্যরূপ ধারণে তিনি মানবীয় প্রকৃতিও ধারণ করেন। প্রকৃতপক্ষে যীশু একশত ভাগ ঈশ্বর এবং একশত ভাগ মানুষ ছিলেন (ইব্রীয় ৫:৭-৮ পদ)। পৃথিবীতে তিনি ক্ষণকাল ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি 'আলফা' এবং 'ওমেগা'; প্রথম ও শেষ; শুরু ও সমাপ্তি (প্রকাশিত ২২: ১৩ পদ)। যীশু ছিলেন 'জীবন খাদ্য' (যোহন ৬: ৩৫ পদ) তথাপি তিনি ক্ষুধার্ত হতেন। তিনি ছিলেন জীবন জল (যোহন ৪:১৪ পদ) তথাপি তিনি তৃষ্ণার্ত হতেন। তিনি অন্যকে সান্ত্বনা দিতেন তথাপি এক সময় ছিল যখন তিনি কেঁদেছিলেন (যোহন ১১:৩৪-৩৫ পদ)। তিনি বৃহৎ জনতার কাছে কথা বললেও গাছের উপরে চড়া ব্যক্তিকে (লূক ১৯:৪ পদ) অথবা কূপের পাশে জল তুলতে আসা সাধারণ নারীকে (যোহন ৪:৬-৭ পদ) অবজ্ঞা করেন নি। তাই তাঁকে বলা হয়েছে 'আশ্চর্য' মন্ত্রী বা পরামর্শদাতা (যিশাইয় ৯: ৬ পদ)। যদিও তিনি নিজে কোন বই লিখেন নি তথাপি পৃথিবীর ছাপাখানাগুলো তাঁর বিষয় লিখে লিখে লাইব্রেরীর পর লাইব্রেরী গড়ে তুলেছে। তিনি কোন কলেজ স্থাপন করেন নি তথাপি পৃথিবীর পণ্ডিতগণ বলেন যে, যীশুর মত কেউ কথা বলেন নি। তিনি গৌরবের মুকুট পরিহার করে কাঁটার মুকুট পড়েছিলেন। তিনি রাজাদের রাজা হলেও রাজারাই তাঁকে মেরেছিল। তিনি অন্যের মরণযাত্রা থামিয়ে দিতেন (লূক ৪:১১-১৫ পদ)। কিন্তু কেউ তাঁর মরণযাত্রা থামাতে পারে নি। যীশু সমগ্র জীবন ধরে আশ্চর্য ছিলেন।

৪) যীশু 'আশ্চর্য' ছিলেন তাঁর মৃত্যুতে:
যীশুর মৃত্যুর ধরন কিরূপ হবে তা পূর্বেই বিস্তারিতভাবে বাইবেলের পুরাতন নিয়মে (নবীদের গ্রন্থে) বলা হয়েছে। তিনি স্ব-ইচ্ছায় মৃত্যুর জন্য জীবন সমর্পণ করেছিলেন (যোহন ১০:১৭-১৮ পদ)। তিনি আমাদের পাপের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন। তিনি নিজেকে আমাদের মুক্তির মূল্যরূপে বলিকৃত (কোরবান) হলেন এবং আমাদেরকে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্মিলিত করলেন। তাঁর মৃত্যু ছিল বিনিময়, মুক্তির মূল্য এবং আমাদের আরোগ্যের জন্য। অধার্মিকদের হাতে তিনি মরেছিলেন। প্রকৃতি বিদ্রোহ করেছিল যখন তিনি মারা যাচ্ছিলেন। সূর্য অন্ধকার হয়েছিল, মন্দিরের পর্দা চিরে গিয়েছিল, ভূমিকম্প হয়েছিল, পাথরগুলো ফেটে গেল, কবর খুলে গেল, মৃতেরা পুনরুত্থিত হয়েছিল। যীশু এসেছিলেন স্বর্গীয় সেবা ত্যাগ করে পৃথিবীর জ্বালা যন্ত্রণার মধ্যে। তিনি এসেছিলেন স্বর্গীয় মহিমা থেকে পৃথিবীর অপমান বহন করতে। তিনি এসেছিলেন স্বর্গীয় প্রাচুর্য থেকে পৃথিবীর দৈনতার মধ্যে। তিনি এসেছিলেন স্বর্গীয় মুকুট ত্যাগ করে পৃথিবীর ক্রুশ গ্রহণ করতে। তিনি এসেছিলেন স্বর্গীয় মহিমা থেকে পৃথিবীর অপমান বহন করতে। তিনি এসেছিলেন স্বর্গীয় উন্নত মহিমা থেকে পৃথিবীর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে। তিনি এসেছিলেন স্বর্গীয় সহভাগিতা থেকে পৃথিবীর বিরোধিতায়। তিনি এসেছিলেন স্বর্গীয় মহিমা থেকে মর্ত্যের ঘৃণায়।

৫) যীশু 'আশ্চর্য' তাঁর পুনরুত্থানে:
পীলাত (দেশাধ্যক্ষ) নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যেন কেউ যীশুর কবরে ঢুকতে বা বের হতে না পারে। তাই তিনি যীশুর কবর সীলগালা করেছিলেন এবং রোমান সৈন্যদের দ্বারা পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। তথাপি তিনি কবর থেকে উঠেছিলেন। তাই তিনি আশ্চর্য ছিলেন তাঁর পুনরুত্থানে কারণ তা ছিল সত্যই তুলনাহীন। যীশু মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন। যিনি আর কখনও মৃত্যুর জন্য নয়। তাঁর পুনরুত্থান তাঁর ঈশ্বরত্বের প্রমাণ করে। আমাদের ঈশ্বর হচ্ছেন জীবন্ত ঈশ্বর। খ্রীষ্টের পুনরুত্থান (ইস্টার) আমাদের খ্রীষ্টিয় বিশ্বাসের কোণের প্রস্তর হয়ে গেল।

পুনরুত্থান ছাড়া কোন সুখবর হতে পারে না। খ্রীষ্টধর্মের মহান বার্তা হচ্ছে পাপ ও মৃত্যুর উপরে খ্রীষ্টের মহান বিজয় লাভ। যীশু স্বর্গে চলে যাবার পূর্বে বিভিন্ন সময় তাঁর পুনরুত্থিত দেহ নিয়ে অনেককে দেখা দিয়েছিলেন। শাস্ত্রানুসারে যীশু পৃথিবীতে এসেছেন, মৃত্যু বরণ করেছেন, কবর প্রাপ্ত হয়েছেন এবং তৃতীয় দিনে মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছেন। যে কেহ তাঁতে বিশ্বাস করে, পাপ স্বীকার করে এবং যীশুকে ব্যক্তিগত ত্রাণকর্তা ও প্রভু বলে স্বীকার করে সে অনন্ত জীবন লাভ করে। এটাই আমাদের সংবাদ যা সমগ্র পৃথিবীকে বলতে হবে।

৬) যীশু ছিলেন 'আশ্চর্য' তাঁর বর্তমান কাজে
যীশু শুধুমাত্র প্যালেষ্টাইনে এক সময় ঘটে যাওয়া কোন স্মরণীয় আশ্চর্য ঘটনার কেউ নন। তিনি বলেছিলেন, 'আমার নামে যদি দুই কি তিনজন একত্র হয় তবে আমি তাহাদের মধ্যে আছি'। তাঁর উপস্থিতিতে আমাদের হৃদয় সব সময় উষ্ণ হয়। আমরা হয়তো প্লেনে চড়ে আকাশে উড়তে থাকি, অথবা গাড়ীতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাই অথবা সাধারণ রাস্তায় হাঁটি তথাপি আমরা নিশ্চিত থাকি যে, তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন। তিনি ইম্মানূয়েল, তিনি সব সময় আমাদের সঙ্গে আছেন।

তিনি নিজেকে নত করলেন, মৃত্যু পর্যন্ত, এমনকি ক্রুশীয় মৃত্যু পর্যন্ত বাধ্য থাকলেন। ঈশ্বর তাঁকে উচ্চে উন্নত করলেন এবং সকল নাম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নাম দিলেন যেন সকল জিহ্বা স্বীকার করে যীশু প্রভু (ফিলি ২ঃ৭-১১ পদ)। মানব মুক্তির কাজ শেষ করে তিনি পিতা ঈশ্বরের দক্ষিণ পাশে স্বর্গীয় মহিমায় ঈশ্বরের দক্ষিণ পাশে সিংহাসনে বসে আছেন। ¯^M© ও মর্ত্যের উপরে সমস্ত ক্ষমতা তাঁকে দত্ত হয়েছে (মথি ২৮:১৮ পদ)। তিনি সর্বেসর্বা, তিনি মহা পুরোহিত, তাঁর পুরোহিত্ব কখনও পরিবর্তিত নয়। তিনি সর্বদা আছেন। তিনি নিজের জন্য পক্ষ সমর্থন করেন। তিনি আমাদের পক্ষে পিতা ঈশ্বরের কাছে পক্ষ সমর্থনকারী (উকিল)। তিনি স্থানীয় মণ্ডলীর মস্তক। তাছাড়া বিশ্বজনীন মণ্ডলীর মস্তক হিসাবে পরিচালনা দান করেন।

৭) যীশু 'আশ্চর্য' তাঁর ভবিষ্যৎ কাজে:
যীশুর দ্বিতীয় আগমনের দ্বারা বর্তমানকালের শেষ হবে। যখন তুরীধ্বনী সহ যীশু আসবেন তখন যারা খ্রীষ্টে মরেছে তারা প্রথমে উঠবে এবং চোখের পলকে জীবিতেরা পরিবর্তিত হবে। আমরা এক সঙ্গে আকাশে যীশুর সঙ্গে মিলিত হব। প্রভু তাঁর নিজের লোকদের সংগ্রহ করতে আসবেন পরে জগতের ক্লেশ ভোগ শুরু হবে (১ থিষ ৪:১৩-১৭ পদ)।

খ্রীষ্ট যীশু সহস্র বছর রাজত্ব করতে আসবেন। তাঁর রাজত্বের সময় বিশ্বে শান্তি সমৃদ্ধি থাকবে। সহস্র বছর শেষে শয়তানকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং একটি যুদ্ধে শয়তান পরাজিত হবে এবং খ্রীষ্ট বিজয়ী হবেন, সাধুদের সহিত নতুন যিরূশালেমে থাকবেন। কি আশ্চর্য প্রতিজ্ঞা! কি আশ্চর্য ভবিষ্যৎ!

প্রকৃতপক্ষে যীশু ঈশ্বর থেকে মানবতার জন্য অতি আশ্চর্য দান। 'কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করলেন যে, আপনার এক জাত পুত্রকে দান করলেন, যেন, যে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়' (যোহন ৩: ১৬ পদ)।

যদি আমরা এই দান গ্রহণ করে না থাকি তবে এখনই কি গ্রহণ করতে পারি না?  বড়দিন বারে বারে আমাদের স্মরণ করায় ঈশ্বরের এই আশ্চর্য দানের কথা। আশা করি, আমাদের সকলের জন্য এই দান সুন্দর হবে এবং অর্থবহ হবে। তাছাড়া যারা এখনও এই আশ্চর্য দানের বিষয় জানে না তাদের জানাতে যেন ভুলে না যাই।

শুভ বড়দিন

ট্যাগঃ বড়দিন
দেখা হয়েছেঃ 225 0 টি মন্তব্য

তুলনামুলক বিশ্বাসের আলোচনা

Posted by জয় নোটন বাড়ৈ
জয় নোটন বাড়ৈ
Critic: "But the end of Deuteronomy says that no other prophet has risen in Israel like Moses, so it must...
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 25 অক্টোবর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

প্রথম কথা
আস্সালামু ওয়ালাইকুম, প্রিয় ভাই-বোনেরা সবার প্রথমে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ গ্রহন করবেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে কুশলেই আছেন। আমি ইমাম্ জয় এন বাড়ৈ আজ আপনাদের সামনে এমন একটি বিষয় উল্লেখ করতে যাচ্ছি যা হয়ত ইতিমধ্যে আপনারা জানেন বা অনেকের কাছে বিষয়টি নূতন হতে পারে। তবে আমি মহান্ করুনাময় আল্লাহ্ রববুল আ্লামিনের দরবারে মুনাজাত করি তিনি যেন আমাদেরকে এই বিষয় বুঝতে ও চিন্তা করতে তৌফিক দান করেন।
আমরা আমাদের ধর্মীয় জীবন যাপনে অনেক সময় সত্য নিয়ে আলোচনা করি না  বিভিন্ন কারণে, তাদের মধ্যে কয়েকটি কারণ এমন হতে পারে যে, আমরা ভয় পাই, আমরা এই বিষয়ে উদাসীন, আমরা জানি না আবার এমনও হতে পারে যে, সত্য জেনেও তা লোকদের সমানে তুলে ধরি না কারণ তাতে লোকেরা আমাকে অপমানিত করতে পারে বা সমাজে আমার সম্মান নষ্ট হবে। কিন্তু সত্য জেনেও অন্যকে না জানানো একটা পাপ। আল্ ইঞ্জিল বলে যে, ভাল কাজ করতে জেনেও যে তা না করে সে পাপ করে। আবার সুযোগ থাকার পরেও যে লোক সত্য জানতে আগ্রহী হন না, তিনিও নিশ্চই ভাল কাজ করলেন না।
একজন উম্মতে মুহাম্মদীর ঈমান আর একজন উম্মতে ঈসায়ীর ঈমানের মধ্যে কি অনেক পার্থক্য রয়েছে? আমরা কি একে অন্যের ঈমান নিয়ে আলোচনা করতে পারি? আর যদি আলোচনা করিই, তবে এটা কি আল্লাহর দৃষ্টিতে গুনাহের কাজ? এটা কি আপনার ঈমানকে ধংস করে দিতে পারে? এই ধরনের অনেক প্রশ্ন থেকে বা সন্দেহ থেকে আমরা এমন কিছু কিছু বিষয়কে এড়িয়ে যাই যে বিষয়গুলি আমাদের কখনই এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেছেন, ‘‘বল, হে আহলে কিতাব (কিতাবীগন)! তোমারা কোন পথের উপরই নহ্, যে পর্যন্ত না তোমরা তৌরাত, ইঞ্জিল ও তোমাদের রবব হইতে অবতীর্ণ কিতাবের অনুসরন কর, বস্ত্ততঃ তোমার রবব হইতে অবতীর্ণ বিষয়সমূহে অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরী বৃদ্ধির কারণ হয়, তাই তুমি কাফের দলের প্রতি আদৌ দুঃখিত হইও না। নিঃসন্দেহে মুসলমান ও ইহুদি, ছাবেয়ী ও নাসারা- যে আল্লাহ্ এবং পরকাল দিবসের প্রতি ঈমান আনিবে এবং সৎকার্য করিবে তবে এরুপ লোকদিগের না আছে কোন ভয়, না পরকালের আছে কোন চিন্তা।’’ আল্ কুরআন ৫:৬৮, ৬৯ আয়াত । এখানে আল্লাহ্ তাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, যাদেরকে পাক কিতাব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকেই অনুসরন করতে হবে, তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআন; আর যদি না করে তবে সে সেই ‘‘সিরাতুল মুস্তাকিমের’’ (আল্ কুরআন ১:৫ আয়াত) পথে নেই/ তার ঈমানের কোন ভিত্তিই নেই। আর মুসলমান, ইহুদি, ছাবেয়ী এবং ঈসায়ী (নাসারা) প্রত্যেককেই কিয়ামতের বিচার পার হবার জন্য এক আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান আনতে হবে। এখানে কোন বিশেষ ভেদাভেদ আল্লাহ রাখেন নি।
শুধু এই আয়াতেই নয় আমরা ধারাবহিক ভাবে এই কলাম পড়তে পড়তে এরকম আরও অনেক আয়াত পাব যেখানে নিজেকে নিয়ে ভাববার সুযোগ আপনার জীবনে এসে যাবে। আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন, আল্ কুরআন ৩:৬৪ আয়াতে - ‘‘তুমি বল, হে কিতাধারীগন! এস সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, আমরা আল্লাহ্ ছাড়া কারও এবাদত করি না, কোন কিছুকেই তার শরীক করি না  এবং আমাদের কেউ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাকেও পালন কর্তারুপে গ্রহন করব না। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা সাক্ষি থাক আমরা মুসলমান ’’ এখানে নবীজিকে বলা হয়েছে তুমি ইহুদি, ছাবেয়ী এবং ঈসায়ীদের কে আহবান কর এবং তাদের সঙ্গে সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা কর যা তাদের ও তোমাদের মধ্যে এক। আর তা হল- আমরা এক আল্লাহ্ ছাড়া আর কাউকে ইলাহ্ হিসাবে গ্রহন করি না। আমরা  কাউকে আল্লাহর শরীক করি না এবং করব না। এই আয়াত থেকে এটা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে কিতাবীরা কখনই অনেক আল্লাহে বিশ্বাস করে না। আবার তারা আখিরাতে বিশ্বাস করে এবং কাউকেই আল্লাহর শরীক করে না। তবে কেউ কেউ যে ঈমানের পথ থেকে সরে যায় নি এমনও নয়। তাবে একথা সব দলের জন্যই প্রযোজ্য। এখানে বলা হয়েছে, কোন কিছুকেই তার শরীক করি না এই কোন কিছুকেই শব্দটি কখনও শুধু দেবতা/মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার যায় না। আমরা যদি আল্লাহ্  এবং আমাদের মাঝখানে কোন কিছুকেই দাঁড় করাই অর্থাৎ কোন কিছুকেই আল্লাহর এবাদতের সঙ্গি করি তবে তাই হবে শরীক করা। তা হতে পারে আমার টাকা, বাড়ি, গাড়ী, স্ত্রী, সন্তান, প্রিয় কোন ব্যক্তি ইত্যাদি। আল্ কুরআন ৩:৯২ আয়াত বলে,  ‘‘তোমরা কখনও পূর্নতা অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষন না তোমাদের প্রিয় জিনিষ আল্লাহর পথে খরচ কর এবং তোমরা যা কিছু কর নিশ্চই আল্লাহ সে সম্বন্ধে অবহিত’’। আবার ২:২০৮ আয়াত বলে, ‘‘হে ঈমানদারগন! তোমরা পরিপূর্ন রুপে ইসলাম গ্রহন কর এবং শয়তানের পথ অনুসরন করো না। নিশ্চই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’’। এখানে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, একজন মানুষকে যদি ইসলাম গ্রহন করতে হয় তবে তাকে পূর্ণ রুপেই ইসলাম গ্রহন করতে হবে। আর পূর্ণ রুপে ইসলাম গ্রহন মানে প্রিয় জিনিষ গুলির চেয়েও আল্লাহকে বেশি ভালবাসতে হবে। কাউকেই তার এবাদতের সঙ্গি করা যাবে না।
তাহলে আমরা বুঝতে পারি যে, একজন ঈসায়ী যে আল্লাহর এবাদত করে একজন মুসলমানও সেই আল্লাহে এবাদত করে। সেই একই আল্লাহই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উপরই ওহী নাজিল করেছেন। কারণ আল্লাহ বলেছেন, ‘‘এবং নিশ্চয় মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে ধারাবাহিকভাবে রাসূলগনকে পাঠিয়েছি, মরিয়ম পুত্র ঈসাকে স্পষ্ট প্রমান দিয়েছি এবং পবিত্র আত্মা দ্বারা তাঁর শক্তি বৃদ্ধি করেছি। তবে কি যখনই কোন রাসূল এমন কিছু এনেছে যা তোমাদের মনঃপুত হয় নি তখনই তোমরা অহংকার করেছ এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং কতককে হত্যা করছে’’। আল্ কুরআন ২:৮৭ আয়াত।
আবার, ‘‘আর কুরআন আল্লাহ ছাড়া কেহর রচনা নহে, পক্ষান্তরে ইহা ইহার পূর্বাবর্তীর্ণের সমর্থক এবং এতে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ নাই, ইহা বিশ্ব পালকের বিধানের বিশদ ব্যাখ্যা’’, আল্ কুরআন ১০:৩৭ আয়াত।
উপরোক্ত আয়াত দুটির প্রথমটির মাধ্যমে আমরা আল্লাহর একটা বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে জানতে পারলাম যে, আল্লাহ ধারাবাহিক ভাবে নবী-রসূলদের পাঠিয়েছেন। এর অর্থ এই দাড়ায় যে, আল্লাহ্ বিনা উদ্দেশ্যে নবী-রসূলদের এই পৃথিবীতে পাঠান নি এবং এর উপযুক্ত কারণ ও উদ্দেশ্য রয়েছে। তাই তিনি প্রতিটি নবী-রসূলকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন এবং সাবধান করেছেন যেন তারা তাদের সীমা লঙ্গন না করেন, আল্লাহই সমস্ত বিষয়ের সাক্ষি রইলেন। আল্লাহ্ এক একজন নবী-রসূলকে দিয়ে পৃথিবীতে এক একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করেন নি, কিন্তু একটি ঈমানের পথে তিনি বিভিন্ন নবী-রসূলকে তাদের দায়িত্ব পালন করিয়েছেন। আর তা হল, ‘‘তাওহীদের পথে’’ লোকদের কে আহবান করা। এই কারণে, আদ্ সম্প্রদায়ের কাছে নবী হূদের কাজের কথা বলতে গিয়ে, মুফতী মাওলানা আবদুছ ছালাম সাহেব (মোফাচ্ছিরে কোরআন ঢাকা) তার তাফসিরে বলেছেন, ‘‘আসল কথা এই যে, সকল নবীর শিক্ষার মূলগত বিষয় হল তাওহীদ। কাজেই এক রাসূলকে অমান্য করিলে সকল রাসূলকে অমান্য করা হয়’’।
এই আলোচনা থেকে এটা আমাদের কাছে স্পষ্ট এই যে, আমরা আমাদের দ্বীনের প্রয়োজনেই পূর্ববর্তী কিতাব নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু আমাদের জীবনে অনেক বার আমরা এই বিষয়টির বিরোধীতা শুনেছি বিভিন্ন যুক্তির দ্বারা। কিন্তু আসল বিষয় আমরা জানি না। আমরা সেই বিষয়ে পরে আমাদের পাঠে আলোচনা করব। কিন্তু মনে রাখুন, আল্লাহর কাছে বিভিন্ন ধর্ম নেই, আর তিনি বিভিন্ন ধর্ম কে প্রতিষ্ঠাও করেন নি। তিনি হযরত (সাঃ) কে বলেছেন, ‘‘তোমাদের জন্য সেই দ্বীনই বিধিবদ্ধ করিয়াছি, যাতে নূহ ছিল আদিষ্ট, আমি তো তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছি এবং সে সমন্ধে আমি ইব্রাহিম, মূসা ও ঈসাকে আদেশ করিয়াছিলাম; তোমরা সেই ধর্মই প্রতিষ্ঠা করিবে, এতে মতানৈক্য করিও না; তুমি যার প্রতি এদিগকে ডাক, মুশরিকদের তা অসহনীয়; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে মনোনীত করেন এবং যে তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে তিনি তাকে পথ দেখান।’’ আল্ কুরআন ৪২:১৩ আয়াত। তাহলে আমরা এটা বুঝতে পারি যে, ইসলাম কোন নূতন ধর্ম নয়, আর হযরত (সাঃ) এই ধর্মেও প্রবর্তকও নয়। এই ‘‘ইসলামই’’ সৃষ্টির শুরুতে ছিল। আর হযরত (সাঃ) হল এই ধর্মের একজন রাসূল যাকে আরবী ভাষাভাষী লোকদের জন্য প্রত্যাদেশ করা হয়েছে, আর এই প্রত্যাদেশ/ওহী শব্দের অর্থ হল ‘পুনঃ প্রকাশ’। যা আগেই বলা হয়েছে নুতন করে তাইই অন্যকারও জন্য বা একই লোকদের জন্য প্রকাশ করা। তাই আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন, ‘‘এই ভাবে আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় যাহাতে তুমি সতর্ক করিতে পার মক্কা ও উহার চতুর্দিকের জনগনকে এবং সতর্ক করিতে পার কিয়ামত দিবস সম্পর্কে, যাহাতে কোন সন্দেহ নাই। সেই দিন একদল জান্নাতে প্রবেশ করিবে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করিবে।’’ আল্ কুরআন ৪২:৭ আয়াত
পরবর্তীতে পাঠে আমরা আল্ কুরআন অবতীর্ণ হবার কারণ স্পষ্ট রুপে জানতে পারবো। তবে এটা মোটামুটি পরিষ্কার যে একজন ঈসায়ী এবং একজন মুহাম্মদী এই দুই উম্মতরে মধ্যে মুলত আল্লাহর দিক থেকে কোর পার্থক্য নাই। দুজনেই ইসলামের অনুসারী এবং মুসলমান। কারণ আল্ কুরআন ৩:৫২ আয়াত বলে, ‘‘অনন্তর ঈসা ওদের হইতে অবিশ্বাসের উপলব্ধি করিলে বলিলেন, আল্লাহর রাহে কারা আমার সাহায্যকারী? হাওয়ারীরা বলিল, আমরাই সাহায্যকারী, আমরা আল্লাহে বিশ্বাসী, আমরা মুসলমান, সাক্ষি থাক।’’ ( হাওয়ারী- যারা ঈসার খাস্ উম্মত)।
আল্ কুরআন ৩:৬৪ আয়াতে - ‘‘তুমি বল, হে কিতাধারীগন! এস সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, আমরা আল্লাহ্ ছাড়া কারও এবাদত করি না, কোন কিছুকেই তার শরীক করি না  এবং আমাদের কেউ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাকেও পালন কর্তারুপে গ্রহন করব না। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা সাক্ষি থাক আমরা মুসলমান ’’
আর যেটুকু পার্থক্য দেখা যায় তা আল্লাহরই ইচ্ছাতেই,  ‘‘তোমার প্রতি সত্যতায় বিভূষীত এই কিতাব উহার পূর্ববর্তী কিতাব সমুহের সমর্থক ও তার সংরক্ষকরুপে নাজিল করিয়াছি, সুতরাং আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান মত ওদের মীমাংসা করিও এবং অনুসরন করিও না সত্য আগমানের পরে তাহাদের খেয়াল-খুশির; তোমাদের প্রত্যেক দলের জন্য করিয়াছি এক একটি শরীয়ত, একটি পন্থা; আল্লাহ ইচ্ছা করিলে তোমাদের অভিন্ন উম্মত করিতে পারিতেন, কিন্তু তোমাদিগকে প্রদত্ত ধর্ম বিধান পরীক্ষা কল্পে তা করেন নাই, তাই তৎপর হও ভাল কাজে; তোমাদের সকলকে আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে; পরে করা হইবে অবহিত যাতে বিরোধ করিতেছ।’’ আল্ কুরআন ৫:৪৮ আয়াত
তাই আমরা কেন বিরোধ করছি? আমাদের তো বিরোধ করার কিছু নেই। আল্লাহপাক্ আল্ কুরআনে সব সময়ই চেয়েছেন যেন সমস্ত কিতাবীরা একই ঐক্যে বসবাস করে এবং যেন তারা দ্বীনের আলোচনা করেন । আর তাদের মধ্যে যে বিরোধ শুরু হয়েছে তা তিনি নিজেই মিটিয়ে দেবার দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই আমরা উপরে দেখেছি ২:৬৪ আয়াতে সেই আহবান জানানো হয়েছে। এমন কি হযরত (সাঃ) কে বলা হয়েছে, ‘‘আমি তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ  করিয়াছি উহাতে যদি তুমি সন্দেহে থাক তবে তোমার পূর্বের কিতাব যাহারা পাঠ করে তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর; তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার নিকট সত্য অবশ্যই আসিয়াছে্ তুমি কখনও সন্দিগ্ধচিত্তদের অর্ন্তভুক্ত হইও না, এবং হইও না যারা আমার আয়াত অস্বীকার করে তাদের দলের- হইলে হইবে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্ন্তভুক্ত।’’ আল্ কুরআন ১০:৯৪,৯৫ আয়াত।

এখানে আমরা আর আলোচনা বাড়াতে চাই না। আশা করি পরবর্তীতে আমরা ধারাবাহিক ভাকে সব কিছু শিক্ষা লাভ করতে পারবো। উপরোক্ত আলোচনা এই জন্যই করলাম যেন আপনি একটা প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে আমাদের এই পাঠে মনো যোগ দিতে পারেন। আশার করি আমার প্রয়াস সার্থ্যক হবে। কারণ ভয় নিয়ে আপনি কখনও ভাল কিছু শিখাতে পারবেন না আর সন্দেহ নিয়ে আপনি মনোযোগ দিতে পারবেন না। আশা করি আল্লাহর কালাম আপনার সেই ভয় দুর করে  ঈমানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আসুন আমরা এই মুনাজাত করি, ‘হে দ্বীন-দুনিয়ার মালিক আল্লাহ রাববুল আলামিন তোমার দরবারে হাজার শুকরিয়া জানাই যে তুমি আমাকে এমন একটি বই পাঠের সুযোগ করে দিয়েছ যা আমার ঈমান কে পূর্ণ করে দেবে। আমাকে নিয়ে যাবে সেই ‘‘সিরাতুল মুস্তাকিমের’’ (আল্ কুরআন ১:৫ আয়াত) পথে যেন তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে পারি। এখানে এসে আমি আবার নূতন করে নিজেকে চিনতে পারবো জানতে পারবো আমাকে নিয়ে তোমার পরিকল্পনা কি। কাফির আর মোনাফেকদের পথে না দিয়ে যেন তোমার হিদায়েতের নূরের কাছে পৌছাতে পারি। আমার বিবেচনা বুদ্ধি খুলে দাও যেন বিচার করতে পারি, সত্যকে বুঝতে পারি আর তাকে ধারন করতে পারি। আমিন।
আশা করি আপনাদের মন্তব্য পেলে আগামীতে প্রকাশ করতে এগিয়ে আসবো।

ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
দেখা হয়েছেঃ 82 0 টি মন্তব্য

প্রভুর প্রার্থনা

Posted by রোজলেন্ট চৌধুরী
রোজলেন্ট চৌধুরী
wish i can cooking like my mother......
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 16 অক্টোবর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ,
তোমার নাম পবিত্র বলিয়া মান্য হউক,
তোমার রাজ্য আইসুক,
তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হউক,
যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও হউক;
আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য আজ আমাদিগকে দেও;
আর আমাদের অপরাধ সকল ক্ষমা কর,
যেমন আমরাও আপন আপন অপরাধীদিগকে ক্ষমা করিয়াছে;
আর আমাদিগকে পরীক্ষাতে আনিও না,
কিন্তু মন্দ হইতে রক্ষা কর।
কারণ রাজ্য, পরাক্রম ও মহিমা যুগে যুগে তোমার। আমেন্‌।

ট্যাগঃ বাইবেল
দেখা হয়েছেঃ 140 1 টি মন্তব্য

আপনার বিশ্বাস নিয়ে লজ্জিত হবেন না - বাইবেল পদের তালিকা

Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
God did not give us a spirit of fear.
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 15 অক্টোবর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

সেইভাবে তোমাদের আলো লোকদের সামনে জ্বলুক, যেন তারা তোমাদের ভাল কাজ দেখে তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার গৌরব করে।
মথি ৫:১৬পদ

এই কালের অবিশ্বস্ত ও পাপী লোকদের মধ্যে যদি কেউ আমাকে নিয়ে আর আমার কথা নিয়ে লজ্জাবোধ করে, তবে মনুষ্যপুত্র যখন পবিত্র দূতদের সংগে করে তাঁর পিতার মহিমায় আসবেন, তখন তিনিও সেই লোকের সম্বন্ধে লজ্জাবোধ করবেন।
মার্ক ৮:৩৮পদ

যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে এই যে সুখবর তাতে আমার কোন লজ্জা নেই, কারণ এই সুখবরই হল ঈশ্বরের শক্তি যার দ্বারা তিনি সব বিশ্বাসীদের পাপ থেকে উদ্ধার করেন-প্রথমে যিহূদীদের, তারপর অযিহূদীদের।
রোমীয় ১:১৬পদ

এইজন্যই আমি এই সব কষ্ট ভোগ করছি; তবুও আমি লজ্জিত নই, কারণ আমি জানি আমি কার উপর নির্ভর করেছি। আমি নিশ্চয় করে জানি যে, আমি তাঁর কাছে যা রেখেছি খ্রীষ্টের আসবার দিনের জন্য তা রক্ষা করবার ক্ষমতা তাঁর আছে।
২ তিমথী ১:১২পদ

যিনি লোকদের পবিত্র করেন সেই যীশু নিজে এবং যাদের তিনি পবিত্র করেন সেই লোকেরা সকলেই ঈশ্বরের পরিবারের লোক। এইজন্য যীশু সেই লোকদের ভাই বলে ডাকতে লজ্জা পান না।
ইব্রীয় ২:১১পদ

কিন্তু তাঁরা আরও ভাল একটা দেশের, অর্থাৎ স্বর্গের খোঁজ করছিলেন। সেইজন্যই ঈশ্বর নিজেকে তাঁদের ঈশ্বর বলতে লজ্জা বোধ করেন না, কারণ তিনি তাঁদেরই জন্য একটা শহর তৈরী করেছিলেন।
ইব্রীয় ১১:১৬পদ

ট্যাগঃ বাইবেল
দেখা হয়েছেঃ 124 0 টি মন্তব্য

প্রৈরিতিক বিশ্বাস সূত্র

Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
God did not give us a spirit of fear.
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 12 অক্টোবর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, যিনি স্বর্গ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা ও সর্বশক্তিমান পিতা।

এবং তাঁহার একমাত্র পুত্র আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টে যিনি পবিত্র আত্মা দ্বারা গর্ভস্থ হইলেন, কুমারী মরিয়ম হইতে জন্মিলেন, পন্তীয় পীলাতের সময়ে দুঃখ ভোগ করিলেন, ক্রুশবিদ্ধ হইলেন, মরিলেন ও কবরস্থ হইলেন, পরলোকে নামিলেন; তৃতীয় দিবসে মৃতদের মধ্য হইতে পুনরায় উঠিলেন, স্বর্গে আরোহণ করিলেন এবং সর্বশক্তিমান পিতা ঈশ্বরের দক্ষিণ পার্শ্বে বসিয়া আছেন; তথা হইতে জীবিত ও মৃতদের বিচার করিতে আসিবেন।

আমি পবিত্র আত্মায় পবিত্র বিশ্বব্যাপী মন্ডলীতে, সাধুদের সহভাগিতায়, পাপমোচনে, শরীরের পুনরুত্থানে ও অনন্ত জীবনে বিশ্বাস করি। আমেন।

ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
দেখা হয়েছেঃ 116 0 টি মন্তব্য
Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
God did not give us a spirit of fear.
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 30 সেপ্টেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

বাইবেল ও বিজ্ঞানবিজ্ঞান সবসময় প্রমাণে বিশ্বাস করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই মহাবিশ্বের সব বিস্ময়কর সত্যকে আমাদের সামনে তুলে ধরে। কিন্তু বাইবেল এমন এক বিস্ময়কর বই, যেখানে এই ধরনের অনেক সত্যই বৈজ্ঞানিকদের গবেষণার অনেক আগে থেকেই লিপিবদ্ধ আছে। আসুন এই ধরনের কিছু সত্য সম্পর্কে জানি:


১। পৃথিবী মহাকাশে শূন্যে ভাসে (ইয়োব ২৬:৭), শুধুমাত্র মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যেখানে অন্যরা বলে পৃথিবী একটি বিশাল হাতি বা কচ্ছপের পিঠে বসানো আছে। একমাত্র বাইবেলের লেখাই এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য “শূন্যের মধ্যে পৃথিবীকে ঝুলিয়ে রেখেছেন”।


২। সমস্ত সৃষ্টিই এমন কণিকা দ্বারা গঠিত যা চোখে দেখা যায় না (ইব্রীয় ১১:৩)। ১৯ শতকের পর বিজ্ঞান আবিষ্কার করে যে, চোখে দেখা সব জিনিষই এমন ছোট কণিকা দ্বারা গঠিত, যা চোখে দেখা যায় না।


৩। বাইবেলে জলযানের জন্য একটি নিখুঁত আকৃতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে (আদি ৬:১৫)। বর্তমান সময়ের জাহাজ নির্মাতারা খুব ভালো করেই জানেন যে, প্রস্থের ছয়গুণ দৈর্ঘ্যই জাহাজের জন্য একটি আদর্শ মাপ। ঈশ্বর নোহকে প্রায় ৪,৫০০ বছর আগে এই মাপেই জাহাজ তৈরি করতে বলেছিলেন।


৪। রোগ-ব্যাধি হলে জামা কাপড় ধোয়া ও স্নানের জন্য স্রোতের পানি ব্যবহার করতে হবে (লেবীয় ১৫:১৩)। শত বছর ধরে মানুষ নির্দিষ্ট স্থানে দাড়িয়ে থাকা পানি ব্যবহার করেই অভ্যস্ত। কিন্তু বিজ্ঞান এখন আবিষ্কার করেছে যে, স্রোতের পানি তুলনামূলক পরিষ্কার এবং রোগীদের স্নান ও কাপড় ধোয়ার জন্য পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা উচিৎ, যাতে রোগ জীবাণু ধুয়ে যায়।

...
ট্যাগঃ তথ্য, বাইবেল
দেখা হয়েছেঃ 454 3 টি মন্তব্য

বাইবেলের কিছু মজার তথ্য

Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
God did not give us a spirit of fear.
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 29 সেপ্টেম্বর 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

Bibleবাইবেলে মোট অধ্যায় - ১১৮৯টি।
পুরাতন নিয়মে মোট অধ্যায় - ৯২৯টি।
নতুন নিয়মে মোট অধ্যায় – ২৬০টি।
দীর্ঘতম অধ্যায় – গীতসংহিতা ১১৯।
ক্ষুদ্রতম অধ্যায় – গীতসংহিতা ১১৭।
মধ্য অধ্যায় – গীতসংহিতা ১১৮।
মধ্য পদ – গীতসংহিতা ১১৮:৮।
সান্ত্বনাদানকারী অধ্যায় – গীত ২৩, যোহন ১৪।
ভালবাসার অধ্যায় – ১ করিন্থীয় ১৩।
বিশ্বাসের অধ্যায় – ইব্রীয় ১১।
নতুন নিয়মের গঠন – প্রেরিত ২ অধ্যায়।
সদৃশ অধ্যায় – ২ রাজাবলী ১৯ এবং যিশাইয় ৩৭।
দীর্ঘতম পদ – ইষ্টের ৮:৯ পদ।
ক্ষুদ্রতম পদ – যোহন ১১:৩৫ পদ।
প্রথম ইংরেজী ভাষায় বাইবেল প্রকাশিত হয় ১৩৮০ সালে।
অধ্যায় বিভক্তি হয় ১২২৭ সালে।
যে শব্দগুলি বাইবেলে একবার ব্যবহার করা হয়েছেঃ দিদিমা (২তিমথী ১:৫)

ট্যাগঃ তথ্য, বাইবেল
দেখা হয়েছেঃ 247 1 টি মন্তব্য
Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
God did not give us a spirit of fear.
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 12 আগস্ট 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

ইস্রায়েলের এরাবা শহরের ২০ মাইল উত্তরে তিমনা পার্কে একটি পূর্নাকার সমাগম তাম্বুর মডেল তৈরি করা আছে। শুধুমাত্র ধাতুগুলি অর্থাৎ, সোনা, রুপা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি ব্যবহার না করে বাকি সমস্ত কিছুই সম্পূর্ণ বাইবেলের বিবরনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।


পূর্নাকার সমাগম তাম্বুর মডেল


সমাগম তাম্বুর উঠান


পবিত্র স্থান


সমাগম তাম্বুর টেবিল


ধূপের বেদি


নিয়ম সিন্দুক

{jathumbnail off}

ট্যাগঃ তথ্য
দেখা হয়েছেঃ 247 0 টি মন্তব্য
Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 05 আগস্ট 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

যিরূশালেমে যীশু খ্রীষ্ট যেখানে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং সমাধিস্থ হয়েছিলেন তার কয়েকটি চিত্রঃ


“চার্চ অফ দা হোলি সেপুলচার” কন্সটেন্টাইন ৩৩০ এ.ডি–তে স্থাপন করেন।
এটি যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশবিদ্ধের এবং সমাধির স্মৃতি ধরে রেখেছে ।


“চার্চ অফ দা হোলি সেপুলচার” এর প্রবেশপথ


এই স্থানেই যীশুকে ক্রুশে দেয়া হয়েছিল


যীশু খ্রীষ্টের সমাধী স্থান

...
ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
দেখা হয়েছেঃ 219 0 টি মন্তব্য

আপনার মিশন শুরু করুন এখন থেকেই

Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 03 আগস্ট 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৬০০ কোটি মানুষের বসবাস রয়েছে । এদের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ লোক আজও সুসমাচারের বার্তা শুনতে পায় নি । এদের মধ্যে অধিকাংশই ১০/৪০ জানালার মধ্যে বসবাস করে । এই জানালাটি পৃথিবীর ১০ এবং ৪০ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত । এটি সমগ্র পশ্চিম আফ্রিকা এবং এশিয়া জুড়ে অবস্থিত । এই জানালার মধ্যে বিশ্বের মাত্র ৫% মিশনারি কাজ করছে কিন্তু যেখানে খ্রীষ্টিয় সাক্ষ্য বেশি সেখানে ৯৫% মিশনারি কাজ করছে । এই পরিসংখান থেকে আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি যে খ্রীষ্টের শেষ আদেশটি পরিপূর্ণ করতে চাইলে কোথায় আমাদের শক্তি নিয়োগ করা প্রয়োজন,যেন আমরা আমাদের প্রজন্মের মধ্যে সমস্ত মানুষের কাছে সুসমাচার পৌঁছাতে পারি ।

যীশুর আদেশ “এইজন্য তোমরা গিয়ে সমস্ত জাতির লোকদের আমার শিষ্য কর।” - মথি ২৮:১৯

এই আদেশ থেকে আমরা "জাতি" শব্দটি খুজে পাই । এখানে জাতি বলতে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে বোঝাচ্ছে যাদের একটি নির্দিষ্ট ভাষা এবং নির্দিষ্ট সংস্কৃতি রয়েছে । আমাদের এই পৃথিবীতে প্রায় ১৩,৬০০টি জাতিগোষ্ঠী রয়েছে । এর মধ্যে ৬৬০০টি জাতি এখনও অনধিকৃত অর্থাৎ এখনও ৬৬০০টি জাতির কাছে খ্রীষ্টের বাণী পৌছায় নি। পরিসংখানে দেখা যায় যে বর্তমানে ভাল খ্রীষ্টিয়ানের সংখ্যা মাত্র ১১%, সাধারণ খ্রীষ্টিয়ানের সংখ্যা ২০%, নন খ্রীষ্টিয়ান আয়ত্তের মধ্যে ৩৬%, নন খ্রীষ্টিয়ান অনধিকৃত ৩৩% । আর বর্তমানে মন্ডলীর ব্যয় এর দিকে তাকালে দেখা যাবে যে, মন্ডলীগুলো তাদের সর্বমোট ব্যয় এর ৯৫% ব্যয় করে তাদের অভ্যন্তরীন প্রজেক্টের জন্য, সাধারণ মিশনের জন্য ব্যয় করে ৪.৫% এবং অগ্রজ মিশনের জন্য মাত্র ০.৫% । এর ভয়াবহতা একবার চিন্তা করে দেখুন । আবার পৃথিবীতে ৬৭০৩ টি মৌখিক ভাষা রয়েছে । এর মধ্যে মাত্র ৪০৫টি ভাষায় বাইবেল অনুবাদ হয়েছে এবং বাইবেলের প্রায় ৫০০ রকম অনুবাদ রয়েছে ইংরেজীতেই ।

আমরা যাকে ১০/৪০ জানালা বলি, অর্থাৎ ১০ এবং ৪০ অক্ষাংশের দেশগুলোর চিত্র নিচে তুলে ধরা হলঃ

১.   বিশ্বের অধিকাংশ অনধিকৃত জাতিগোষ্ঠী (প্রায় ৮৫%) এখানে বাস করে ।
২.   বিশ্বের মুসলমান, হিন্দু এবং বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ এখানে বাস করে ।
৩.  ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের বেশী দারিদ্র সীমার নিচে ।
৪.  সবচেয়ে ভয়াবহ শয়তানের দুর্গের অবস্থান যা বিশ্বের ২/৩ ভাগ আত্মিক, শারীরিক এবং সরঞ্জামগত দারিদ্রতার জন্য দায়ী।
৫.  অনধিকৃত এসব জাতিগোষ্ঠীর মাঝে খুব কম সংখ্যক মিশনারী কাজ করছে ।

...
ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
দেখা হয়েছেঃ 84 0 টি মন্তব্য

শিশুদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে ৩৩টি উপায়

Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 23 জুলাই 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

১. পার্থিব জগতে বাস করতে গিয়ে জীবনে ঈশ্বরের গুরুত্ব কত তা দেখান
আমরা আমাদের প্রচার, শিক্ষা ও জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে তা করতে পারি
২. আদর্শ খ্রীষ্টিয়ান পরিবার
আদর্শ খ্রীষ্টিয় পরিবার তৈরী করার জন্য সময়, অর্থ ও সামর্থ বিনিয়োগ করুন
৩. একে অপরের ভার বহন করার মধ্য দিয়ে মন্ডলীকে গড়ে তুলুন
৪. শিশুদেরকে পরামর্শ দেবার পদ্ধতি তৈরী করুন
৫. যে কোন প্রশ্নের উত্তর হিসাবে বাইবেল ব্যবহার করুন
৬. ভগ্ন পরিবারের শিশুদের বিশেষ সহায়তা বা সেবা দিন
৭. মান্ডলীক জীবনে প্রতিটি স্তরে শিশুদের লালন-পালন বা যত্ম নিন
৮. মন্ডলীর নেতাদের পারিবারিক পবিত্রতার উপর জোর দিন
৯. শিশুদের সম্ভাবনা দেখতে আপনার নিজেকে প্রশিক্ষণ দিন
১০. পার্থিব ও ঈশ্বরীয় পরিবার একই সরল রেখায় স্থাপন বা তৈরী করুন
১১. যে সব পরিবার এখনো যীশুকে জানে না তদের কাছে শক্তিশালী বহিঃপ্রচারের ব্যবস্থা করুন
১২. অতিরিক্ত কার্যক্রম (ব্যাস্ততা) এড়িয়ে যান
মন্ডলীতে নির্দিষ্ট বয়স ভিত্তিক কার্যক্রম শিশুদের পরিচর্যায় সহায়ক তবে তা তাদের পারিবারিক প্রয়োজনীয় সময়ের সাথে ভারসম্যপূর্ণ হতে হবে
১৩. এমন কার্যক্রমের আয়োজন করুন যেখানে সকল পরিবার একসাথে যোগদান করতে পারে
১৪. অভিভাবকদের মধ্য থেকে পৃষ্টপোষক দল তৈরী করুন
১৫. মন্ডলীতে শিশুদেরকে কি শিক্ষা দেওয়া হচেছ তা পিতামাতাদেরকে অবহিত করুন
১৬. বিদ্রোহীমূলক শিশুদের পিতামাতার ভার বহন করুন
১৭. আপনার শিশু শিক্ষা কার্যক্রম উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করুন
১৮. আপনার এলাকার শিশুদেরকে আন্তর্জাতিক বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করুন
১৯. শিশুদের জন্য প্রার্থনা করতে অনুরোধ জানিয়ে লোকদের নিকট বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনার কাগজ দিন
২০. বিবাহ পূর্ব কাজ সংক্রান্ত উপযুক্ত পরামর্শ প্রদান করুন
২১. শিক্ষা দিয়ে ও সার্বিক ভাবে সাহায্য করতে নতুন দম্পতিকে আপনার যত্মের মধ্যে রাখুন
২২. বিশ্বস্ততার ক্লান্তি এড়িয়ে চলুন
২৩. আপনার পরিচর্যা দলের উন্নয়ন কাজ অব্যহত রাখুন
২৪. যে সমস্ত পরিবারে অস্বাভাবিক শিশু (প্রতিবন্দি) আছে সেই সমস্ত পরিবার নিয়ে বিশেষ কোন আয়োজন করুন
২৫. সকল পিতামাতাদেরকে নিয়ে নিয়মিত ভাবে ক্লাশের ব্যবস্থা করুন
২৬. ব্যক্তিকে ঈশ্বরের পরিবারের সাথে সংযুক্ত করুন
২৭. শিশুদেরকে সমস্ত প্রকার পরিচর্য়া দিন
২৮. আত্মিক অনুষ্ঠানের উপর জোর দিন
বিবাহ, বাপ্তিস্ম, প্রভুর ভোজ এবং মন্ডলীর নতুন সদস্য/সদস্যাদের অভ্যর্থনা ইত্যাদি। বড় বড় অনুষ্ঠানে শিশুদেরকে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে দিন, বিশেষত যারা শিশুদের সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের জন্য এই অনুষ্ঠানগুলি করুন।
২৯. শিশুদের কাছে শিশুদের উপযোগী প্রচার (শিক্ষা/সারমন) দিন
৩০. মন্ডলীকে শিশুদের বন্ধু ভাবাপন্ন করে গড়ে তুলুন
৩১. পারিবারিক জীবনের দক্ষতা সম্পর্কে পরিবারগুলিকে প্রশিক্ষণ দিন
৩২. কিশোর-কিশোরীদের সকল মন্দতা থেকে বিরত থাকার উপর জোর দিন
৩৩. সম্ভাবনার চশমা চোখে দিন

ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
দেখা হয়েছেঃ 111 0 টি মন্তব্য

খ্রীষ্টিয় বিশ্বাসীদের মূদি দোকান

Posted by সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 05 জুলাই 2011
বিষয়ঃ প্রবন্ধ

আমার ছেলেবেলার একটা ঘটনা খুবই মনে পড়ছে। আমি যখন ৫ম শ্রেনীতে পড়ি তখন আমার এক বন্ধুদের মূদি দোকানে কিছুদিন যাওয়া আসা করেছিলাম এমন কি সেখানএনে কাজও করেছিলাম। শহরে এসে দেখলাম যে এই ধরনের দোকান কে জেনারেল ষ্টোর বলা হয়। আমার ঐ বন্ধুদের দোকানের কিছু বিষয় আজ অনেক বছর পরে আমাকে খুব নাড়া দিচ্ছে। আমি স্মরন করতে পারি যে ঐ দোকানে প্রায় সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী পাওয়া যেত। যেমন: চাল, ডাল, তেল, লবন, খাতা , কলম, সহ নানান কিছু, এমন কি ঔষধ পর্যন্ত। ঐ দোকানের একটি ছোট্র সাইন বোর্ড ছিল। ‘‘মিতা মূদি দোকান’’ এবং এর নিচে লেখা এখানে সকল প্রকার দ্রব্য সামগ্রী পাওয়া যায়, পাশে একজন চুলওয়ালা লোকের ছবি এবং বিড়ির বিজ্ঞাপন ‘‘গোপাল বিড়ি কেন খাই; স্বাদে গন্ধে তৃপ্তি পাই’’। আমি মাঝে মাঝে দেখতাম সোয়াবিন তেলের সাথে কিভাবে পাম ওয়েল ভেজাল দিয়ে সোয়াবিন হিসাবে বিক্রি করা হত, দেখতাম কিভাবে সাদা কেরসিন লাল করে বিক্রি করা হত। আবার শুনতাম কিভাবে জিনিসের মিথ্যা ক্রয় মূল্য বলে সামান্য লাভ করছি বলে চড়া দামে গ্রামের নিরিহ মানুষকে ঠকানো হত। কোন কোন সময় কিছু ক্রেতা বাকীতে পন্য ক্রয় করত আর তার জন্য দোকানদার বেশী দাম নিয়ে বেশী লাভ করত ইত্যাদি। কিছুদিন আগে বাড়ী গিয়েছিলাম দেখলাম দোকানটি নেই। শুলাম নানা সমস্যায় সেই জমজমাট ব্যবসা বন্দ হয়ে গেছে। আমি তখন কোন ভাবে আমার বন্ধুদের ঐ ‘‘মূদি দোকান’’ কে দেখিনি যে ভাবে আজ ভাবছি বা দেখছি।
আমার বিশ্বাস প্রিয় পাঠক আপনি হয়ত ভাবতে শুরু করেছেন আমার এই উদ্ভট স্মৃতিচারন এর কারন কি? অবশ্যই কারন আছে। আমি একজন সাধারন পরিচর্যাকারী। আমি আজ অনেক দিন পরে এসে স্পষ্টভাবে আমার ছেলেবেলার ঐ ‘‘মূদি দোকান’’ এর সাথে বর্তমান খ্রীষ্টিয় জীবনের ও বিশ্বাসীদের এক দারুন মিল দেখতে পাচ্ছি । আজ খ্রীষ্টিয়ান হিসাবে আমরা যেন মুদি দোকানের সাইন বোর্ড ‘‘এখানে সকল প্রকার দ্রব্য সামগ্রী পাওয়া যায়’’। একটু ব্যাখ্যা করলে সকল প্রকার পাপ পাওয়া যায় । ঐ ‘‘মূদি দোকান’’ এর বৈশিষ্ট গুলি প্রায় আমাদের জীবনের সাথে মিলে যায়। আমাদের হৃদয় যেন ঐরুপ মুদি দোকান যেখানে হিংসা, দলাদলি, ব্যভিচার, অন্যকে ঠকানোর চেষ্টা, দুর্নীতি ও মিথ্যায় পরিপূর্ন। আমাদের মন্ডলী যেন একটি সাইনবোর্ড যার অন্তরালে ব্যবসা, নিজের সম্পদ ও ঐশ্বর্য তৈরীর কারখানা। মুদি দোকানের মত বিজ্ঞাপন, মূদি দোকানের মত ভেজাল, মুদি দেকানের মত অন্যকে ঠকানো আজ যেন আমাদের ব্যবসা হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ সায়াবিন তেলের সাথে  পাম ওয়েল ভোজাল দেওয়ার মত বিশ্বাসের কেনা বেচা করছে। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গ্রামের নীরিহ মানুষকে ঠকাচ্ছে।
হয়ত আমি যেমন ছোট বেলায় ঐ দোকনের বিষয় বুঝতে পারিনি এবং গুরুত্বও দেইনি।  ঠিক আজ খ্রীষ্টিয় সমাজের অনেকে বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না কিন্তু দিন আসবেই, মানুষ জাগবেই। যেভাবে আমার বন্ধুদের মুদি দোকান বন্ধ হয়ে গেছে ঠিক সে ভাবে খ্রীষ্টিয় সমাজের তথাকথিত মুদি দোকান বন্ধ হবে। চারিদিকে যে জয়গান ‘‘বদলে দাও, বদলে যাও’’ আজ সময় খ্রীষ্টিয় বিশ্বাসের মূদি দোকান কে বদলে দেওয়ার বদলে যাওয়ার।
পবিত্র বাইবেল বলে ‘‘ তুমি মন্দের দ্বারা পরাজিত হইও না, কিন্তু ঊত্তমের দ্বারা মন্দকে পরাজয় কর’’ রোমীয় ১২:২৩।

ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
দেখা হয়েছেঃ 83 0 টি মন্তব্য