সমাস ইষ্টার সংখ্যায় শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের "বাপ্তিস্ম" কোথা থেকে এলো? লেখাটি সত্যি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। লেখাটি যথেষ্ট ধর্মতত্ত্ব গবেষনায় পূর্ন এবং তথ্য সমৃদ্ধ। আমি তার একজন পাঠক হিসাবে খুবই কৃতজ্ঞ এই ধরনের লেখার জন্য। লেখাটির শেষদিকে তার চ্যলেঞ্জটি আমাকে উৎসাহিত করেছে যেন কিছু লিখতে পারি। যদিও আমার এত সাহস বা যোগ্যতা কোন কিছু নেই যে, শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের লেখার উপর মন্তব্য করি কিন্তু দাদু হিসাবে এই লেখার সাথে কিছু যুক্ত করতে চাই এবং শেষে তিনি যেকথা বলেছেন "আমাদের দেশে থিওলজিক্যাল ইসু নিয়ে কখোনো আলোচনা হয় না" এ বিষয়ে দ্বিমত পোষন করছি। কারন আমার জানা মতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ধর্মতাত্বিক সেমিনার অনুষ্টিত হয়েছে যেখানে ধর্মতত্বের গভীরতম বিষয়ে প্রানবন্ত উপস্থপনা ও আলোচনা হয়েছে। যেমনঃ এনসিসিবি কতৃক ২৮ নভেম্বর ২০০৮ খ্রী: "ত্রিত্ব খ্রীষ্ট বিশ্বাসের মূলবিত্তি" এ বিষয়ে শ্রদ্ধেয় বিশপ থিটনিয়াস গমেজ ও রেভা. জেমস টি. হালদার বিশেষ ধমৃতাত্বিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যা ছিল সত্যি প্রশংসনীয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪৯ জন অংশগ্রহনকারী সেই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এছাড়া সিসিটিবিতেও মাঝে মধ্যে ধর্মতত্বের কিছু কিছু বিষয়ে সেমিনার হয়ে থাকে। হ্যাঁ তবে এটা ঠিক যে অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি খুবই সামান্য। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল যারা আপনারা আমাদের ধর্মতত্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং সমাজের উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত তারা এই বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন অথবা পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেন? এনসিএফবি এর এই বিষয়ে মনে করি যথেষ্ট ভুমিকা থাকা প্রয়োজন। অন্তত দুই এক মাস পরপর ধর্মতত্বের বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার করলে আমরা যারা তরুন ধর্মতত্বের বিষয়ে আগ্রহী আমরা খুবই উপকৃত হতাম। যাইহোক এখন মূল বিষয়ে একটু কিছু লিখতে চাই। "বাপ্তিস্ম" বিষয়টি বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ন ইস্যু। কিছুদিন আগে আমার কয়েকজন বন্ধুরা ঝগড়া করছিল যে, প্রকাশ্যে বাপ্তিস্মের দরকার আছে কি না? বা বাপ্তিস্ম না নিলে স্বর্গে যেতে পারব কি না? জলে ডুবিয়ে বাপ্তিস্ম ঠিক না জল ছিটিয়ে বাপ্তিস্ম ঠিক? ইত্যাদি। আমার স্বল্প জ্ঞানে এই বিষয়ে উত্তর পেতে সমস্যা হয়নি কারন বাইবেলে যীশু নিজে বলেছেন "যদি কেহ জল ও আত্না হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না" যোহন ৩:৫পদ। সুতরাং বাপ্তিস্মের প্রয়োজনীয়তা যে আছে সেটা বোধ হয় আমরা অস্বীকার করতে পারি না। বাপ্তিস্মের আগমন বা উৎপত্তি যে ভাবে হোক না কেন এর প্রয়োজনীয়তা নিঃসন্দেহে খ্রীষ্ট ধর্মে আছে। প্রেরিত পৌল লিখেছেন "কারন লোকে হৃদয়ে বিশ্বাস করে ধার্ম্মিকতার জন্য এবং মুখে স্বীকার করে, পরিত্রানের জন্য’’ রোমীয় ১০:১০। আমার বিশ্বাস বাপ্তিস্ম হল মুখে স্বীকার করার চিহ্ন।
শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের লেখার ঐতিহাসিক কোন দ্বিমত আমার নেই তবে আরেকটু যোগ করতে চাই। বিখ্যাত লেখক Robert Jones বাপ্তিস্ম সম্পর্কে তার থিসিস "A Brief History of Christian Baptism: From John the Baptist to John Smyth" এ পুরাতন নিয়মে বাপ্তিস্ম সম্পর্কে লিখেছেন "While there is no explicit reference to baptism in the Old Testament as we understand it in the Christian sense, there are references to various elements that will eventually assert themselves in Christian baptism, such as the use of water for ceremonial purification, the pouring out of the Holy Spirit on individuals, and (possibly)...circumcision." Calvin এই সম্পর্কে তার "Christian Institutes" বই এ লিখেছেন "Hence it is incontrovertible, that baptism has been substituted for circumcision, and performs the same office. (Calvin, "Christian Institutes", p. 1473) । আমরা পবিত্র বাইবেলে আদি: ১৭:১-১৪, যিশা: ৪৪:৩, যোয়েল ২:২৮-২৯, লেবী:১৬:৪,২৪, যিহি: ৩৬:২৫ এবং গীত ৫১:১-৩ পদে বাপ্তিস্মের লিং খুজে পাওয়া যায়।
২য় ও ৩য় শতাব্দীর প্রাচ্যদেশীয় মন্ডলীর খুব জনপ্রিয় বই "The Shepherd of Hermas" বাপ্তিস্মের অর্থ সম্পর্কে লিখেছে "...before a man bears the name of the Son of God he is dead; but when he receives the seal he lays aside his deadness, and obtains life. The seal, then, is the water: they descend into the water dead, and they arise alive." (The Shepherd of Hermas - Similitude IX, Chapter 16) এই ভাবে বাপ্তিস্ম সম্পর্কে অনেক অনেক তথ্য, বিশ্লেষন আমরা দেখতে পাই যা আমাদের বাপ্তিস্মের ইতিহাস বুঝতে সহায়তা করে।
আমি জানি আমার এই লেখা গভীর সাগরে মুক্তা খোজার মত তথাপি আমি শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি একটি সুযোগ সৃস্টি করেছেন যেন কিছু গবেষনা ও লিখতে পারি। আমার বিশ্বাস পরবর্তিতে এ বিষয়ে আরও লেখা, সেমিনার ও শক্তিশালী উপস্থাপনা আমরা তার কাছ থেকে পাব।
ধন্যবাদ
সমাস ইষ্টার সংখ্যায় শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের ’’বাপ্তিস্ম’’ কোথা থেকে এলো? লেখাটি সত্যি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য । লেখাটি যথেষ্ট ধর্মতত্ত্ব গবেষনায় পূর্ন এবং তথ্য সমৃদ্ধ। আমি তার একজন পাঠক হিসাবে খুবই কৃতজ্ঞ এই ধরনের লেখার জন্য। লেখাটির শেষদিকে তার চ্যলেঞ্জটি ।ামাকে উৎসাহিত করেছে যেন কিছু লিখতে পারি। যদিও আমার এত সাহস বা যোগ্যতা কোন কিছু নেই যে, শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের লেখার উপর মন্তব্য করি কিন্তু দাদু হিসাবে এই লেখার সাথে কিছু যুক্ত করতে চাই এবং শেষে তিনি যেকথা বলেছেন ‘‘আমাদের দেশে থিওলজিক্যাল ইসু নিয়ে কখোনো আলোচনা হয় না’’ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষন করছি। কারন আমার জানা মতে ইতিমধ্য বেশ কিছু ধর্মতাত্বিক সেমিনার অনুষ্টিত হয়েছে যেখানে ধর্মতত্বের গভীরতম বিষয়ে প্রনবন্ত উপস্থপনা ও আলোচনা হয়েছে। যেমন: NCCB কতৃৃক ২৮ নভেম্বও ২০০৮ খ্রী: ‘‘ ত্রিত্ব খ্রীষ্ট বিশ্বাসের মূলবিত্তি’’ এ বিষয়ে শ্রদ্ধেয় বিশপ থিটনিয়াস গমেজ ও লেভা. জেমস টি. ঘালদার বিশেষ ধমৃতাত্বিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যা ছিল সত্যি প্রশংসনীয়। বিভিন্ন প্রতিষ্টান থেকে মোট ৪৯ জন অংশগ্রহনকারী সেই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এছাড়া CCTB তেও মাঝে মধ্যে ধর্মতত্বেও কিছু কিছু বিষয়ে সেমিনার হয়ে থাকে। হ্যাঁ তবে এটা ঠিক যে অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি খুবই সামান্য। কিন্ত আমার প্রশ্ন হল যারা আপনারা আমাদের ধর্মতত্বের উজ্বল নক্ষত্র এবং সমাজের উচ্চপদে প্রতিষ্টিত তারা এই বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন অথবা পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেন? NCFB এর এই বিষযে মনে করি যথেষ্ট ভুমিকা থাকা প্রয়োজন। অন্তত দুই এক মাস পরপর ধর্মতত্বের বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার করলে আমরা যারা তরুন ধর্মতত্বের বিষয়ে আগ্রহী আমরা খুবই উপকৃত হতাম। যাইহো এখন মূল বিষয়ে একটু কিছু লিখতে চাই। ‘‘বাপ্তিস্ম’’ বিষয়টি বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ন ইস্যু। কিছুদিন আগে আমার কয়েকজন বন্ধুরা ঝগড়া করছিল যে, প্রকাশ্যে বাপ্তিস্মের দরকার আছে কি না? বা বাপ্তিস্ম না নিলে স্বর্গে যেতে পারব কি না? জলে ডুবিয়ে বাপ্তিস্ম ঠিক না জল ছিটিয়ে বাপ্তিস্ম ঠিক? ইত্যাদি। আমার স্বপ্ল জ্ঞানে এই বিষয়ে উত্তর পেতে সমস্যা হয়নি কার বাবেলে যীশু নিজে বলেছেন ‘‘যদি কেহ জল ও আত্না হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পাওে না’’ যোহন: ৩:৫পদ। সুতারাং বাপ্তিস্মের প্রয়োজনীয়তা যে আছে সেটা বোধ হয় আমরা অস্বকার করতে পারি না। বাপ্তিস্মের আগমন বা উৎপত্তি যে ভাবে হোক না কেন এর প্রয়োজনীয়তা নি:সন্দেহে খ্রীষ্ট ধর্মে আছে। প্রেরিত পৌল লিখেছেন ‘‘কারন লোকে হৃদয়ে বিশ্বাস কওে ধার্ম্মিকতার জন্য এবং মুখে স্বীকার করে, পরিত্রানের জন্য’’ রোমীয় ১০:১০। আমার বিশ্বাস বাপ্তিস্ম হল মুখে স্বীকার করার চিহ্ন।
শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের লেখার ঐতিহাসিক কোন দ্বিমত আমার নেই তবে আরেকটু যো করতে চাই। বিখ্যাত লেখক Robert Jones বাপ্তিস্ম সম্পার্কে তার থিসিস ‘‘ A Brief History of Christian Baptism: From John the Baptist to John Smyth’’ এ পুরাতন নিয়মে বাপ্তিস্ম সম্পার্কে লিখেছেন ‘‘ While there is no explicit reference to baptism in the Old Testament as we understand it in the Christian sense, there are references to various elements that will eventually assert themselves in Christian baptism, such as the use of water for ceremonial purification, the pouring out of the Holy Spirit on individuals, and (possibly)...circumcision.’’ Calvin এই সম্পর্কে তার ‘‘ Christian Institutes ’’ বই এ লিখেছেন ‘‘ Hence it is incontrovertible, that baptism has been substituted for circumcision, and performs the same office. (Calvin, "Christian Institutes", p. 1473) । আমরা পবিত্র বাইবেলে আদি: ১৭:১-১৪, যিশা: ৪৪:৩, যোয়েল ২:২৮-২৯, লেবী:১৬:৪,২৪, যিহি: ৩৬:২৫ এবং গীত ৫১:১-৩ পদে বাপ্তিস্মের লিং খুজে পাওয়া যায়।
২য় ও ৩য় শতাব্দীর প্রাচ্যদেশীয় মন্ডলীর খুব জনপ্রিয় বই ‘‘ The Shepherd of Hermas ’’ বাপ্তিস্মেও অর্থ সম্পার্কে লিখেছে ‘‘"...before a man bears the name of the Son of God he is dead; but when he receives the seal he lays aside his deadness, and obtains life. The seal, then, is the water: they descend into the water dead, and they arise alive." (The Shepherd of Hermas - Similitude IX, Chapter 16) এই ভাবে বাপ্তিস্ম সম্পার্কে অনেক অনেক তথ্য, বিশ্লেষন আমরা দেখতে পাই য আমাদেও বাপ্তিস্মেও ইতিহাস বুঝতে সহায়তা করে।
আমি জানি আমার এই লেখো গভীর সাগরে মুক্তা খোজার মত তথাপি আমি শ্রদ্ধেয় ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত মহাদয়ের কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি একটি সুযোগ সৃস্টি করেছেন যেন কিছু গবেষনা ও লিখতে পারি। আমার বিশ্বা পরবর্তিতে এ বিষয়ে আরও লেখা, সেমিনার ও শক্তিশালী উপস্থাপনা আমরা তার কাছ থেকে পাব।
ধন্যবাদ