প্রথম কথা
আস্সালামু ওয়ালাইকুম, প্রিয় ভাই-বোনেরা সবার প্রথমে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ গ্রহন করবেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে কুশলেই আছেন। আমি ইমাম্ জয় এন বাড়ৈ আজ আপনাদের সামনে এমন একটি বিষয় উল্লেখ করতে যাচ্ছি যা হয়ত ইতিমধ্যে আপনারা জানেন বা অনেকের কাছে বিষয়টি নূতন হতে পারে। তবে আমি মহান্ করুনাময় আল্লাহ্ রববুল আ্লামিনের দরবারে মুনাজাত করি তিনি যেন আমাদেরকে এই বিষয় বুঝতে ও চিন্তা করতে তৌফিক দান করেন।
আমরা আমাদের ধর্মীয় জীবন যাপনে অনেক সময় সত্য নিয়ে আলোচনা করি না বিভিন্ন কারণে, তাদের মধ্যে কয়েকটি কারণ এমন হতে পারে যে, আমরা ভয় পাই, আমরা এই বিষয়ে উদাসীন, আমরা জানি না আবার এমনও হতে পারে যে, সত্য জেনেও তা লোকদের সমানে তুলে ধরি না কারণ তাতে লোকেরা আমাকে অপমানিত করতে পারে বা সমাজে আমার সম্মান নষ্ট হবে। কিন্তু সত্য জেনেও অন্যকে না জানানো একটা পাপ। আল্ ইঞ্জিল বলে যে, ভাল কাজ করতে জেনেও যে তা না করে সে পাপ করে। আবার সুযোগ থাকার পরেও যে লোক সত্য জানতে আগ্রহী হন না, তিনিও নিশ্চই ভাল কাজ করলেন না।
একজন উম্মতে মুহাম্মদীর ঈমান আর একজন উম্মতে ঈসায়ীর ঈমানের মধ্যে কি অনেক পার্থক্য রয়েছে? আমরা কি একে অন্যের ঈমান নিয়ে আলোচনা করতে পারি? আর যদি আলোচনা করিই, তবে এটা কি আল্লাহর দৃষ্টিতে গুনাহের কাজ? এটা কি আপনার ঈমানকে ধংস করে দিতে পারে? এই ধরনের অনেক প্রশ্ন থেকে বা সন্দেহ থেকে আমরা এমন কিছু কিছু বিষয়কে এড়িয়ে যাই যে বিষয়গুলি আমাদের কখনই এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেছেন, ‘‘বল, হে আহলে কিতাব (কিতাবীগন)! তোমারা কোন পথের উপরই নহ্, যে পর্যন্ত না তোমরা তৌরাত, ইঞ্জিল ও তোমাদের রবব হইতে অবতীর্ণ কিতাবের অনুসরন কর, বস্ত্ততঃ তোমার রবব হইতে অবতীর্ণ বিষয়সমূহে অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরী বৃদ্ধির কারণ হয়, তাই তুমি কাফের দলের প্রতি আদৌ দুঃখিত হইও না। নিঃসন্দেহে মুসলমান ও ইহুদি, ছাবেয়ী ও নাসারা- যে আল্লাহ্ এবং পরকাল দিবসের প্রতি ঈমান আনিবে এবং সৎকার্য করিবে তবে এরুপ লোকদিগের না আছে কোন ভয়, না পরকালের আছে কোন চিন্তা।’’ আল্ কুরআন ৫:৬৮, ৬৯ আয়াত । এখানে আল্লাহ্ তাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, যাদেরকে পাক কিতাব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকেই অনুসরন করতে হবে, তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআন; আর যদি না করে তবে সে সেই ‘‘সিরাতুল মুস্তাকিমের’’ (আল্ কুরআন ১:৫ আয়াত) পথে নেই/ তার ঈমানের কোন ভিত্তিই নেই। আর মুসলমান, ইহুদি, ছাবেয়ী এবং ঈসায়ী (নাসারা) প্রত্যেককেই কিয়ামতের বিচার পার হবার জন্য এক আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান আনতে হবে। এখানে কোন বিশেষ ভেদাভেদ আল্লাহ রাখেন নি।
শুধু এই আয়াতেই নয় আমরা ধারাবহিক ভাবে এই কলাম পড়তে পড়তে এরকম আরও অনেক আয়াত পাব যেখানে নিজেকে নিয়ে ভাববার সুযোগ আপনার জীবনে এসে যাবে। আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন, আল্ কুরআন ৩:৬৪ আয়াতে - ‘‘তুমি বল, হে কিতাধারীগন! এস সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, আমরা আল্লাহ্ ছাড়া কারও এবাদত করি না, কোন কিছুকেই তার শরীক করি না এবং আমাদের কেউ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাকেও পালন কর্তারুপে গ্রহন করব না। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা সাক্ষি থাক আমরা মুসলমান ’’। এখানে নবীজিকে বলা হয়েছে তুমি ইহুদি, ছাবেয়ী এবং ঈসায়ীদের কে আহবান কর এবং তাদের সঙ্গে সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা কর যা তাদের ও তোমাদের মধ্যে এক। আর তা হল- আমরা এক আল্লাহ্ ছাড়া আর কাউকে ইলাহ্ হিসাবে গ্রহন করি না। আমরা কাউকে আল্লাহর শরীক করি না এবং করব না। এই আয়াত থেকে এটা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে কিতাবীরা কখনই অনেক আল্লাহে বিশ্বাস করে না। আবার তারা আখিরাতে বিশ্বাস করে এবং কাউকেই আল্লাহর শরীক করে না। তবে কেউ কেউ যে ঈমানের পথ থেকে সরে যায় নি এমনও নয়। তাবে একথা সব দলের জন্যই প্রযোজ্য। এখানে বলা হয়েছে, কোন কিছুকেই তার শরীক করি না এই কোন কিছুকেই শব্দটি কখনও শুধু দেবতা/মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার যায় না। আমরা যদি আল্লাহ্ এবং আমাদের মাঝখানে কোন কিছুকেই দাঁড় করাই অর্থাৎ কোন কিছুকেই আল্লাহর এবাদতের সঙ্গি করি তবে তাই হবে শরীক করা। তা হতে পারে আমার টাকা, বাড়ি, গাড়ী, স্ত্রী, সন্তান, প্রিয় কোন ব্যক্তি ইত্যাদি। আল্ কুরআন ৩:৯২ আয়াত বলে, ‘‘তোমরা কখনও পূর্নতা অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষন না তোমাদের প্রিয় জিনিষ আল্লাহর পথে খরচ কর এবং তোমরা যা কিছু কর নিশ্চই আল্লাহ সে সম্বন্ধে অবহিত’’। আবার ২:২০৮ আয়াত বলে, ‘‘হে ঈমানদারগন! তোমরা পরিপূর্ন রুপে ইসলাম গ্রহন কর এবং শয়তানের পথ অনুসরন করো না। নিশ্চই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’’। এখানে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, একজন মানুষকে যদি ইসলাম গ্রহন করতে হয় তবে তাকে পূর্ণ রুপেই ইসলাম গ্রহন করতে হবে। আর পূর্ণ রুপে ইসলাম গ্রহন মানে প্রিয় জিনিষ গুলির চেয়েও আল্লাহকে বেশি ভালবাসতে হবে। কাউকেই তার এবাদতের সঙ্গি করা যাবে না।
তাহলে আমরা বুঝতে পারি যে, একজন ঈসায়ী যে আল্লাহর এবাদত করে একজন মুসলমানও সেই আল্লাহে এবাদত করে। সেই একই আল্লাহই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উপরই ওহী নাজিল করেছেন। কারণ আল্লাহ বলেছেন, ‘‘এবং নিশ্চয় মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে ধারাবাহিকভাবে রাসূলগনকে পাঠিয়েছি, মরিয়ম পুত্র ঈসাকে স্পষ্ট প্রমান দিয়েছি এবং পবিত্র আত্মা দ্বারা তাঁর শক্তি বৃদ্ধি করেছি। তবে কি যখনই কোন রাসূল এমন কিছু এনেছে যা তোমাদের মনঃপুত হয় নি তখনই তোমরা অহংকার করেছ এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং কতককে হত্যা করছে’’। আল্ কুরআন ২:৮৭ আয়াত।
আবার, ‘‘আর কুরআন আল্লাহ ছাড়া কেহর রচনা নহে, পক্ষান্তরে ইহা ইহার পূর্বাবর্তীর্ণের সমর্থক এবং এতে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ নাই, ইহা বিশ্ব পালকের বিধানের বিশদ ব্যাখ্যা’’, আল্ কুরআন ১০:৩৭ আয়াত।
উপরোক্ত আয়াত দুটির প্রথমটির মাধ্যমে আমরা আল্লাহর একটা বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে জানতে পারলাম যে, আল্লাহ ধারাবাহিক ভাবে নবী-রসূলদের পাঠিয়েছেন। এর অর্থ এই দাড়ায় যে, আল্লাহ্ বিনা উদ্দেশ্যে নবী-রসূলদের এই পৃথিবীতে পাঠান নি এবং এর উপযুক্ত কারণ ও উদ্দেশ্য রয়েছে। তাই তিনি প্রতিটি নবী-রসূলকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন এবং সাবধান করেছেন যেন তারা তাদের সীমা লঙ্গন না করেন, আল্লাহই সমস্ত বিষয়ের সাক্ষি রইলেন। আল্লাহ্ এক একজন নবী-রসূলকে দিয়ে পৃথিবীতে এক একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করেন নি, কিন্তু একটি ঈমানের পথে তিনি বিভিন্ন নবী-রসূলকে তাদের দায়িত্ব পালন করিয়েছেন। আর তা হল, ‘‘তাওহীদের পথে’’ লোকদের কে আহবান করা। এই কারণে, আদ্ সম্প্রদায়ের কাছে নবী হূদের কাজের কথা বলতে গিয়ে, মুফতী মাওলানা আবদুছ ছালাম সাহেব (মোফাচ্ছিরে কোরআন ঢাকা) তার তাফসিরে বলেছেন, ‘‘আসল কথা এই যে, সকল নবীর শিক্ষার মূলগত বিষয় হল তাওহীদ। কাজেই এক রাসূলকে অমান্য করিলে সকল রাসূলকে অমান্য করা হয়’’।
এই আলোচনা থেকে এটা আমাদের কাছে স্পষ্ট এই যে, আমরা আমাদের দ্বীনের প্রয়োজনেই পূর্ববর্তী কিতাব নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু আমাদের জীবনে অনেক বার আমরা এই বিষয়টির বিরোধীতা শুনেছি বিভিন্ন যুক্তির দ্বারা। কিন্তু আসল বিষয় আমরা জানি না। আমরা সেই বিষয়ে পরে আমাদের পাঠে আলোচনা করব। কিন্তু মনে রাখুন, আল্লাহর কাছে বিভিন্ন ধর্ম নেই, আর তিনি বিভিন্ন ধর্ম কে প্রতিষ্ঠাও করেন নি। তিনি হযরত (সাঃ) কে বলেছেন, ‘‘তোমাদের জন্য সেই দ্বীনই বিধিবদ্ধ করিয়াছি, যাতে নূহ ছিল আদিষ্ট, আমি তো তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছি এবং সে সমন্ধে আমি ইব্রাহিম, মূসা ও ঈসাকে আদেশ করিয়াছিলাম; তোমরা সেই ধর্মই প্রতিষ্ঠা করিবে, এতে মতানৈক্য করিও না; তুমি যার প্রতি এদিগকে ডাক, মুশরিকদের তা অসহনীয়; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে মনোনীত করেন এবং যে তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে তিনি তাকে পথ দেখান।’’ আল্ কুরআন ৪২:১৩ আয়াত। তাহলে আমরা এটা বুঝতে পারি যে, ইসলাম কোন নূতন ধর্ম নয়, আর হযরত (সাঃ) এই ধর্মেও প্রবর্তকও নয়। এই ‘‘ইসলামই’’ সৃষ্টির শুরুতে ছিল। আর হযরত (সাঃ) হল এই ধর্মের একজন রাসূল যাকে আরবী ভাষাভাষী লোকদের জন্য প্রত্যাদেশ করা হয়েছে, আর এই প্রত্যাদেশ/ওহী শব্দের অর্থ হল ‘পুনঃ প্রকাশ’। যা আগেই বলা হয়েছে নুতন করে তাইই অন্যকারও জন্য বা একই লোকদের জন্য প্রকাশ করা। তাই আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন, ‘‘এই ভাবে আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় যাহাতে তুমি সতর্ক করিতে পার মক্কা ও উহার চতুর্দিকের জনগনকে এবং সতর্ক করিতে পার কিয়ামত দিবস সম্পর্কে, যাহাতে কোন সন্দেহ নাই। সেই দিন একদল জান্নাতে প্রবেশ করিবে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করিবে।’’ আল্ কুরআন ৪২:৭ আয়াত।
পরবর্তীতে পাঠে আমরা আল্ কুরআন অবতীর্ণ হবার কারণ স্পষ্ট রুপে জানতে পারবো। তবে এটা মোটামুটি পরিষ্কার যে একজন ঈসায়ী এবং একজন মুহাম্মদী এই দুই উম্মতরে মধ্যে মুলত আল্লাহর দিক থেকে কোর পার্থক্য নাই। দুজনেই ইসলামের অনুসারী এবং মুসলমান। কারণ আল্ কুরআন ৩:৫২ আয়াত বলে, ‘‘অনন্তর ঈসা ওদের হইতে অবিশ্বাসের উপলব্ধি করিলে বলিলেন, আল্লাহর রাহে কারা আমার সাহায্যকারী? হাওয়ারীরা বলিল, আমরাই সাহায্যকারী, আমরা আল্লাহে বিশ্বাসী, আমরা মুসলমান, সাক্ষি থাক।’’ ( হাওয়ারী- যারা ঈসার খাস্ উম্মত)।
আল্ কুরআন ৩:৬৪ আয়াতে - ‘‘তুমি বল, হে কিতাধারীগন! এস সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, আমরা আল্লাহ্ ছাড়া কারও এবাদত করি না, কোন কিছুকেই তার শরীক করি না এবং আমাদের কেউ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাকেও পালন কর্তারুপে গ্রহন করব না। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা সাক্ষি থাক আমরা মুসলমান ’’।
আর যেটুকু পার্থক্য দেখা যায় তা আল্লাহরই ইচ্ছাতেই, ‘‘তোমার প্রতি সত্যতায় বিভূষীত এই কিতাব উহার পূর্ববর্তী কিতাব সমুহের সমর্থক ও তার সংরক্ষকরুপে নাজিল করিয়াছি, সুতরাং আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান মত ওদের মীমাংসা করিও এবং অনুসরন করিও না সত্য আগমানের পরে তাহাদের খেয়াল-খুশির; তোমাদের প্রত্যেক দলের জন্য করিয়াছি এক একটি শরীয়ত, একটি পন্থা; আল্লাহ ইচ্ছা করিলে তোমাদের অভিন্ন উম্মত করিতে পারিতেন, কিন্তু তোমাদিগকে প্রদত্ত ধর্ম বিধান পরীক্ষা কল্পে তা করেন নাই, তাই তৎপর হও ভাল কাজে; তোমাদের সকলকে আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে; পরে করা হইবে অবহিত যাতে বিরোধ করিতেছ।’’ আল্ কুরআন ৫:৪৮ আয়াত।
তাই আমরা কেন বিরোধ করছি? আমাদের তো বিরোধ করার কিছু নেই। আল্লাহপাক্ আল্ কুরআনে সব সময়ই চেয়েছেন যেন সমস্ত কিতাবীরা একই ঐক্যে বসবাস করে এবং যেন তারা দ্বীনের আলোচনা করেন । আর তাদের মধ্যে যে বিরোধ শুরু হয়েছে তা তিনি নিজেই মিটিয়ে দেবার দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই আমরা উপরে দেখেছি ২:৬৪ আয়াতে সেই আহবান জানানো হয়েছে। এমন কি হযরত (সাঃ) কে বলা হয়েছে, ‘‘আমি তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি উহাতে যদি তুমি সন্দেহে থাক তবে তোমার পূর্বের কিতাব যাহারা পাঠ করে তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর; তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার নিকট সত্য অবশ্যই আসিয়াছে্ তুমি কখনও সন্দিগ্ধচিত্তদের অর্ন্তভুক্ত হইও না, এবং হইও না যারা আমার আয়াত অস্বীকার করে তাদের দলের- হইলে হইবে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্ন্তভুক্ত।’’ আল্ কুরআন ১০:৯৪,৯৫ আয়াত।
এখানে আমরা আর আলোচনা বাড়াতে চাই না। আশা করি পরবর্তীতে আমরা ধারাবাহিক ভাকে সব কিছু শিক্ষা লাভ করতে পারবো। উপরোক্ত আলোচনা এই জন্যই করলাম যেন আপনি একটা প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে আমাদের এই পাঠে মনো যোগ দিতে পারেন। আশার করি আমার প্রয়াস সার্থ্যক হবে। কারণ ভয় নিয়ে আপনি কখনও ভাল কিছু শিখাতে পারবেন না আর সন্দেহ নিয়ে আপনি মনোযোগ দিতে পারবেন না। আশা করি আল্লাহর কালাম আপনার সেই ভয় দুর করে ঈমানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আসুন আমরা এই মুনাজাত করি, ‘হে দ্বীন-দুনিয়ার মালিক আল্লাহ রাববুল আলামিন তোমার দরবারে হাজার শুকরিয়া জানাই যে তুমি আমাকে এমন একটি বই পাঠের সুযোগ করে দিয়েছ যা আমার ঈমান কে পূর্ণ করে দেবে। আমাকে নিয়ে যাবে সেই ‘‘সিরাতুল মুস্তাকিমের’’ (আল্ কুরআন ১:৫ আয়াত) পথে যেন তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে পারি। এখানে এসে আমি আবার নূতন করে নিজেকে চিনতে পারবো জানতে পারবো আমাকে নিয়ে তোমার পরিকল্পনা কি। কাফির আর মোনাফেকদের পথে না দিয়ে যেন তোমার হিদায়েতের নূরের কাছে পৌছাতে পারি। আমার বিবেচনা বুদ্ধি খুলে দাও যেন বিচার করতে পারি, সত্যকে বুঝতে পারি আর তাকে ধারন করতে পারি। আমিন।
আশা করি আপনাদের মন্তব্য পেলে আগামীতে প্রকাশ করতে এগিয়ে আসবো।