ফীড থেকে সাবস্ক্রাইব করুন নতুন লেখা

লাভ মিটার

প্রকাশ করেছেন রিচার্ড হালদার
রিচার্ড হালদার
রিচার্ড হালদার তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
14 ফেব্রুয়ারী 2012 বিষয়ঃ অন্যান্য 0 টি মন্তব্য
নীচের লাভ মিটারে প্র্রত্যেকটা কলামের জন্যে, ১ থেকে ৫ এর মধ্যে নম্বর দিন। বেশী হলে ৫ কম হলে ১ দিন। এবং পরে যোগ করুন।
যোগফল থেকে আপনি আপনার ভালবাসার ক্ষমতা পরিমাপ করতে পারেন।
৫৬ এর উপরে পেলে = A ; ৫২ - ৫৫ পেলে = A- ; ৪৯ - ৫১ পেলে = A; ৪৬ - ৪৮ পেলে = B ; ৪২ - ৪৫ পেলে = B এবং ; পাস মার্কস = ২৩

লাভ মিটার:
ভালবাসা সব সময় ধৈর্য ধরে = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
দয়া করে = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
হিংসা করে না = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
গর্ব করে না = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
অহংকার করে না = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
খারাপ ব্যবহার করে না = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
নিজের সুবিধার চেষ্টা করে না = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
রাগ করে না = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
কারও মন্দ ব্যবহারের কথা মনে রাখে না = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
মন্দ কিছু নিয়ে আনন্দ করে না = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
বরং যা সত্য তাতে আনন্দ করে = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
ভালবাসা সব কিছুই সহ্য করে = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
সকলকেই বিশ্বাস করতে আগ্রহী = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
সব কিছুতে আশা রাখে = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =
আর সব অবস্থায় স্থির থাকে = ১ থেকে ৫ এর মধ্যে আপনি নিজেকে কত দেবেন? =

( পবিত্র বাইবেল ১ করিন্থীয় ১৩: ৪-৭)

ভালবাসার মিটারে কত পেয়েছেন? আপনার প্রিয়জনকে অথবা অপ্রিয়জনকে ভালবাসতে কোনখানে আরও যত্নশীল হওয়া আপনার প্রয়োজন?
আপনি আমি আরও একটু যত্নশীল হলে আমাদের ভালবাসার দক্ষতা বাড়াতে পারি। আসুন শর্তহীন ভালবাসা, বাধ না মানা ভালবাসা দিয়ে পৃথিবীকে আরও বেশী ভালবাসাময় করে তুলি।
ট্যাগঃ জীবনের উদ্দেশ্য, প্রিয়জন, প্রেম, ভালবাসা, লাভ, সুন্দর পৃথিবী
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 13

জন্টি রোডস

প্রকাশ করেছেন রোজলেন্ট চৌধুরী
রোজলেন্ট চৌধুরী
wish i can cooking like my mother......
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
11 ফেব্রুয়ারী 2012 বিষয়ঃ জীবনী ও সাক্ষ্য 0 টি মন্তব্য

উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ভাবুন!

অস্তিত্বের অর্থই হচ্ছে নিজের ভিতরের শান্তি এবং পরিপূর্নতার অন্বেষণ করা। গত বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ন মুহুর্তটি ছিল, যখন জন্টি রোডস তার চির পরিচিত সেই উড়ন্ত ডাইভের মাধ্যমে পাকিস্তানী ব্যাটস্ম্যান ইনজামাম-উল-হককে রান আউট করেন। এই রকম চমৎকার নৈপন্য প্রদশনের জন্য জন্টি রোডস অনেকের দ্বারা ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠ ফিল্ডারের সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন এবং তিনি সাম্প্রতিক সময়ের একজন প্রসিদ্ধ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। তার নিজের দল সাউথ আফ্রিকা সেই রাউন্ড রনিন ম্যাচটি জিতেছিল। এই ম্যাচটিকে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ান হতে যাওয়া দলের বিরুদ্ধে জন্টির ম্যাচ হিসাবে সবসময় স্মরণ করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রেণীর একজন ব্যাটস্ম্যান ও ফিল্ডার হিসাবে এবং সাউথ আফ্রিকার একজন চমৎকার হকি খেলোয়াড় হিসাবে, তিনি যে সকল কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তাতে করে তিনি অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার উপাধি “ফ্রিরিটি” হিসাবে পরিচিত ছিলেন। জন্টি তার এই বিশেষ দক্ষতার জন্য ঈশ্বরের নিকট সত্যি কৃতজ্ঞ এবং বিনম্র ছিলেন। অনুসারী ছিলেন। ঈশ্বরের সাহচর্যে কেইট-এর হৃদয়ে যে শান্তি ছিল তা আমি দেখেছিলাম এবং আমিও সেই একই শান্তি চাইছিলাম। সেই সময়ে আমি মাত্র জাতীয় ক্রিকেট ও হকি দলে অন্তর্ভূক্ত হয়েছিলাম এবং যথেষ্ট চাপের মধ্যে থাকার কারনে জীবনের সত্যিকারের কষ্ট অনুভব করেছিলাম। এক রাত্রে আমি নিজে নিজেই ভাবছিলাম, “জন্টি তুমি আর কোথাও যাচ্ছ না।” “আমি জানতাম আমার জীবনে প্রভুকে প্রয়োজন, তাই আমি নিয়মিত পিটার মার্টিবার্গের চার্চে যাওয়া শুরু করলাম। এক রাতে চার্চের পরে আমি পরিচর্যাকারী এ্যারোল জ্যাকোবিকে ধরলাম এবং তার কাছে এই ব্যাপারে সাহায্য চাইলাম। তিনি আমাকে সেই চার্চের পিছনের একটি ঘরে যেখানে পাপ স্বীকার করা হয়, সেখানে নিয়ে গেলেন। এটাই ছিল সঠিক সাহায্য, কারন এটা ছিল সেই জায়গা যেখানে আমি আমার হৃদয় খুলে কেদেছিলাম এবং প্রভুকে আমার হৃদয় সমর্পণ করেছিলাম।” জন্টি বুঝতে পারলেন যে, তার এই নতুন জন্মের অভিজ্ঞতার সমস্তটাই সম্ভব হয়েছে কেইট-এর সঙ্গে তার পরিচয় হবার ফলে, যে এখন তার স্ত্রী। “আমি এখন জানি কেন প্রভু আমাদেরকে একসঙ্গে রেখেছেন, কারন কেইট ছিল তেমনি একজন যে আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছিল।” প্রভুকে গ্রহন করবার পরে পূর্বের জীবনের সাথে বর্তমান জীবনের পার্থক্য সম্বন্ধে জানতে চাইলে, জন্টি বললেন, “প্রভুকে আমার হৃদয়ে গ্রহন করবার পর থেকে আমার মধ্যে দেবার প্রবনতা অনেক বেড়ে গেছে। আমি বুঝতে পেরেছি, এ সমস্ত গৌরবের অধিকারী আমি নই। আমার জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে এবং আমার খেলোয়াড়ি জীবন গঠনে যীশু আমাকে সাহায্য করেছেন।”

ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 15

স্যামসন চৌধুরী আর নেই

প্রকাশ করেছেন সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অনলাইন
12 জানুয়ারী 2012 বিষয়ঃ সংবাদ 0 টি মন্তব্য

বিশিষ্ট শিল্পপতি ও স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরী মারা গেছেন। সিঙ্গাপুরের র‌্যাফেলস হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত রোগে ৫ই জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, পাঁচ নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে স্যামসন এইচ চৌধুরী নিয়মিতভাবে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে উন্নততর চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে যান। মৃত্যুকালে তাঁর ছেলেরাসহ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন পাশে ছিলেন।
মৃত্যুর খবর পৌঁছালে মহাখালীতে স্কয়ার শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়সহ সব অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে স্যামসন এইচ চৌধুরী বাংলাদেশের শিল্প, কৃষি, সেবা, আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করেছেন। অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
১৯৫৮ সালে স্কয়ার ফার্মা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। এরপর তিনি একে একে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ওষুধ, পোশাক, গণমাধ্যম, সেবা খাতসহ বর্তমানে স্কয়ার শিল্পগোষ্ঠীর অধীনে ১৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার কর্মী কাজ করছেন।
শোক: দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের এই অগ্রপথিকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান গতকাল এক শোক বার্তায় বলেছেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য শিল্প বিকাশে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছেন।
স্যামসন এইচ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও ওষুধশিল্পের আধুনিকায়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়াও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আরও শোক প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রমুখ।
এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), বেক্সিমকো শিল্পগোষ্ঠী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবি) প্রভৃতি।
শোক প্রকাশ করে ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান বিবিসিকে বলেছেন, ‘বলতে গেলে কয়েক যুগ ধরে একসঙ্গে আমরা কাজ করেছি। তিনি অত্যন্ত নীতিনিষ্ঠ ও বিনয়ী ছিলেন।’
জীবনরেখা: স্যামসন এইচ চৌধুরী ১৯২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ই এইচ চৌধুরী ও মা লতিকা চৌধুরী। তাঁর স্ত্রীর নাম অনিতা চৌধুরী। বর্ণিল কর্মময় জীবনের অধিকারী স্যামসন চৌধুরী তিন ছেলের জনক। তাঁর ছেলে তপন চৌধুরী, অঞ্জন চৌধুরী ও স্বপন চৌধুরী ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
১৯৩০-৪০ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার বিষ্ণুপুর উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এখান থেকেই তিনি সিনিয়র কেমব্রিজ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন।
স্যামসন চৌধুরী মেট্রোপলিটন চেম্বার, ওষুধ শিল্প সমিতি এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের সভাপতিও ছিলেন। যুক্ত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সঙ্গে। ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান চেম্বার অব কমার্সের সদস্য।
কর্মময় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এর মধ্যে আছে: দ্য ডেইলি স্টার এবং ডিএইচএল প্রদত্ত বিজনেসম্যান অব দ্য ইয়ার (২০০০) এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচেম) বিজনেস এক্সিকিউটিভ অব দ্য ইয়ার (১৯৯৮)। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্যামসন চৌধুরী টিআইবির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি।
১৯৮৫ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ব্যাপ্টিস্ট ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্সের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির আজীবন সদস্য ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 49

আমি সেক্যুলার – প্রভু, তুমি কি আমার নও

প্রকাশ করেছেন প্রলয় সমদ্দার বাপ্পি
প্রলয় সমদ্দার বাপ্পি
প্রলয় সমদ্দার বাপ্পি তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
08 জানুয়ারী 2012 বিষয়ঃ প্রবন্ধ 0 টি মন্তব্য

সামাজিক ও মণ্ডলী-সেবার আগ্রহী হওয়ার পেছনের ঘটনাসমূহ বর্ণনার প্রথমেই প্রভুর পক্ষে কাজ করার জন্য আগ্রহী হওয়ার পথে-পথে দুঃখময় ও কঠিন ধাক্কা লাগার বিষয়ে সেক্যুলার মানুষের সঙ্গে সহভাগিতা করতে চাই – জানাতে চাই স্পিরিচুয়ালিটির ধারক, বাহক ও সোল এজেন্টদের।
প্রথম জীবনেই আমার ছোটমামাকে আমার আইডল ভাবতে শুরু করলাম। বাবার প্রথম জীবনে টাকা-পয়সার যোগান ছিল না। আমার বিধবা ঠাকুরমা কীভাবে যে আমার বাবা ও দুই পিসিমাকে মানুষ করেছেন – সেটি ভাবায় আমাকে। পরবর্তীতে শাশুড়ির ইন্টেনসিভ কেয়ারে বাবা প্রকৌশলি হন, যে কারণে আমার জন্ম ও শিশুকাল মামাবাড়িতে মামা-মাসিদের আদর ও ভালোবাসায় কেটেছে। সেই সময় আমার ছোটমামা ঢাকা শহরের তুখোর ছাত্রনেতা, বিখ্যাত তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের ও ঢাকার মহানগরের ছাত্রলীগের সভাপতি, যুদ্ধফেরত তরুণ মুক্তিযোদ্ধা – সঙ্গে সব সময় ২০/২২ জন অনুসারী, বন্ধু। খোলা জিপ, ২০০ সিসি’র মোটর সাইকেল। পাড়ায়, মহল্লায়, কলেজে ‘টিপু ভাই’। আমার মাথা যা বিগড়ে যাবার, বিগড়ে গেল। ঢাকা শহর কাঁপানো সব মামাদের আদরের ভাগ্নে (যাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে এমপি, মন্ত্রী)। পরবর্তীতে একজন খ্রীষ্টিয়ান হিসেবে অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে ওয়ার্ড থানার মতো কমিটিতে থেকে হলাম ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। পরবর্তীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা।
এবার বলি অন্য জীবনের কথা।
মণ্ডলী ও সংঘের সেবক বাবার হাত ধরে ছোটবেলায় প্রতি রবিবারে, বড়দিনে ও পুনরুত্থানের গীর্জায় যাবার অভ্যাসও কালক্রমে নেশায় পরিণত হয়। ধীরে-ধীরে জড়িয়ে পড়ি সান্ডেস্কুল, যুব সমিতিসহ মণ্ডলীর বিভিন্ন দায়িত্বে আর এ জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি যে আমাকে জোরেশোরে জড়িয়ে ধরবে তা বুঝি দীর্ঘদিন পরে।
আমি দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি - সান্ডেস্কুল, যুব সমিতি ও মণ্ডলীর সঙ্গে আমার এই জড়িয়ে-পড়ার বিষয়টি যদি না হতো, তবে আমার জীবন ভিন্নতর হতে পারত। হতে পারত পত্রিকার শিরোনাম, পোস্টারের ছবি বা অন্যান্য অনেক কিছু। বাবার মোটর সাইকেলে তিন ভাইয়ের সদরঘাট ব্যাপ্টিষ্ট চার্চে যাওয়ার নেশাটাই ছিল আমার জীবনে প্রভুকে সেবনের নেশা। কয়্যারের গান, বড়দিনের কীর্তন, নাটক ও ভোজের বাজার-সদাই – ডালপালা হয়ে জড়িয়ে ধরেছে মণ্ডলীর সঙ্গে আমাকে। নিজের জীবনের অঙ্গীকারের কথা আজ বলে ফেললাম – প্রভুর কাছে আমার নালিশটা তুলে ধরার জন্য।
মণ্ডলী ও সমাজের ভালোবাসায় আসক্ত আমি ধীরে-ধীরে মণ্ডলীর সেবার দায়িত্ব পেলাম। ‘নিলাম’ বললাম না এজন্য যে, দেশের সবচেয়ে বড় প্রোটেষ্ট্যান্ট চার্চের সম্পাদক হিসেবে মিরপুরের মানুষ আমার প্রতি যে ভালোবাসা দিয়েছে সকল বিষয়ে, তার জন্য আমার কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের শেষ নেই। এই দায়িত্ব পাওয়ার পরে দায়িত্ব পালনের ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছি, তার বিনিময়ে শুরু হলো প্রভুর আশীর্বাদ বর্ষণের পালা – সবকিছুই বদলে গেল। হঠাৎ মনে হলো, আমি অভিষেকের বরপুত্র। যেখানেই যাই শুধু আশীর্বাদ আর আশীর্বাদ। ক্রমে-ক্রমে ওয়াইএমসিএ, খ্রীষ্টান এসোসিয়েশন, ঢাকা ক্রেডিট, বহুমুখী, সংঘ-সম্মিলনী, জাতীয় চার্চ পরিষদ, সবশেষে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। প্রভুর জন্য অল্প সময়, ত্যাগ, দায়িত্ব পালন, কোনো-কোনো ক্ষেত্রে একটু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ, ব্যস – এর বিনিময়ে প্রভুর সীমাহীন আশীর্বাদ। শ্রদ্ধেয় স্যামসন এইচ. চৌধুরীর একটি বাক্য আমার জীবনে সত্যি হলো – ‘প্রভু কারো কাছে ঋণী থাকেন না।’ আর আমি বলি, প্রভুকে ঋণী করা যায় না। শুধুমাত্র সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণই নয়, আমার জীবনের শুরুতেই যে জাতীয় রাজনৈতিক আদর্শের পিছনে ছুটে বেড়িয়েছি, সেই ক্ষেত্রেও অযাচিত আশীর্বাদ ছিল, রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে যখন দেখা হয় বা কথা হয় – যখন বলেন, ‘কেমন আছিস’ – ভালোবাসায়-স্নেহে তুই/তুকার সম্বোধন, মণ্ডলীর নেতারা অনেকেই আনন্দিত হন, গর্বিত হন আমাকে নিয়ে – তখন মনে হয়, আর কী চাইবার আছে এই জাগতিক পৃথিবীতে?
যে বিষয়টি আজ যুবসমাজের কাছে তুলে না ধরলে হয়ত আমার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হবে – তা হচ্ছে মণ্ডলীর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা যদি সবকিছুর পরেও নিয়মিত না থাকত, তবে হয়ত ভয়াবহ হতো আমার জীবন। শুধুমাত্র এই একটি সম্পর্কই আমার জীবনকে প্রভুর জন্য ধরে রেখেছে। মণ্ডলীর সঙ্গে যুবকদের লেগে থাকাটাই আজকে পরিবর্তিত জীবনের পূর্বশর্ত।
যে বিষয়ের অবতারণায় আজকের এত ভ্যানভ্যানানি – বৈচিত্রময় জীবনে সুনাম-দুর্নামকে সঙ্গী করে যখনই প্রভুর কাজে জড়াতে চেয়েছি, ততবারই দুঃখের কয়লায় বারবিকিউ’র বিফের স্টেক বা মুরগির ঝলসানো রানের মতো পুড়ে-যাওয়া কালো রং ধরেছি। অনেকেই বলতে চেয়েছেন বা বলেছেন, তুমি কেন মণ্ডলীতে আসো? যুব সমিতির সভাপতি তুমি কেন হবে? তোমার গানের তালন্ত সেক্যুলার জগতে দাও, মণ্ডলীর কয়্যারে না এলেই ভালো হয়। মণ্ডলীর সম্পাদকের মতো ছোট দায়িত্ব তুমি কেন নেবে? তুমি এমপি, মন্ত্রী হবার সাধনা করো, মণ্ডলীর সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে রাজনীতিতে সময় দাও। সর্বশেষ  বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির নির্বাচনের সময় একজন স্পিরিচুয়াল নেতা বললেন, ‘তোমার বাইবেল সোসাইটিতে আসার দরকার নাই।’ তুমি সেক্যুলার – স্পিরিচুয়াল পৃথিবী আলাদা। তুমি সেক্যুলার, তুমি সেক্যুলার, তুমি সেক্যুলার – প্রতিধ্বনির মতো। চারদিকের ধর্মব্যবসায়ীদের সরব চিৎকারে অতিষ্ঠ হয়ে অভিধান নিয়ে বসলাম। সেক্যুলার শব্দের মানে কী – এটি কোন জঘন্য পাপ ও পাপীর কোনো Biblical Termology কি-না?  হাতড়ে-খুঁজে বের করলাম এর বাংলা শব্দার্থ। চরম আনন্দে ও উৎসাহে যে শব্দের অর্থ আবিষ্কার করলাম – তা আমাকে চমকে দিয়ে অনাবিল আনন্দ দিল। জানা হলো আমার এই বিশেষণের বা পরিচয়ের কারণেই তো প্রভু আমাকে খুঁজছেন বা ভালোবাসেন। তোমরা যারা স্পিরিচুয়াল নামধারী – তোমাদের প্রভু খোঁজেন কি? প্রভু তো মানুষ হিসেবে জন্ম না নিয়ে সেক্যুলার না হলেও পারতেন। জলে বাপ্তাইজিত হয়ে স্পিরিচুয়াল হওয়ার দরকার ছিল কেন? সেক্যুলার পৃথিবীর মানুষকেই প্রভুর প্রয়োজন। স্পিরিচুয়ালিটির ধারক-বাহকরা অনেকে আমাদের দেশের পুরাতন রাজনৈতিক দলের মতো। ধর্মীয় নেতারা ভাবেন, মূল স্পিরিচুয়াল লোকেরা থাকলেই হবে – নতুন লোকের আমাদের দরকার কী? আমরা আলাদা। নতুন স্পিরিচুয়ালদের দরকার কী? ওরা তো সেক্যুলার থাকলেই ভালো। পুরাতন নিয়মের মহাপবিত্র যাজকদের মতো বা পুঁজিবাদী নেতাদের শ্রেণিবৈষম্যের মতো। আমি সেক্যুলার, কিন্তু আমি মদ-গাঁজা খাই না। আমি সেক্যুলার, কিন্তু অনেক ধর্মীয় দলের নেতাদের খোলামেলা জীবন-ধারনের ফায়দা কুড়ানোর মতো অনাচারে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে অনাচারের অপবাদ নেই। আমি সেক্যুলার, কিন্তু ধর্মব্যবসার টাকায় আমার জীবন চলে না। আমি সেক্যুলার, আমার প্রভুকে আমি ডলার কামানোর জন্য হাটে উঠাই না। আমি সেক্যুলার। আমি তাদের খুঁজি, যারা আমাকে স্পিরিচুয়াল করার শপথ নিয়ে প্রভুতে প্রতিজ্ঞা করেছেন। আপনারা কোথায়? আপনারা আমাকে খোঁজেন কি? প্রভু আমাকে পরিবর্তনের কাজে আপনাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, যাতে আমি প্রভুতে স্পিরিচুয়াল হই। কিন্তু আপনাদের উৎপাতে প্রভুর কাছে ফিরে আসার বদলে ছুটে পালাতে হয়। একবার ভেবে দেখুন, আমি সেক্যুলার বলে আমার আছে শুধুই ভবিষ্যৎ - সে ভবিষ্যৎ স্পিরিচুয়াল হওয়ার সম্ভাবনা, কিন্তু আপনাদের আছে শুধুই অতীত – ভবিষ্যৎ নেই।
প্রভু, আমি সেক্যুলার, কিন্তু তোমাকে ভালোবাসি। প্রভু, আমি সেক্যুলার, তোমার জন্য কাজ করতে চাই। প্রভু, আমি সেক্যুলার, তোমার বাক্যের ও মণ্ডলীর সেবক হতে চাই। প্রভু, আমি সেক্যুলার, এই বিশেষণের বিশ্লেষণে যেন তোমার জন্য আমার কাজের ও ভালোবাসার ঘাটতি খুঁজে না বেড়াই। কারণ তুমি নিজেই আমার মতো সেক্যুলার মানুষের জন্য মৃত্যু যাতনায় আমাকে মুক্তির শপথ নিয়েছ।

ট্যাগঃ আত্ম-স্বাক্ষ্য
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 83

ডঃ এন্ড্রু বাড়ৈ-এর জন্য প্রার্থনা করুন

প্রকাশ করেছেন রোজলেন্ট চৌধুরী
রোজলেন্ট চৌধুরী
wish i can cooking like my mother......
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
06 জানুয়ারী 2012 বিষয়ঃ সংবাদ 2 টি মন্তব্য

গত ২৬শে ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রাঙামাটি যাবার পথে ডঃ এন্ড্রু বাড়ৈ রোড দুর্ঘটনায় আহত হন। সিএনজি অটো রিকশার সাথে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তিনি চরম ভাবে আহত হন এবং তার শরীরের প্রায় ১৮টি হাড় ভেঙ্গে যায়। ২৮শে ডিসেম্বর তাকে ট্রমা সেন্টার আর্থপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এখন তিনি ৪০৭ নাম্বার কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। তার হাতে এবং লাঞ্চে দুইটি সার্জারী  করা হয়েছে তবে তার হাতের রক্তক্ষরন এখনো বন্ধ হয় নি। তার ছেলে গাব্রিয়েল বাড়ৈ (ডালিম) জানান তার বাবা এখন একটু ভালোর দিকে এবং তার শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ডাক্তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন। ডঃ এন্ড্রু বাড়ৈ-এর পরিবার তার জন্য সবার কাছে প্রার্থনা চেয়েছেন।

ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 97

ডেড সি স্ক্রল

প্রকাশ করেছেন সবুজ চৌধুরী
সবুজ চৌধুরী
বিশ্বাসে জীবন যাপন করা কি খুব কঠিন? আমিও একবার চেষ্টা করে দেখতে চাই। বন্ধুরা, আম
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
29 ডিসেম্বর 2011 বিষয়ঃ প্রবন্ধ 0 টি মন্তব্য

ডেড সি স্ক্রলের কথা এখন অনেকেরই জানা। ১৯৪৭ এবং ১৯৫৬ সালে পাওয়া এই মূল্যবান বাইবেলীয় তথ্যাদি এক সময় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক ডেড সি স্ক্রল নিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরী করা হয়েছে, প্রাপ্ত স্ক্রলগুলোর মধ্যে পাঁচটি স্ক্রলের ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য ইতিমধ্যেই এই ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছে। প্রকাশিত স্ক্রলগুলো হচ্ছে দা গ্রেট ঈসাইয়া স্ক্রল, টেম্পল স্ক্রল, ওয়ার স্ক্রল, কমিউনিটি রুল স্ক্রল এবং কমেন্টরি অন দা হবক্কূক স্ক্রল। গুগোলের অর্থায়নে এই ওয়েবসাইটটি পরচালিত হচ্ছে। জানা গেছে, ডেড সি স্ক্রলের যাবতীয় তথ্যাদি এবং গবেষনার ফলাফল এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।

ট্যাগঃ ওয়েবসাইট, ওয়েবসাইট রিভিউ, রিভিউ
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 66

বড়দিন উৎসব ২০১১

প্রকাশ করেছেন রোজলেন্ট চৌধুরী
রোজলেন্ট চৌধুরী
wish i can cooking like my mother......
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
28 ডিসেম্বর 2011 বিষয়ঃ সংবাদ 1 টি মন্তব্য

প্রতি বছরের মত ১৯শে ডিসেম্বর ২০১১, অন্ধ স্কুলে হয়ে গেলো বড়দিন উপলক্ষে ঢাকার সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারা মিরপুরবাসীসহ ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজনের বিপুল সমারোহ ছিল এই অনুষ্ঠানে। অত্যন্ত আনন্দের সহিত উদ্যাপন হলো এই বছরের বড়দিনের আনন্দ। গান, ডিজেপার্টি, বাচ্চাদের নাচ, গানে মুখরিত ছিল সারা মিরপুর। উইলিয়াম গল্প সমাদ্দার ও জেনিথ সমাদ্দার কথার গানের স্রোতের সাথে ভেসে যাচ্ছিল জনতা। বাচ্চাদের আনন্দ ছিল দেখার মত। বাচ্চাদের মায়েরা ক্রাইষ্টবিডিকে জানায় তাদের বাচ্চারা এই অনুষ্ঠান না করে বড়দিনের ছুটিতে গ্রামে যেতেই চায় না। বাচ্চাদের নিয়ে এত বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো বছরে এক্ বারই হয় মিরপুরে। তাই বাচ্চারাও এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চায় না। আর মায়েরা তো সারাদিন বাচ্চাদের সাজসজ্জা নিয়ে ব্যস্ত। অনুষ্ঠানে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গন্যমান্য রাজনীতিবিদদের আগমন বাংলাদেশের খ্রীষ্টিয় সমাজের প্রতি ভ্রাতৃত্বপ্রেম প্রকাশ করেছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ও উপস্থাপনায় ছিল উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার।

ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 90

কাল্ট

প্রকাশ করেছেন রিচার্ড হালদার
রিচার্ড হালদার
রিচার্ড হালদার তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
14 ডিসেম্বর 2011 বিষয়ঃ প্রবন্ধ 0 টি মন্তব্য

বর্তমান সময়ে এই শব্দটি আমরা প্রায়শই শুনে থাকি। একজন ভাল খ্রীষ্টিয়ান বিশ্বাসী হিসাবে আমাদের এটি সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন। বাইবেল বলে শেষ সময়ে অনেক ভন্ড লোকেরা এসে অনেককে ঠকাবে (মথি ২৪)। এজন্য আমাদের এই সময় সতর্কতার সহিত জীবন যাপন করা উচিত। তবে কোন ডিনোমিনেশনস্ সঠিক এবং কোনটি কাল্ট এটি মূল্যায়ন করা একদিকে সহজ আবার কখনও কখনও কঠিন। কারণ এই কাল্ট দলগুলি বাইবেলের পদ ব্যবহার করেই এমনভাবে শিক্ষা দেয় যাতে করে উপর দিক দিয়ে মনে হয় তারা বাইবেল সম্মত কথাই বলছেন। কিন্তু কেউ বাইবেলের পদ ব্যবহার করলেই তিনি যা বলছেন তা যে বাইবেল সম্মত তা নাও হতে পারে। শয়তানও বাইবেল জানে এবং যীশু খ্রীষ্টের পরীক্ষার সময় বাইবেলের পদ ব্যবহার করেছিলেন যা ছিল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বাইবেলের ভুল প্রয়োগ। যীশু খ্রীষ্ট তিনি বাক্য জানতেন বলেই শয়তানের চালাকি বুঝতে পেরেছিলেন এবং প্রতিরোধ করতে পেরেছিলেন। বাইবেলের সাথে গভীর সম্পর্কই আমাদেরকে এই সব প্রতারণা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।

কাল্ট না ভাল ডিনোমিনেশন কিভাবে বুঝব?
সাধারণত খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়গুলির বা ডিনোমিনেশনগুলির মধ্যে মূল খ্রীষ্টিয় মতবাদের কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। কোন কোন ডিনোমিনেশন কোন কোন মতবাদকে প্রাধান্য দেয় আবার কোন কোন ডিনোমিনেশনস্ সেগুলিকে প্রাধাণ্য দেয় না। কিন্তু কিছু কিছু মূল মতবাদ সবগুলি ডিনোমিনেশনস্ এর মতবাদেই পাওয়া যাবে। এবং বর্তমান বিশ্বের বেশীরভাগ বড় বড় ডিনোমিনেশনস্ বা সম্প্রদায় এর সাথে একমত হবেন। যেমন নিম্নের প্রধান প্রধান মতবাদগুলি সবধরনের বড় বড় ডিনোমিনেশনস্ এর মতবাদে পাওয়া যাবে:

(যীশুখ্রীষ্ট, ত্রিত্ব ঈশ্বর, যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু, পরিত্রাণ, স্বর্গারোহন ও পুনরাগমন)

খ্রীষ্টিয়ান ধর্মের প্রধান প্রধান ধর্মবিশ্বাস: ( ডিনোমিনেশনস্ ভেদে কথার ভিন্নতা থাকতে পারে)
১. যীশু খ্রীষ্টকে ঈশ্বর ও প্রভু বলে স্বীকার করা, এবং তাঁর রক্তের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা অর্থাৎ পরিত্রাণ পাওয়া যায় তাতে বিশ্বাস।
২. পিতা পুত্র ও পবিত্র আত্মার উপর বিশ্বাস, অর্থাৎ ত্রিত্ব ঈশ্বরে বিশ্বাস।
৩. যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু, পূনুরত্থান ও পুনরাগমন স্বীকার ও বিশ্বাস।

(কি কাথলিক বা প্রটেষ্ট্যান্ট যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টিয়ান বলে দাবি করেন তাদের সকলেরই এই মতবাদগুলি রয়েছে।)

এছাড়া প্রত্যেক ডিনোমিনেশনস্ এরই নিজস্ব আরও মতবাদ রয়েছে। কিন্তু উপরোক্ত মতবাদগুলি সমস্ত বড় খ্রীষ্টিয়ান ডিনোমিনেশনস্ গুলিই মেনে নেয় ও বিশ্বাস করে।

কাল্ট প্রধানত কয়েক প্রকার:
•    ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাল্ট: নিজেদেরকে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অথীন বলে আখ্যায়িত করে কিন্তু প্রধান ধর্মীয় মতবাদগুলি মেনে নেয়না, ভুল ব্যাখ্যা দেয় বা বিকৃত করে।
•    কোন বিশেষ নীতিমালার কাল্ট: নিজেদেরকে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোক বলে না কিন্তু কিছু কিছু নীতিমালা অনুসরণ করে জীবন যাপন করে যা বাইবেলীয় নয়।
•    কোন বিশেষ ব্যক্তি বা ব্যক্তির মতবাদ কেন্দ্রিক কাল্ট: কোন মানুষকে ঈশ্বরের সমতূল্য দিয়ে আরাধনা করে।
•    যাদুবিদ্যা, মন্ত্রতন্ত্র, ব্রেইন ওয়াশ

কোন কোন কাল্ট দল রয়েছেন যারা নিজেদেরকে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোক বলেন কিন্তু তারা এই প্রধান মতবাদগুলিকে মেনে নেন না বা বিকৃত করেন এবং সেজন্য তাদের মতবাদগুলি এতটাই ভিন্ন যে এদেরকে আর সেই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোক বলে মেনে নেওয়া যায় না।

যেমন কিছু কিছু  ধর্মীয় কাল্ট দলের বিশ্বাস হচ্ছে:

১. যীশু খ্রীষ্ট তিনি সৃষ্টি হয়েছেন বা ঈশ্বর নন বা তিনি একজন বিশেষ স্বর্গদূত বা তিনি মারা যাননি, তিনি প্রভু নন ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশীরভাগ কাল্ট দলগুলিরই যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কিত মতবাদে বিভ্রান্তি রয়েছে। কোন কোন কাল্ট গ্রুপের নেতাদের মধ্যে অনেকে আবার ইতিমধ্যে নিজেকে যীশু খ্রীষ্ট বলে দাবি করছেন যাদের অনেকে ইতিমধ্যে মারা গেছেন। (বর্তমানে বিভিন্ন দেশে অনেকে রয়েছেন যারা দাবি করেন তারাই যীশু খ্রীষ্ট)

২. ত্র্বিত্ব ঈশ্বরে অবিশ্বাস। কেউ কেউ বলেন পিতা ঈশ্বর কিন্তু পুত্র ঈশ্বর নন। কেউ বলেন পুত্রই একমাত্র ঈশ্বর আর কোন ঈশ্বর নেই বা পিতা ও পবিত্র আত্মা পুত্র ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপ। কেউ বলেন পবিত্র আত্মা হচ্ছেন ঈশ্বরের আত্মা কিন্তু ঈশ্বর নন। এর কোনটিই সঠিক নয়।

এছাড়া আর যে যে ভাবে আমরা কাল্ট দলগুলি চিহ্নিত করতে পারব তা হচ্ছে:
১. সেই সম্প্রদায়ের নেতা বা লোকেরা নিজেদেরকে অতিমানব মনে করেন বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করেন।
২. পৃথিবীর সবকিছুকে ভুল বা খারাপ হিসাবে চিহ্নিত করা এবং সেজন্য পৃথিবীর সমস্ত সুযোগ সুবিধা না নেওয়া বা যত্ন না নেওয়া বা পৃথিবীর সম্পদ কিছুকে শয়তানের বলে আখ্যা দেওয়া যা বাইবেলের শিক্ষার বিপরীত।
৩. শুধুমাত্র দলীয় নেতা এমন কিছু জানেন যা অন্য কোন মানুষ পৃথিবীর জানেনা। অথাৎ সেই সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা সবার চেয়ে আলাদা ও ক্ষমতাপূর্ণ।
৪. বিবাহের বাইরে যৌন সম্পর্ককে উৎসাহিত করা বা দলীয় নেতার সহিত বা দলের সদস্যদেরএক অন্যের সাথে অবাধ যৌন সম্পর্ককে উৎসাহিত করা।
৫. যে কোন রকম মূর্ত্তিপূজাকে (কোন মূর্ত্তিকে সরাসরি ঈশ্বর বলে মনে করে) উৎসাহিত করা বা দলের প্রধানকে ঈশ্বরের সমতূল্য হিসাবে পূজা করা।

আমাদের করণীয়:

  • আপনি যাদি এরূপ কোন দলের সাথে যুক্ত থাকেন তবে এখনই কোন ভাল বিশ্বাসী দলের সাথে যুক্ত হোন অথবা ভাল কোন মন্ডলীর সাথে সহভাগিতা দেওয়া শুরু করুন।
  • ঈশ্বরের বাক্য অর্থাৎ বাইবেলের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলুন। নিজে বাইবেল পড়ুন ও অধ্যয়ন করুন এবং যদি আপনার ব্যক্তিগত বাইবেলের ভিত্তি দুর্বল হয় তবে অতি স্বত্তর কোন ভাল বাইবেল অধ্যায়ন দলের সাথে বা কোন প্রতিষ্ঠীত মন্ডলীর বাইবেল অধ্যয়ন দলের সাথে যক্ত হোন।
  • কেউ কোন নতুন মতবাদ দিলে সংগে সংগে বাইবেলের বিভিন্ন অংশের সাথে তার সমঞ্জস্যতা পরীক্ষা করুন। আপনি নিজে না পাড়লে কয়েকজন প্রতিষ্ঠীত পালকের সাহায্য নিন।
  • কোন কাল্ট গুপের ব্যাপারে আপনি জানলে আপনার পরিবার পরিজন ও বন্ধুদের সতর্ক করুন।
  • ঈশ্বরের সাথে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রার্থনা, বাইবেল অধ্যয়ন, নীরবধ্যান, ভাল সহভাগিতার মাধ্যমে বৃদ্ধি করুন। আপনি অজ্ঞ এবং একা থাকলে ভুল করার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

প্রস্তুতকারী:
রিচার্ড হালদার

আরও জানতে বা এ সম্পর্কে যোগাযোগ করতে পারেন:
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।

তথ্য সূত্র:
http://newapologia.com/what-cult/

ট্যাগঃ কাল্ট, ডিনোমিনেশন, বাইবেল, বিশ্বাস
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 66

সমুদয় জগতের আনন্দ

প্রকাশ করেছেন রেভা: বনি বাড়ই
রেভা: বনি বাড়ই
রেভা: বনি বাড়ই তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
12 ডিসেম্বর 2011 বিষয়ঃ প্রবন্ধ 0 টি মন্তব্য

মাত্র কয়েকদিন পূর্বে আমি ঢাকার কাকলী সিগন্যাল থেকে গুলশান রোডে রাস্তার মোড়ে রিক্সা ভাড়া দিতে গিয়ে এক বিড়ম্বনায় পড়লাম। ভাংতি টাকা নেই, রিক্সাওয়ালাকে তার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা দিয়ে বিদায় করলাম। দেখলাম রিক্সাচালক ভীষন আনন্দিত, ভাবলাম এটি আমার কৃতিত্ব কিন্তু কিছু সময় পরে সিএনজিতে বসে মনে হলো এ আমার অনিচ্ছাকৃত আনন্দ দান। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এরকম অনেক কিছুই ঘটে যা মনের অজান্তে অন্যকে আনন্দ দেয় বা কোন কোন সময় প্রচুর দুঃখও দেয় বটে।  এখন একটা প্রশ্ন করা যাক তাহলে জগতের এই রকম বাস্তবতায় পরিপূর্ণ আনন্দ (Real Joy) লাভ সম্ভব কিভাবে? আমি একটু পিছনে ফিরে যেতে চাই ১৯৮৮ এর বন্যা, দক্ষিণ অঞ্চল প্লাবিত মানুষের দারুণ কষ্ট, আমি ও আমার পরিবারও সেদিন দারুণভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। মনে পড়ছে সেদিন আনন্দের বদলে শুধু দুঃখই যেন ছিল আমাদের সম্বল। কিন্তু কিছু দিন পরে আস্তে আস্তে ঘন দুঃখ সরে গিয়ে ঝলকানি হাসি দিয়ে সোনালী রোদের মত ফিরে এসেছিল ‘‘প্রভু যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন’’। নূতন পোষাক ছিল না, ছিল না ভাল খাবার কিন্তু সকালের উপাসনায় পবিত্র বাইবেলের অমৃত বাণী ‘‘আমি তোমা দিগকে মহানন্দের সুসমাচার জানাইতেছি; সেই আনন্দ সমুদয় লোকেরই হইবে’’ লূক ২:১০। মন থেকে সব দুঃখ সরে গেল এক অপূর্ব অনুভুতি। কি মহানন্দ! আজ অনেকদিন পরে সেই স্মৃতি স্মরণ করে সকলের কাছে তাই বলতে চাই অশান্ত, অন্ধকারময়, দুঃখ কবলিত জগৎবাসী আজ আপনাদের জন্য এক মহানন্দের দিন প্রভু যীশুর আগমন বারতা (Joy for all)। প্রশ্ন আসতে পারে চারিদিকে এত হানাহানি, দলাদলী, ঘৃণা, হিংসা আর এর মাঝে আনন্দ পাব কোথায়? আনন্দ কি সম্ভব? এই প্রশ্ন আমারও ছিল  কিন্তু পবিত্র বাইবেল আমার সে প্রশ্নের উত্তর এইভাবে দিয়েছে ‘‘কেননা ঈশ্বরের কোন বাক্য শক্তিহীন হইবে না? লূক ১:৩৭ পদ। সুতরাং ভয়ের বা আশংকার কোন কারণ নেই প্রভু যীশু খ্রীষ্ট আপনাকে এবং আমাকে তার করুণার ভান্ডার থেকে অপরিমেয় আশির্বাদ ঢেলে দেবেন যেভাবে শিমিয়োন যিরুশালেমের ধর্মধামে ঈশ্বরের ধন্যবাদ করে বলেছিলেন ‘‘হে স্বামিন্, এখন তুমি তোমার বাক্যানুসারে তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় করিতেছ, কেননা আমার নয়নযুগল তোমার পরিত্রাণ দেখিতে পাইল, যাহা তুমি সকল জাতির সম্মুখে প্রস্ত্তত করিয়াছ। পরজাতিগণের প্রতি প্রকাশিত হইবার জ্যোতি ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের গৌরব’’ লুক ২:২৯-৩২। তবে আনন্দ পেতে হলে কিছু করণীয় রয়েছে। যিনি এই আনন্দ বারতার ধারক ও বাহক সেই মহান প্রভু যীশু খ্রীষ্ট নিজের জীবন দ্বারা আনন্দ দানের ও প্রাপ্তির সূচনা করেছেন। তিনি বলেছেন আমাকে অভিষেক করা হয়েছে ‘‘দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার প্রচার করিবার জন্য। বন্দিগণের কাছে মুক্তি প্রচার করিবার জন্য, অন্ধদের কাছে চক্ষু দান প্রচার করিবার জন্য, উপদ্রুতদিগকে নিস্তার করিয়া বিদায় করিবার জন্য এবং প্রভুর দয়ার কথা ঘোষনা করার জন্য’’ লূক ৪:১৮। আমার ব্যক্তি জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব শিক্ষার আলোকে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যদি আমি এবং আপনি-
১. দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার প্রচার করি
২. বন্দিগণের কাছে মুক্তি প্রচার করি
৩. অন্ধদের কাছে চক্ষু দান প্রচার করি
৪. উপদ্রুতদিগকে নিস্তার করিয়া বিদায় করি এবং
৫. প্রভুর দয়ার কথা ঘোষনা করি
তবে এই জগৎ আনন্দময় হবে। স্বর্গদূত যে ঘোষনা করেছিল ‘‘আমি তোমা দিগকে মহানন্দের সুসমাচার জানাইতেছি; সেই আনন্দ সমুদয় লোকেরই হইবে’’ তা পূর্ণ হবে। কারণ প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সমুদয় জগতের আনন্দ।

সমুদয় জগতের আনন্দ
ট্যাগঃ বড়দিন
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 63

বাইবেল সোসাইটির ইতিহাস

প্রকাশ করেছেন তীমথি ভক্ত সুমন
তীমথি ভক্ত সুমন
তীমথি ভক্ত সুমন তার সম্পর্কে এখনও কিছু লেখেনি
ব্যবহারকারী বর্তমানে অফলাইন
07 ডিসেম্বর 2011 বিষয়ঃ সংবাদ 0 টি মন্তব্য

ছোটরাও বড় কাজ করে

ছোটরাও বড় কাজ করতে পারে। তেমনই একটি সত্য গল্প বলছি। ১৭৯৪ খ্রীষ্টাব্দে যুক্ত রাজ্যের ওয়েলস্-এর এক ছোট গ্রামে যাকোব ও মলি জোনস্ নামে একটি গরীব পরিবার বাস করত। তাদের ১০ বৎসরের একটি ছোট মেয়ে ছিল মেরী নামে। স্কুলের শিক্ষক মিঃ জন এলীস একদিন তাকে বললেন যে তাকে পরদিন ক্লাশ শুরুর পূর্বে বাইবেল পাঠ করতে হবে। সে তো মহা খুশী, কিন্তু সমস্যা হল তার নিজের কোন বাইবেল না থাকায়। তাকে ধার করে সে সমস্যা মিটাতে হল। অন্যের বাইবেল ব্যবহার করা তার মোটেই ভাল লাগে নি। মেরী ভাবতে লাগল কিভাবে নিজের মাতৃভাষায় একটি ওয়েলস্ বাইবেল পেতে পারে। মেরীর সময়ে বাইবেল এখনকার মত এত সহজে পাওয়া যেত না। আর পাওয়া গেলেও দাম ছিল খুব বেশী। মেরী বাবাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো তাদের বাড়ী থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে বালা শহরে মিঃ চার্লস আছেন যার কাছে বাইবেল আছে। সে প্রচুর পরিশ্রম করতে লাগল। মুরগী চাষ, সেলাই, ফসল কুড়ানো, টিফিনের পয়সা বাচানো সহ অনেক কাজেই সে করতে থাকল।একদিন সে বুঝল যে তার একটা বাইবেল কেনার মত যথেষ্ট অর্থ হয়েছ। ইতিমধ্যে ৫টি বৎসর তার কেটে গেছে।

অনেক আশা নিয়ে যাত্রাঃ

বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে নিজেই পাহাড়ী পথ হেটে বালা শহরে মিঃ চার্লস এর নিকট গিয়ে তার আসার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বলল। মিঃ চার্লস যা বললেন তা সত্যিই দুঃখজনক। তিনি বললেন, “মেরী আমি দুঃখিত, আমার সব ওয়েলস্ ভাষার বাইবেল শেষ হয়ে গেছে।” মেরী ভীষণ দুঃখ পেল, কেঁদে ফেলল। বলল, “এত পরিশ্রম করেছি, অর্থ সঞ্চয় করেছি, এতটা পথ হেটে এসেছি শুধুমাত্র একটাই কারণ যে আমি একটা বাইবেল পাবো, যেটা শুধু আমার হবে।” তার কান্না ও একটা বাইবেল পাওয়ার প্রচন্ড আকাঙ্খা দেখে পালক বললেন, “মেরী তুমি কেঁদ না। আমি ব্যবস্থা করছি। আমার এক বন্ধুর জন্য আমার একটা বাইবেল রাখা ছিল ওটাই আমি তোমাকে দিচ্ছি, আমার সেই বন্ধুর জন্য পরে আমি এনে দেব। আমি না হয় তাকে একটা ইংরেজী বাইবেল দেব। তিনি তো ইংরেজী ভাষাও বুঝেন।” যা হোক বাইবেলটা পেয়ে মেরীর যে কি খুশী! তার পরের দিন বাড়ী ফিরতে তার কোন কষ্টই হয় নাই। আনন্দের কারণে কখন যে পথ শেষ হয়ে গেছে এবং বাড়ী পৌঁছে গেছে, সে ভাবতেই পারে নি।

বড় কাজের শুরুঃ

এখানেই গল্পের শেষ নয়। মেরীর একটা ওয়েলস্ বাইবেল পাওয়ার প্রচন্ড আকাঙ্খার দৃশ্য দেখে মিঃ চার্লসের মনে গভীর দাগ কেটেছিল। তিনি ভাবতে লাগলেন, সারা দেশে ও সারা পৃথিবীতে মেরীর মতো কত লোকই তো আছে যাদের বাইবেল প্রয়োজন।
তিনি শিঘ্রই লন্ডনে গিয়ে “রিলিজিয়াস ট্রাষ্ট সোসাইটির” একদল বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং ১৮০৪ খ্রীষ্টাব্দে বৃটিশ এন্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটি গঠন করেন। এভাবে মানুষের প্রয়োজনে প্রচুর বাইবেল ছাপার উদ্যোগ নেন। এর পর থেকেই ব্যাপক বাইবেল ছাপার কাজ আরম্ভ হয়। এই কাজে অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে অন্যান্য দেশেও বাইবেল সোসাইটি গঠন করতে লাগলেন। ১৯৪৬ খ্রীষ্টাব্দে ১৫টি দেশের বাইবেল সোসাইটি একত্রিত হয়ে “ইউনাইটেড বাইবেল সোসাইটি” গঠন করে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ১৩৫টি দেশে বাইবেল ছাপা হয়। বৎসরে প্রায় আড়াই কোটি বাইবেল এবং বাইবেল বিষয়ক অন্যান্য পুস্তক, পুস্তিকাসহ প্রায় ৫০কোটি বিতরণ হয়। প্রতি বৎসরই এই বিতরণের চাহিদা বাড়ছে। ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বৃটিশ এন্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটি আমাদের দেশে বাইবেল পাঠাতো। এখনো টাকা-পয়সা দিয়ে অনেক দেশকে এবং বাঙলাদেশকে সাহায্য করে থাকে।
মেরী কি ভীষণ বড় কাজটাই না শুরু করেছিল! যতদিন যাচ্ছে ততই বাইবেল সোসাইটির কাজ বাড়ছে। তাইতো বলছি ছোটরাও বড় কাজ করে।

আপনিও বড় কাজ করতে পারেনঃ

এভাবেই একটি বড় কাজ শুরু হল। আপনিও নিশ্চয় কিছু একটা করতে পারেন। মনে রাখুন বড় কাজ ছোট কিছু দিয়েই শুরু হয়।
পবিত্র বাইবেলেও একটা ছোট গল্প লেখা আছে (যোহন ৬:১-১৩) সে যীশুর একটি বড় কাজে অর্থাৎ ৫,০০০ লোককে খাওয়ানোর ব্যাপারে তার নিজের রুটি ও মাছ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, যা যীশুর একটি স্মরণীয় আশ্চর্য্য কাজ ছিল। ঈশ্বর মেরীকেও ব্যবহার করেছিলেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচাতে, ঈশ্বরের জীবনদায়ী বাক্যের যোগান দিতে। তিনি আপনাকেও ব্যবহার করতে পারেন। আপনিও এই মহান দায়েত্ব পালনে অংশীদার হতে এবং ঈশ্বরের বাক্যের পরিচর্যায় আমাদের দেশের হাজার হাজার মানুষের জন্য ঈশ্বরের জীবনদায়ী বাক্যের যোগানদানে সাহায্য করতে পারেন। একটি ছোট বই মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে।
আপনার ছোট দান, প্রতিদিনের প্রার্থনা এই মহান কাজে অনেক সাহায্য ও উৎসাহ যোগাবে।

এ বিষয়ে জানার জন্য নিম্ন ঠিকানায় যোগাযোগ করুনঃ

... ট্যাগঃ ট্যাগ নেই
বিস্তারিত
দেখা হয়েছেঃ 115