বাইবেল সোসাইটির ইতিহাস
- দেখা হয়েছেঃ 181
- 0 টি মন্তব্য
- সাবস্ক্রাইব করুন
ছোটরাও বড় কাজ করে
ছোটরাও বড় কাজ করতে পারে। তেমনই একটি সত্য গল্প বলছি। ১৭৯৪ খ্রীষ্টাব্দে যুক্ত রাজ্যের ওয়েলস্-এর এক ছোট গ্রামে যাকোব ও মলি জোনস্ নামে একটি গরীব পরিবার বাস করত। তাদের ১০ বৎসরের একটি ছোট মেয়ে ছিল মেরী নামে। স্কুলের শিক্ষক মিঃ জন এলীস একদিন তাকে বললেন যে তাকে পরদিন ক্লাশ শুরুর পূর্বে বাইবেল পাঠ করতে হবে। সে তো মহা খুশী, কিন্তু সমস্যা হল তার নিজের কোন বাইবেল না থাকায়। তাকে ধার করে সে সমস্যা মিটাতে হল। অন্যের বাইবেল ব্যবহার করা তার মোটেই ভাল লাগে নি। মেরী ভাবতে লাগল কিভাবে নিজের মাতৃভাষায় একটি ওয়েলস্ বাইবেল পেতে পারে। মেরীর সময়ে বাইবেল এখনকার মত এত সহজে পাওয়া যেত না। আর পাওয়া গেলেও দাম ছিল খুব বেশী। মেরী বাবাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো তাদের বাড়ী থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে বালা শহরে মিঃ চার্লস আছেন যার কাছে বাইবেল আছে। সে প্রচুর পরিশ্রম করতে লাগল। মুরগী চাষ, সেলাই, ফসল কুড়ানো, টিফিনের পয়সা বাচানো সহ অনেক কাজেই সে করতে থাকল।একদিন সে বুঝল যে তার একটা বাইবেল কেনার মত যথেষ্ট অর্থ হয়েছ। ইতিমধ্যে ৫টি বৎসর তার কেটে গেছে।
অনেক আশা নিয়ে যাত্রাঃ
বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে নিজেই পাহাড়ী পথ হেটে বালা শহরে মিঃ চার্লস এর নিকট গিয়ে তার আসার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বলল। মিঃ চার্লস যা বললেন তা সত্যিই দুঃখজনক। তিনি বললেন, “মেরী আমি দুঃখিত, আমার সব ওয়েলস্ ভাষার বাইবেল শেষ হয়ে গেছে।” মেরী ভীষণ দুঃখ পেল, কেঁদে ফেলল। বলল, “এত পরিশ্রম করেছি, অর্থ সঞ্চয় করেছি, এতটা পথ হেটে এসেছি শুধুমাত্র একটাই কারণ যে আমি একটা বাইবেল পাবো, যেটা শুধু আমার হবে।” তার কান্না ও একটা বাইবেল পাওয়ার প্রচন্ড আকাঙ্খা দেখে পালক বললেন, “মেরী তুমি কেঁদ না। আমি ব্যবস্থা করছি। আমার এক বন্ধুর জন্য আমার একটা বাইবেল রাখা ছিল ওটাই আমি তোমাকে দিচ্ছি, আমার সেই বন্ধুর জন্য পরে আমি এনে দেব। আমি না হয় তাকে একটা ইংরেজী বাইবেল দেব। তিনি তো ইংরেজী ভাষাও বুঝেন।” যা হোক বাইবেলটা পেয়ে মেরীর যে কি খুশী! তার পরের দিন বাড়ী ফিরতে তার কোন কষ্টই হয় নাই। আনন্দের কারণে কখন যে পথ শেষ হয়ে গেছে এবং বাড়ী পৌঁছে গেছে, সে ভাবতেই পারে নি।
বড় কাজের শুরুঃ
এখানেই গল্পের শেষ নয়। মেরীর একটা ওয়েলস্ বাইবেল পাওয়ার প্রচন্ড আকাঙ্খার দৃশ্য দেখে মিঃ চার্লসের মনে গভীর দাগ কেটেছিল। তিনি ভাবতে লাগলেন, সারা দেশে ও সারা পৃথিবীতে মেরীর মতো কত লোকই তো আছে যাদের বাইবেল প্রয়োজন।
তিনি শিঘ্রই লন্ডনে গিয়ে “রিলিজিয়াস ট্রাষ্ট সোসাইটির” একদল বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং ১৮০৪ খ্রীষ্টাব্দে বৃটিশ এন্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটি গঠন করেন। এভাবে মানুষের প্রয়োজনে প্রচুর বাইবেল ছাপার উদ্যোগ নেন। এর পর থেকেই ব্যাপক বাইবেল ছাপার কাজ আরম্ভ হয়। এই কাজে অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে অন্যান্য দেশেও বাইবেল সোসাইটি গঠন করতে লাগলেন। ১৯৪৬ খ্রীষ্টাব্দে ১৫টি দেশের বাইবেল সোসাইটি একত্রিত হয়ে “ইউনাইটেড বাইবেল সোসাইটি” গঠন করে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ১৩৫টি দেশে বাইবেল ছাপা হয়। বৎসরে প্রায় আড়াই কোটি বাইবেল এবং বাইবেল বিষয়ক অন্যান্য পুস্তক, পুস্তিকাসহ প্রায় ৫০কোটি বিতরণ হয়। প্রতি বৎসরই এই বিতরণের চাহিদা বাড়ছে। ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বৃটিশ এন্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটি আমাদের দেশে বাইবেল পাঠাতো। এখনো টাকা-পয়সা দিয়ে অনেক দেশকে এবং বাঙলাদেশকে সাহায্য করে থাকে।
মেরী কি ভীষণ বড় কাজটাই না শুরু করেছিল! যতদিন যাচ্ছে ততই বাইবেল সোসাইটির কাজ বাড়ছে। তাইতো বলছি ছোটরাও বড় কাজ করে।
আপনিও বড় কাজ করতে পারেনঃ
এভাবেই একটি বড় কাজ শুরু হল। আপনিও নিশ্চয় কিছু একটা করতে পারেন। মনে রাখুন বড় কাজ ছোট কিছু দিয়েই শুরু হয়।
পবিত্র বাইবেলেও একটা ছোট গল্প লেখা আছে (যোহন ৬:১-১৩) সে যীশুর একটি বড় কাজে অর্থাৎ ৫,০০০ লোককে খাওয়ানোর ব্যাপারে তার নিজের রুটি ও মাছ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, যা যীশুর একটি স্মরণীয় আশ্চর্য্য কাজ ছিল। ঈশ্বর মেরীকেও ব্যবহার করেছিলেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচাতে, ঈশ্বরের জীবনদায়ী বাক্যের যোগান দিতে। তিনি আপনাকেও ব্যবহার করতে পারেন। আপনিও এই মহান দায়েত্ব পালনে অংশীদার হতে এবং ঈশ্বরের বাক্যের পরিচর্যায় আমাদের দেশের হাজার হাজার মানুষের জন্য ঈশ্বরের জীবনদায়ী বাক্যের যোগানদানে সাহায্য করতে পারেন। একটি ছোট বই মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে।
আপনার ছোট দান, প্রতিদিনের প্রার্থনা এই মহান কাজে অনেক সাহায্য ও উৎসাহ যোগাবে।
এ বিষয়ে জানার জন্য নিম্ন ঠিকানায় যোগাযোগ করুনঃ
বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি
জিপিও বক্স নং-৩৬০
রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ ৮৩১৪৪৫৯, ৯৩৩২৭২৬
ইমেইলঃ
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।



