সমুদয় জগতের আনন্দ

Posted by রেভা: বনি বাড়ই
রেভা: বনি বাড়ই
রেভা: বনি বাড়ই তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
- 12 ডিসেম্বর 2011 বিষয়ঃ প্রবন্ধ

মাত্র কয়েকদিন পূর্বে আমি ঢাকার কাকলী সিগন্যাল থেকে গুলশান রোডে রাস্তার মোড়ে রিক্সা ভাড়া দিতে গিয়ে এক বিড়ম্বনায় পড়লাম। ভাংতি টাকা নেই, রিক্সাওয়ালাকে তার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা দিয়ে বিদায় করলাম। দেখলাম রিক্সাচালক ভীষন আনন্দিত, ভাবলাম এটি আমার কৃতিত্ব কিন্তু কিছু সময় পরে সিএনজিতে বসে মনে হলো এ আমার অনিচ্ছাকৃত আনন্দ দান। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এরকম অনেক কিছুই ঘটে যা মনের অজান্তে অন্যকে আনন্দ দেয় বা কোন কোন সময় প্রচুর দুঃখও দেয় বটে।  এখন একটা প্রশ্ন করা যাক তাহলে জগতের এই রকম বাস্তবতায় পরিপূর্ণ আনন্দ (Real Joy) লাভ সম্ভব কিভাবে? আমি একটু পিছনে ফিরে যেতে চাই ১৯৮৮ এর বন্যা, দক্ষিণ অঞ্চল প্লাবিত মানুষের দারুণ কষ্ট, আমি ও আমার পরিবারও সেদিন দারুণভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। মনে পড়ছে সেদিন আনন্দের বদলে শুধু দুঃখই যেন ছিল আমাদের সম্বল। কিন্তু কিছু দিন পরে আস্তে আস্তে ঘন দুঃখ সরে গিয়ে ঝলকানি হাসি দিয়ে সোনালী রোদের মত ফিরে এসেছিল ‘‘প্রভু যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন’’। নূতন পোষাক ছিল না, ছিল না ভাল খাবার কিন্তু সকালের উপাসনায় পবিত্র বাইবেলের অমৃত বাণী ‘‘আমি তোমা দিগকে মহানন্দের সুসমাচার জানাইতেছি; সেই আনন্দ সমুদয় লোকেরই হইবে’’ লূক ২:১০। মন থেকে সব দুঃখ সরে গেল এক অপূর্ব অনুভুতি। কি মহানন্দ! আজ অনেকদিন পরে সেই স্মৃতি স্মরণ করে সকলের কাছে তাই বলতে চাই অশান্ত, অন্ধকারময়, দুঃখ কবলিত জগৎবাসী আজ আপনাদের জন্য এক মহানন্দের দিন প্রভু যীশুর আগমন বারতা (Joy for all)। প্রশ্ন আসতে পারে চারিদিকে এত হানাহানি, দলাদলী, ঘৃণা, হিংসা আর এর মাঝে আনন্দ পাব কোথায়? আনন্দ কি সম্ভব? এই প্রশ্ন আমারও ছিল  কিন্তু পবিত্র বাইবেল আমার সে প্রশ্নের উত্তর এইভাবে দিয়েছে ‘‘কেননা ঈশ্বরের কোন বাক্য শক্তিহীন হইবে না? লূক ১:৩৭ পদ। সুতরাং ভয়ের বা আশংকার কোন কারণ নেই প্রভু যীশু খ্রীষ্ট আপনাকে এবং আমাকে তার করুণার ভান্ডার থেকে অপরিমেয় আশির্বাদ ঢেলে দেবেন যেভাবে শিমিয়োন যিরুশালেমের ধর্মধামে ঈশ্বরের ধন্যবাদ করে বলেছিলেন ‘‘হে স্বামিন্, এখন তুমি তোমার বাক্যানুসারে তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় করিতেছ, কেননা আমার নয়নযুগল তোমার পরিত্রাণ দেখিতে পাইল, যাহা তুমি সকল জাতির সম্মুখে প্রস্ত্তত করিয়াছ। পরজাতিগণের প্রতি প্রকাশিত হইবার জ্যোতি ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের গৌরব’’ লুক ২:২৯-৩২। তবে আনন্দ পেতে হলে কিছু করণীয় রয়েছে। যিনি এই আনন্দ বারতার ধারক ও বাহক সেই মহান প্রভু যীশু খ্রীষ্ট নিজের জীবন দ্বারা আনন্দ দানের ও প্রাপ্তির সূচনা করেছেন। তিনি বলেছেন আমাকে অভিষেক করা হয়েছে ‘‘দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার প্রচার করিবার জন্য। বন্দিগণের কাছে মুক্তি প্রচার করিবার জন্য, অন্ধদের কাছে চক্ষু দান প্রচার করিবার জন্য, উপদ্রুতদিগকে নিস্তার করিয়া বিদায় করিবার জন্য এবং প্রভুর দয়ার কথা ঘোষনা করার জন্য’’ লূক ৪:১৮। আমার ব্যক্তি জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব শিক্ষার আলোকে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যদি আমি এবং আপনি-
১. দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার প্রচার করি
২. বন্দিগণের কাছে মুক্তি প্রচার করি
৩. অন্ধদের কাছে চক্ষু দান প্রচার করি
৪. উপদ্রুতদিগকে নিস্তার করিয়া বিদায় করি এবং
৫. প্রভুর দয়ার কথা ঘোষনা করি
তবে এই জগৎ আনন্দময় হবে। স্বর্গদূত যে ঘোষনা করেছিল ‘‘আমি তোমা দিগকে মহানন্দের সুসমাচার জানাইতেছি; সেই আনন্দ সমুদয় লোকেরই হইবে’’ তা পূর্ণ হবে। কারণ প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সমুদয় জগতের আনন্দ।

সমুদয় জগতের আনন্দ
ট্যাগঃ বড়দিন
মন্তব্য (0)Add Comment

মন্তব্য লিখুন
ছোট | বড়

busy